বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১০:৪৭ পিএম

আরব বিশ্বের প্রথম নারী পাইলট লতফিয়া এলনাদি

লতফিয়া এলনাদি ছিলেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী পাইলট। ১৯৩৩ সালে মিশরের এই নারী বিমান নিয়ে আকাশে উড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। ২৫ বছর বয়সে কায়রোর বাইরে এক ছোট্ট এয়ারস্ট্রিপ থেকে একটি জিপসি মথ প্লেন নিয়ে প্রথম যখন তিনি একাকী আকাশে উড়লেন, সেটি ছিল এক অবিস্মরণীয় মূহুর্ত।

লতফিয়া এলনাদির জন্ম হয়েছিল মিশরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি বিমান চালানোর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। মিশরে তখন জাতীয় বিমানবন্দর ছিল না। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনী আরএএফের কয়েকটি এয়ারফিল্ড ছিল মিশরে। ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ ইম্পেরিয়াল এয়ারওয়েজ কায়রো হতে ইরাকের বসরা নগরীতে তাদের প্রথম নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করে। এটি ছিল আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের এক স্বর্ণযুগ। অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট তখন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রসকান্ট্রি বিমান পরিচালনায় এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। এই নারী পাইলটের অ্যাডভেঞ্চার লতফিয়ার মধ্যে নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছিল।

পাইলট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এমন প্রায় তিরিশ জন পুরুষের মধ্যে লতফিয়া ছিলেন একমাত্র নারী। কায়রো ছিল তখন বেশ কসমোপলিটন এক নগরী। সনাতনী ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসে অনেক নারী তখন বিভিন্ন পেশায় কাজ শুরু করেছেন। বেশিরভাগ ফ্লাইট ইনস্ট্রাকটর ছিলেন ইংরেজ। লতফিয়া ছিলেন ড্যান ক্যারল নামে এক লোকের তত্ত্বাবধানে। লতফিয়া জানিয়েছিলেন, ড্যান ক্যারল ছিলেন বেশ কড়া, তবে ভালো লোক।

লতফিয়া এলনাদি কায়রো হতে আলেক্সান্দ্রিয়া পর্যন্ত বিমান চালানো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি ছিলেন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া দ্বিতীয় কোন নারী। প্রথম জন ছিলেন তার আদর্শ অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট। লতফিয়া এলনাদি তার জীবনে কখনো পেশাদার পাইলট হননি। তার কাছে এটি ছিল কেবলই নেশা। কিন্তু পাইলট হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পাঁচ বছর পরেই তার এই বৈমানিক জীবন এক দুর্ঘটনায় থমকে যায়। এই দুর্ঘটনায় তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিলেন।

১৯৬০ এর দশকে লতফিয়া এলনাদি সুইজারল্যাণ্ডে চলে যান তার মেরুদণ্ডের চিকিৎসার জন্য।

প্রামান্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ওয়াগেহ জর্জ যখন তাকে নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন, তখনো তিনি সুইজারল্যাণ্ডেই থাকেন। একটি দুর্ঘটনার কারণে তার বৈমানিক জীবনের ইতি টানতে হয়েছিল। লতফিয়া এলনাদির বয়স যখন আশির কোঠায়, তখন তিনি কানাডায় চলে যান তার আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে। ২০০২ সালে ৯৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *