কাঁচা তেঁতুলের গুণাগুণ

কাঁচা তেঁতুলের গুণাগুণ
ছবি: সংগৃহীত

তেঁতুল আমাদের অনেকের কাছে একটি ফল হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশ প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। নানা ধরনের গাছে ঘেরা আমাদের এই দেশ। আমাদের এই দেশে যেদিকে চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ। তাদের মধ্যে কিছু ফুলের গাছ, ফলের গাছ এবং বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ রয়েছে। প্রতিটি ফুলের গাছের যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, তেমনি একটি ফল গাছেরও একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। যদিও বাংলা জৈষ্ঠ্যমাসকে বলা হয় ফলের মাস। তবে এদেশে আমরা সারা বছরই কিছু ফল দেখতে পাই। আমাদের চারপাশে অনেক অজানা ফলের গাছ রয়েছে। এই উদ্ভিদের বেশিরভাগই আমাদের খাদ্যের পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ করে। গাছপালা থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফল থেকে আমাদের ভিটামিনের চাহিদা পাই। তাই গাছ আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে কাজ করে।

তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম-

টক ফল হিসেবে তেঁতুল অনেকেরই প্রিয়। তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম (Tamarindus Indica)।

তেঁতুলের ইংরেজি নাম:

তেঁতুলের ইংরেজি নাম (Melanesian Papeda)। এটি একটি পাথর ফল। ফল একটি বিশেষ আচ্ছাদন খোসা দ্বারা জল দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়। এটি কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি রান্নাও করা যায়। তাই তেঁতুল আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় ফল।

তেঁতুলের উপকারিতা:

তেঁতুলই একমাত্র ফল নয় যা আমরা খাই। বরং আমাদের শরীরের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সমাধানে তেঁতুল খুবই উপকারী। কিন্তু তেঁতুলের উপকারিতা জানেন কি? আপনাদের সুবিধার্থে চলুন জেনে নেওয়া যাক তেঁতুলের বেশ কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-

শরীরে হজমশক্তি বাড়ায়:

তেঁতুল আমাদের শরীরে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যার কারণে আমরা পেটের ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে:

নিয়মিত তেতুল খেলে আমাদের শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

পেটের ব্যথা উপশম করে:

তেঁতুল গাছের বাকল বা ছাল আমাদের শরীরকে পেটের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। তাই যাদের এই সমস্যা আছে তারা প্রক্রিয়াজাত তেঁতুল গাছের ছাল বা ছাল খেতে পারেন।

পলিউরিয়া ব্যবস্থাপনা:

তেঁতুলের বীজ খাওয়া আমাদের শরীরে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তেঁতুলের বীজ নিয়মিত সেবন আমাদের শরীরের ডায়াবেটিক রোগ সারাতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, এটি ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে সুগার নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে অনেকটাই ডায়াবেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই যারা ডায়াবেটিক সমস্যায় ভুগছেন তারা রোগ নিয়ন্ত্রণে তেঁতুলের বীজ খেতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা:

তেঁতুল সম্পূর্ণ চর্বিমুক্ত। এছাড়াও তেঁতুল আমাদের শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে কারণ এটি চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর:

তেঁতুলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের মানব ক্যান্সারের জীবাণু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধে হলুদ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন ক্ষত সারাতে:

তেঁতুল গাছের পাতা ও বাকল অত্যন্ত অ্যান্টিসেপটিক। যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে:

তেঁতুল আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। আলসার প্রতিরোধ:
হলুদের বীজের গুঁড়া নিয়মিত সেবন আমাদের শরীরে আলসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

হার্ট সুস্থ রাখতে:

তেঁতুল আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। যার কারণে আমাদের হার্ট সুস্থ থাকে। সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে:
নিয়মিত তেঁতুল খাওয়া আমাদের শরীরকে সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যালার্জি প্রতিরোধ করতে:
তেঁতুল আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

লিভার সুরক্ষা:

তেঁতুলের নিয়মিত সেবন আমাদের লিভারকে সুরক্ষিত রাখে। ফলে লিভারের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

কাঁচা তেঁতুলের গুণাগুণ

কাঁচা তেঁতুলের গুণাগুণ
ছবি: সংগৃহীত

তেঁতুল আমাদের অনেকের কাছে একটি ফল হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশ প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। নানা ধরনের গাছে ঘেরা আমাদের এই দেশ। আমাদের এই দেশে যেদিকে চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ। তাদের মধ্যে কিছু ফুলের গাছ, ফলের গাছ এবং বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ রয়েছে। প্রতিটি ফুলের গাছের যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, তেমনি একটি ফল গাছেরও একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। যদিও বাংলা জৈষ্ঠ্যমাসকে বলা হয় ফলের মাস। তবে এদেশে আমরা সারা বছরই কিছু ফল দেখতে পাই। আমাদের চারপাশে অনেক অজানা ফলের গাছ রয়েছে। এই উদ্ভিদের বেশিরভাগই আমাদের খাদ্যের পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ করে। গাছপালা থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফল থেকে আমাদের ভিটামিনের চাহিদা পাই। তাই গাছ আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে কাজ করে।

তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম-

টক ফল হিসেবে তেঁতুল অনেকেরই প্রিয়। তেঁতুলের বৈজ্ঞানিক নাম (Tamarindus Indica)।

তেঁতুলের ইংরেজি নাম:

তেঁতুলের ইংরেজি নাম (Melanesian Papeda)। এটি একটি পাথর ফল। ফল একটি বিশেষ আচ্ছাদন খোসা দ্বারা জল দিয়ে আচ্ছাদিত করা হয়। এটি কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি রান্নাও করা যায়। তাই তেঁতুল আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় ফল।

তেঁতুলের উপকারিতা:

তেঁতুলই একমাত্র ফল নয় যা আমরা খাই। বরং আমাদের শরীরের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সমাধানে তেঁতুল খুবই উপকারী। কিন্তু তেঁতুলের উপকারিতা জানেন কি? আপনাদের সুবিধার্থে চলুন জেনে নেওয়া যাক তেঁতুলের বেশ কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-

শরীরে হজমশক্তি বাড়ায়:

তেঁতুল আমাদের শরীরে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যার কারণে আমরা পেটের ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে:

নিয়মিত তেতুল খেলে আমাদের শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

পেটের ব্যথা উপশম করে:

তেঁতুল গাছের বাকল বা ছাল আমাদের শরীরকে পেটের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। তাই যাদের এই সমস্যা আছে তারা প্রক্রিয়াজাত তেঁতুল গাছের ছাল বা ছাল খেতে পারেন।

পলিউরিয়া ব্যবস্থাপনা:

তেঁতুলের বীজ খাওয়া আমাদের শরীরে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তেঁতুলের বীজ নিয়মিত সেবন আমাদের শরীরের ডায়াবেটিক রোগ সারাতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, এটি ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে সুগার নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে অনেকটাই ডায়াবেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই যারা ডায়াবেটিক সমস্যায় ভুগছেন তারা রোগ নিয়ন্ত্রণে তেঁতুলের বীজ খেতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা:

তেঁতুল সম্পূর্ণ চর্বিমুক্ত। এছাড়াও তেঁতুল আমাদের শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে কারণ এটি চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর:

তেঁতুলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা আমাদের মানব ক্যান্সারের জীবাণু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধে হলুদ খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন ক্ষত সারাতে:

তেঁতুল গাছের পাতা ও বাকল অত্যন্ত অ্যান্টিসেপটিক। যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে:

তেঁতুল আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। আলসার প্রতিরোধ:
হলুদের বীজের গুঁড়া নিয়মিত সেবন আমাদের শরীরে আলসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

হার্ট সুস্থ রাখতে:

তেঁতুল আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। যার কারণে আমাদের হার্ট সুস্থ থাকে। সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে:
নিয়মিত তেঁতুল খাওয়া আমাদের শরীরকে সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যালার্জি প্রতিরোধ করতে:
তেঁতুল আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

লিভার সুরক্ষা:

তেঁতুলের নিয়মিত সেবন আমাদের লিভারকে সুরক্ষিত রাখে। ফলে লিভারের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download