বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

একে ফজলুল হক থেকে শেরে বাংলা হয়ে ওঠার গল্প

শেরে বাংলা বা বাংলা বাঘ হিসেবে আখ্যায়িত উনিশ শতকের একজন অন্যতম মহান ব্যাক্তিত্বই হচ্ছেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। এই কিংবদন্তি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৭৩ সালের ২৬ শে অক্টোবর বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপাজেলায়।একে ফজলুল হক ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিলো বাড়িতেই এবং পরবর্তীতে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করে ভর্তি হন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। অসাধারণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন এই ব্যাক্তিকে নিয়ে কথিত আছে যে তিনি একবার পড়েই যেকোনো বইয়ের খুব সূক্ষ্ম তথ্যগুলোও মনে রাখতে পারতেন।

একে ফজলুল হক ছাত্রজীবনে খুবই মেধাবী ছিলেন, তিনি একইসাথে তিনটি বিষয়ে অর্নাস করেছিলেন। তাও তিনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গনিতে। এরপরে তিনি মার্স্টাস শুরু করেন ইংরেজী বিষয় নিয়ে কিন্তু একদিন তার এক সহপাঠী তাকে বলেছিলেন যে মুসলিম শিক্ষার্থীরা অঙ্ক ভালো পারেনা তাই ইংরেজী নিয়েই পড়তে আসে। শেরে বাংলার শরীরে বাংলার রক্ত সে কি করে খোটা সহ্য করে নিতে পারে তাই সে সেই সহপাঠীর কথায় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাত্র ছয় মাস প্রস্তুতি নিয়ে গনিত বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে মার্স্টাস পাশ করেছেন এবং প্রমান করে দিয়েছেন বাঙালী সব পারে।

ফজলুল হক আইনেও স্নাতক করেছিলেন এবং সেই সুবাদেই তার কর্মজীবন আইনজীবী হিসেবেই শুরু করেছিলেন। এর পরে অবশ্য তিনি ডেপুটি মেজিস্ট্রেট হিসেবেও কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এ সে সময়েই তিনি ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তৎকালীন বাংলার কৃষক সমাজের দুর্ভোগ। তারই পরিপেক্ষিতে তার গঠন করা কৃষক শ্রমিক লীগ পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। একে ফজলুল হক “শেরে বাংলা” উপাধি টি পেয়েছিলেন মুলত পাঞ্জাব থেকে। পাঞ্জাবে একবার এক বক্তৃতায় পাঞ্জাবদের মন জয় করে সেখান থেকে শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ উপাধি পেয়েছিলেন সময়ের পরিক্রমায় তিনি শেরে বাংলা হিসেবেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। এই মহান ব্যাক্তিত্ব বাংলার মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

শেরে বাংলা একে ফজলুল হক সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। সারাজীবন তিনি অসহায়, দুস্থ মানুষদের নিয়েই কাজ করে গেছেন। তিনি বাংলার গর্ব। একে ফজলুল হক ১৯৬২ সালে ২৭ এপ্রিল চিরবিদায় নিয়ে নেন কিন্তু পাকাপোক্ত স্থান তৈরি করে নেন বাংলার মানুষদের মনে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *