বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

কাঁচা হলুদ ত্ব‌কের জন্য কতটা উপকারী

শত শত বছর ধরে খাদ্যে ব্যবহারের পাশাপাশি রুপচর্চায়ও হলুদের বেশ নামডাক আছে। হলুদের নিরাময় বৈশিষ্ট্য ত্বকের জন্য অনেকটা প্রাকৃতিক আশির্বাদ ও বলা যায়। হলুদে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদান। এই বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বকে উজ্জ্বলতা এবং সতেজতা সরবরাহ করতে পারে। এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

হলুদ তার স্বাস্থ্য উপকারিতা পায় মূলত ” কারকিউমিনের ” কারণে, এটি একটি জৈব সক্রিয় উপাদান।এই কারকিউমিন ই প্রদাহরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে। ত্বকে ব্যাবহারের জন্য সাধারণত কাচা হলুদ ই ব্যাবহার করা হয়।

এই হলুদ বৈজ্ঞানিকভাবে “কারকুমা লংগা” নামে পরিচিত, এতে প্রদাহবিরোধী, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা সাহায্য করতে পারে:
১.ক্ষত আরোগ্য
২.ব্রেকআউট প্রতিরোধ
৩.সোরিয়াসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে
৪. ব্রণের দাগ কমাতে
৫.ডার্ক সার্কেল উজ্জ্বল করে
৬.প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।

কাঁচা হলুদ যেভাবে ত্বকের উপকার করে থাকে –
★ক্ষত সারায় : হলুদে পাওয়া কারকিউমিন প্রদাহ এবং জারণ কমিয়ে ক্ষত সারাতে সাহায্য করতে পারে। এটি ত্বকের ক্ষততে হওয়া শরীরের প্রতিক্রিয়া কমিয়ে দেয়। এর ফলে ক্ষত আরও দ্রুত সেরে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে হলুদ টিস্যু এবং কোলাজেনকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। জার্নাল লাইফ সায়েন্সেস কার্কিউমিনকে ত্বকের ক্ষতের উপর সর্বোত্তম কাজ করার জন্য একটি উপাদান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

★ব্রনের দাগ কমায় : হলুদের ইনফ্লামেটরি গুনাবলী ত্বকের ছিদ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ত্বককে পরিষ্কার এবং জীবানুমুক্ত করে। এর ফলে ব্রনের দাগ হালকা হয় এবং ব্রন ও অনেকটা কমে যায়।

★স্ক্যাবিস চিকিৎসা : স্ক্যাবিস এমন একটি অবস্থা যা মাইক্রোস্কোপিক মাইট দ্বারা সৃষ্ট হয় এবং ত্বকে ফুসকুড়ি ফেলে।ভারতে পরিচালিত একটি প্রাথমিক গবেষণায়, হলুদ এবং নিমের সংমিশ্রণ স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় কার্যকরি ভূমিকা রেখেছে।

★এটোপিক ডার্মাইটিস : এটোপিক ডার্মাটাইটিস হলো একজিমা। এটি একটি প্রদাহজনক অবস্থা যা জেনেটিক, পরিবেশগত এবং রোগ প্রতিরোধের কারণে ঘটে।আমেরিকান একাডেমি অফ ডার্মাটোলজি (এএডি) উল্লেখ করেছে যে প্রাপ্তবয়স্করা প্রায়ই চোখের চারপাশে এটোপিক ডার্মাটাইটিস অনুভব করে।২০১৫ সালে একটি গবেষণায় একজিমা আক্রান্ত ৩৬০ জন লোককে পাওয়া গেছে যারা কাচা হলুদ ব্যাবহারে এ থেকে আরাম পেয়েছেন।

★বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে : ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে হলুদের প্রদাহ-বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাবগুলির কারণে এবং কারকিউমিনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার ত্বকের বার্ধক্যকে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে ২৮ জন মহিলাকে নিয়ে একটি পুরোনো গবেষণায় তাদের কে রোজমেরি, হলুদ এবং গোটু কোলা সহ একটি ভেষজ জেল প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে এবং ৪ সপ্তাহ পরে তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা গেছে যে তারা আগের তুলনায় ত্বকে অনেক দৃঢ়তা অনুভব করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *