বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

অনিয়মিত পিরিয়ড নারীদের জন্য কতটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি

পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব হচ্ছে ঋতুচক্রের একটি অংশ, যা শুধুমাত্র নারীদের হয় এবং এটি সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। বয়সন্ধিকাল শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত পিরিয়ড শুরু হয়ে যায়। সাধারণত স্বাভাবিক শরীরে ২৮ দিন পর পর পিরিয়ড হয়।

পিরিয়ড মুলত হরমোনাল পরিবর্তনের কারনে হয়ে থাকে। ডিম্বাশয় থেকে দুইটি নিঃসৃত হয় একটি হচ্ছে ইস্ট্রোজেন এবং অন্যটি হচ্ছে প্রজেস্টোরন। এ হরমোন গুলোর প্রভাবে প্রত্যেক মাসে জরায়ুতে একটি আস্তরন তৈরি হয় এবং প্রস্তুত হয় একটি নিষিক্ত ডিম্বাণুর সাথে সংযুক্ত হতে । নারীদেহে প্রতি মাসে একটিই ডিম্বাণু তৈরি হয়। এই ডিম্বাণুটি শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হলে তবেই নারী গর্ভবতী হয় এবং এক পর্যায়ে জরায়ুর আস্তরনের সাথে যুক্ত হয় । আর নিষিক্ত না হলে এই ডিম্বাণু এবং জরায়ুতে সেই আস্তরনটি ভেঙে রক্তপাত হয় এবং এই রক্তের মাধ্যমেই বের হয়ে আসে।এই আস্তরনটি ভাঙার কারনেই পিরিয়ডে বেশিরভাগ নারীদের তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা হয়। তলপেট ছাড়াও পায়ে ও ব্যথা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর হতে পারে।এই প্রক্রিয়াতেই প্রত্যেক মাসে পিরিয়ড হয়। সাধারণত এই আস্তরন টি তৈরি হতে প্রায় ১ মাসের মতো লাগে তাই নারীদের একমাসে একবার পিরিয়ড হয়।

সাধারণত ৪০-৪৫ বছর বয়স হওয়ার পর পিরিয়ড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এ অবস্থাকে মেনোপজ বলে। আর প্রথম প্রথম পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় ১-২ মাস তার বেশি পিরিয়ড হয়না যেটা স্বাভাবিক। তবে এর পর থেকে প্রত্যেক মাসে পিরিয়ড শুরু হয় এবং চলতেই থাকে মেনোপজ না হওয়ার পর্যন্ত। শুধুমাত্র গর্ভবতী হলে সাময়িক সময়কাল পিরিয়ড বন্ধ থাকে। কিন্তু এছাড়া মেনোপজ আসার আগেই পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে বা অনিয়মিত হলে এটা কখনোই স্বাভাবিক না এটা লক্ষ্মণ যে নারীদেহে প্রজনন ক্রিয়া বা যেকোনো শারীরিক কোনো সমস্যা হচ্ছে।

নিয়মিত পিরিয়ড না হলে ধরেই নিতে হবে যে শরীরে হরমোনাল ব্যালান্স ঠিক নেই এর ফলে অনেক সমস্যা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পিরিয়ড বন্ধ হওয়া অনিয়মিত হওয়ার কারন থাকে পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)। এ রোগে মুলত হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার কারনে ডিম্বাশয়ের অভ্যন্তরে সিস্ট হয়। এর ফলে পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া, ত্বকে ব্রন হওয়া, ওজন বৃদ্ধি, এন্ড্রোজেন হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি পায় ফলে লোম গজায় বেশি এছাড়াও এক্সট্রিম পর্যায়ে বন্ধ্যাত্ব ও দেখা যায়। তাই, পিরিয়ড অনিয়মিত হলেই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া অনেক বেশি জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *