বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

ইভটিজিং ও আমাদের সমাজ

নারীদের সাথে হওয়া সহিংসতা গুলোর একটি হচ্ছে “ইভ টিজিং” যা আমাদের দেশের পেক্ষাপটেও অনেক বেশি চলমান একটি সমস্যা। মোটামুটি সব নারীই যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। সব বয়সের, সব পেশার, সকল ধর্মের সবাই।

“ইভ” শব্দটি আদিমাতা “হাওয়া”র ই একটি নাম যার ফলে এই শব্দটি দ্বারা সমগ্র নারীজাতিকেই বুঝানো হয়। এবং ” টিজ ” অর্থাৎ জ্বালাতন। অর্থাৎ ইভ টিজিং বলতে প্রধানত নারী জ্বালাতনকেই বুঝানো হয়। চলার পথে নারীদেরকে উত্যক্ত করা, বাজে কোনো কথা ছুড়ে দেয়া, পথ আটকানো, কোনোরকম ভাবে নারীদের সাথে অশালীন ব্যবহার করা এসবকিছুই ইভ টিজিংয়ের মধ্যে পড়ে।

আমাদের সামাজিক সমস্যা গুলোর মধ্যে ইভ টিজিং অনেক বড় একটি সমস্যা যা সাধারণত তরুন সমাজের মধ্যেই বেশি দৃশ্যমান। রাস্তার পাশে বা চায়ের দোকানের সামনে প্রায়ই এসব বখায়ে তরুনদের আস্তানা দেখা যায় যারা মুলত নিজেদের যৌন আগ্রাসন থেকে নারীদেরকে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা প্রতিবাদ করতে গেলে কোনো না কোনো ভয়ানক ফলাফল তাদেরকে ভোগ করতে হয় যেমন – এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষন ইত্যাদি।

আমাদের সমাজ নারী বিষয়ক সব সমস্যাগুলোতেই কিছুটা উদাসীন মনোভাব প্রকাশ করে থাকে। কোনো নারী নিগ্রহের শিকার হলে তাকে সমবেদনা দেয়ার চেয়ে বরং দোষারোপ ই বেশি করা হয়। আমাদের সমাজের কাঠামো এমন ভাবে তৈরি হয়েছে যে কোনো মেয়ে ইভ টিজিংয়ের শিকার হলে এবং তারপর এ বিষয়টি প্রকাশ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে চুপ করে সহ্য করতে বলা হয় এবং অবস্থা গুরুতর হলে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় কিংবা ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। অনেকক্ষেত্রে ইভ টিজিং এ শিকার এই নারীরা এতটা মানসিক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় যে একসমত আত্মহত্যার পথ ও বেছে নেয়।

কিন্তু এই দৃশ্যপট যদি কিছুটা ভিন্ন হতো যে, কোনো নারী ইভ টিজিংয়ের শিকার হলে আশেপাশের মানুষ যদি ইভ টিজারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতো, সামাজিক ভাবে টিজিংয়ের শিকার নারীকে দোষারোপ না করে যদি তার পাশে দাঁড়িয়ে টিজারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হতো তাহলে সমাজে এ সমস্যা আর থাকতো না।

কিন্তু আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক,গোড়ামিপূর্ন সমাজ কখনোই মেয়েদের প্রতি হওয়া অপরাধ গুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখেনা বরং অন্যদের অপরাধের দায়ও শেষমেষ নারীদের উপর চাপিয়ে দেয়। ফলে এসব অপরাধ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অপরাধীরাও আরও সাহস নিয়ে এগোচ্ছে। তবে বর্তমানে অনেক পরিবার-ই সচেতন হচ্ছে, প্রতিবাদ করার মানসিকতা রাখছে কিন্তু সমাজের সিংহভাগ অংশই নোংরা মানসিকতা বহন করছে যার ফলে ইভ টিজিংয়ের মতো অপরাধ গুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *