বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

অপরিচিতা গল্পে হরিশ কোথায় কাজ করতো?

‘অপরিচিতা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের পথ তুলে ধরেছেন। যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক গল্প লিখেছেন। তার লেখা বিভিন্ন গল্পে যৌতুকের নির্মমতা নানা ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মতো একজন শিক্ষিত অথচ ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের কাপুরুষচিত আচরণ, লোভী মামার অশোভনীয় আচরণ এ গল্পে উনিশ ও বিশ শতকের বাঙালি সমাজকেই প্রতিফলিত করেছে।

উদ্দীপকে তাৎপর্য হলো আমাদের বর্তমান সমাজ। আমাদের বর্তমান সমাজে বিশেষ করে যদি প্রথাসিদ্ধ কথা বলা হয়েছে যে প্রথা আমাদের সমাজের নারী শিক্ষা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং সেইসাথে অপরিচিতার মতো গল্পের মাধ্যমে আমাদের সমাজের নানা চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উপযুক্ত আমরা দেখতে পাই যে কল্যাণী পাবলিক একজন সংগ্রামী নারী বিশেষ করে তাদের বিবাহ যৌতুকের জন্য বন্ধ হয়ে যায় পরবর্তীতে তাকে পরিত্যাগ করে বিবাহ থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যক্তির জীবন গড়ে তোলে এবং আমাদের সমাজকে নতুন ভাবে চিনতে সাহায্য করে।
অপরিচিতা গল্পের নায়িকা কল্যাণীর বন্ধু হরিশ।

হরিশ কানপুরে বাস করত। হরিশই কল্যাণীর জন্য সসম্বন্ধ নিয়ে এসেছিল। কল্যাণীর ভাষায় ‘হরিশ মানুষটা ছিল রসিক, রস দিয়া বর্ণনা করিবার শক্তি তাহার ছিল।

গল্পের শেষাংশে কল্যাণীর দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা, রেল কর্মকর্তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেন ভবিষ্যতের নতুন নারীর আগমনের বার্তা দেয়। তৎকালিন সামাজিক প্রেক্ষাপট, সংকীর্ণমনা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার নির্মম বাস্তবতার বর্ণনা গল্পকে অনেক বেশি পরিচিত করে তুলেছে। গল্পের শেষে অনুপমের মানসিক পরিবর্তন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সামাজিকভাবে মূল্যহীন হয়ে পড়া এবং পরিবর্তনে বাধ্য হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *