বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

ইন্টারনেট ভিত্তিক নিরাপত্তাহীনতা

বর্তমানে পুরো পৃথিবী যুক্ত হয়ে আছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এবং মানুষের জীবনের বেশিরভাগ কাজই নির্ভর করছে ইন্টারনেটের উপরে। ইন্টারনেট হলো পুরো বিশ্ব জুড়ে বিস্তৃত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যারা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত । বর্তমানে বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রায় প্রতিটি মানুষ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটের ব্যবহার নেই এমন স্থান খুব কমই আছে ঠিক তেমনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে না এমন মানুষ সহজে খুজে পাওয়া যাবেনা। ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে কিন্তু প্রত্যেকটা জিনিসের যেমন ভালো খারাপ দুই দিকই থাকে তেমনি ইন্টারনেটেরও কিন্তু খারাপ দিক রয়েছে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেমন যোগাযোগ ব্যাবস্থা এখন সহজের থেকেও সহজ তেমনি কিছু অসৎ মানুষের দ্বারা নিরাপত্তা নষ্ট হওয়াও কিন্তু কঠিন নয়। মুহুর্তের মধ্যেই আপনার সকল গোপন তথ্য জেনে যেতে পারে অন্য কেউ। আপনার গোপনীয়তা ছড়িয়ে যেতে পারে বিশ্বজুড়ে।

ইন্টারনেটে যে উপায়ে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারে ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে হ্যাকিং। হ্যাকিং হচ্ছে কারো অনুমতি ছাড়া তার কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা।হ্যাকিং ইথিক্যাল হতে পারে আবার নন ইথিক্যাল হতে পারে। ইথিক্যাল হ্যাকিং এর মূল উদ্দেশ্য দেশের ও মানুষের কল্যাণের জন্য হ্যাক করা। কিন্তু নন ইথ্যিকাল হ্যাকিং কিছু অসৎ হ্যাকারদের দ্বারা হয়ে থাকে। যাদের মূল উদ্দেশ্য কারো অনুমতি ছাড়া তাদের তথ্য হ্যাক করে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে থ্রেট করা, এছাড়া বিভিন্ন হয়রানি করা। হ্যাকিংয়ের শিকার যে শুধুমাত্র সাধারন মানুষজন ই হয় এমন নয় বড় বড় বড় ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান,এমনকি সরকারি বিভিন্ন গোপন তথ্যও হ্যাক হতে পারে। যা খুবই ভয়াবহ বিপদে ফেলে মানুষ কে। হ্যাকাররা বেশ কয়েক ভাবে হ্যাক করে থাকে যেমন –

১.ফিশিং : মাছ ধরার সময় যেমন টোপ ফেলে মাছদের ধোকা দেওয়া হয় তেমনি ইন্টারনেটে ফিশিং বলতে ধোকা দিয়ে মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা বুঝানো হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত হ্যাকার বিভিন্ন মিথ্যা ইনফরমেশন দিয়ে লিংক তৈরি করে মানুষের মাঝে ছড়ায় এ লিংকে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই ইমেইল আইডি পাসওয়ার্ড বা ফেসবুক পাসওয়ার্ড দেয়া যারা এ সম্পর্কে অবগত নয় এবং লিংকে প্রবেশ করে হ্যাকাররা খুব সহজেই সেই ব্যক্তির আইডি হ্যাক করে নেয়।

২.ম্যালওয়্যার ইনজেক্টিং ডিভাইস : ম্যালওয়্যার হলো একটি সফটওয়্যার যা কম্পিউটার এবং কম্পিউটার সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্থ ও ধ্বংস করতে পারে। ম্যালওয়্যার কে মুলত ‘দূষিত সফটওয়্যার ‘ বলা হয়। সাধারণ ম্যালওয়ার রয়েছে তা হচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস, ট্রোজান ভাইরাস, স্পাইওয়্যার, অ্যাডওয়্যার ইত্যাদি। এগুলো বিভিন্ন ভাবে ডিভাইসে প্রবেশ করে সকল তথ্যের এবং পুরো ডিভাইসেরই ক্ষতি করতে পারে।

৩.পাসওয়ার্ড ক্রাকিং : পাসওয়ার্ড ক্রাকিং হল অনুমতি ছাড়া কোন ডিভাইসের বা সফটওয়্যার এর সঠিক পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করার চেষ্টা করা অসৎ উপায়ে৷ এক্ষেত্রে হ্যাকাররা বিভিন্ন মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ক্রাক করে থাকে যার মধ্যে আছে ডিকশনারি অ্যাটাক, ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক,রেইনবো টেবিল অ্যাটাক, স্পাইডারিং ইত্যাদি। এসব উপায়ে পাসওয়ার্ড ক্রাক করে সকল তথ্য হাতিয়ে নেয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *