বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

আশ্রয়হীনদের আশ্রয়কেন্দ্র গুচ্ছগ্রাম: কতটা স্বাধীন?

গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য যে প্রকল্পটি গ্রহন করা হয়েছে তা হচ্ছে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প। এই প্রকল্প গ্রহনের পর এখন পর্যন্ত দেশে বেশ অনেকগুলোই গুচ্ছগ্রাম তৈরী করা হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাই মিলছে অনেক মানুষের।
নদী ভাঙন বা অন্যান্য বিভিন্ন কারনে প্রতিবছর অনেক পরিবারই গৃহহীন হয়ে মারাত্মক অসহায় হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা রোধ করার উদ্দেশ্যেই ২০০৯ সালে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প প্রথম বাস্তবায়ন করা হয়। যদিও গুচ্ছগ্রাম ব্যাপারটি কিন্তু বেশ পুরোনো। ১৯৭২ সালে প্রথম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষীপুরে একটি গুচ্ছগ্রাম উদ্ভোদন করেন যেখানে অনেক মানুষ আশ্রয় পেয়েছিলো।

এরপরে পুনরায় একের পর এক গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। একের পর এক গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে এবং সেখানে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে একটি করে বাড়ি বরাদ্দ করে দেয়া হচ্ছে।

গুচ্ছগ্রাম নিঃসন্দেহে একটি ভালো প্রকল্প যা ছিন্নমূল মানুষদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসছে। কিন্তু এই গুচ্ছগ্রাম ও বা কতটাই নিরাপদ এ স্বাধীন এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এখন আর ভালো নেই গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো কারন বর্তমানে তাদের একটাই ভয় যেকোনো মুহুর্তে এই আশ্রয়ের একমাত্র স্থানটিও তারা হারাতে পারে।

আশির দশকে নারায়নগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত গুচ্ছগ্রাম এখন বালু দস্যুদের নাগালে। গুচ্ছগ্রামের পূর্ব পাশে মেঘনা নদীজুড়ে আছে অনেকগুলো ড্রেজার মেশিন। বিভিন্ন কম্পানির প্রায় ২০ টি ড্রেজার মেশিন সেখানে আছে।

আগে গুচ্ছগ্রামের সাথেই তৃণভূমি ছিলো ফলে তারা সেখানে চাষাবাদও করতে পারতেন কিন্তু ড্রেজার মেশিন আসার পর তা আর সম্ভব নয়। মেশিম দিয়ে ক্রমাগত বালু কেটে নেয়া হচ্ছে ফলে ফসলি জমি গুলোও হারিয়ে যাচ্ছে এমনকি শীঘ্রই নদী ভাঙন হয়ে গুচ্ছগ্রাম হারানোর ঝুঁকি ও আছে। এই নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই গুচ্ছগ্রামবাসিদের।

এসকল অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও উচ্চ মহল থেকে কখনো মারধোর, কখনো জেল, কখনো বা গ্রামছাড়া হচ্ছে এই নিরীহ গ্রামবাসীরা। সরকারি আশ্রয়ে থাকলেও স্বাধীনতা নেই এই গ্রামগুলোতে। আশ্রয়হীন হওয়ার ভয় এমন কি জীবনের ভয় ও থেকেই যাচ্ছে গ্রামবাসীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *