বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

কাগজ তৈরির ইতিহাস

সব থেকে বেশি ব্যবহৃত বস্তুর তালিকায় ‘কাগজ’ শব্দটা আগেই আসবে। লেখা-পড়া থেকে শুরু করে লেখালেখির কাজে এবং ছাপানোতে কাগজের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হলেও মোড়ক তৈরী করার কাজেও কাগজ বহুল ব্যবহৃত বস্তু। এই কাগজ কোথা থেকে সৃষ্টি, কে কিভাবে
তৈরি করেছিলেন অনেকেরই অজানা। আসুন জেনে নেই কাগজের জানা-অজানা কিছু তথ্য-

সর্বপ্রথম কাগজ চীনে ৮ম খ্রিষ্ঠপূর্বে মোড়ানো ও প্যাড হিসেবে ব্যবহার হত। ৮ম শতক পুর্বেই এই কাগজের উপর চাইনীজরা লিখত। হ্যান রাজত্বকালে ঐতিহ্যবাহী আবিষ্কারক “কার্ল লুনকে” এই কাগজের প্রস্তুকারক বলা হয়। তিনি তন্তুগাছ এবং পুরাতন ন্যাকড়া ও হেম্প বর্জ্য সহযোগে এটি প্রস্তুত করতেন। ৩য় শতকে কাগজ লেখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ৬ষ্ঠ শতকে তা টয়লেট পেপার হিসেবে চীনে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে সং রাজত্বে ৯৬০-১২৭৯ খ্রিষ্ঠাব্দে কাগজের মুদ্রার প্রথম প্রচলন হয়।

৮ম শতকে কাগজ প্রস্তুতি ছড়িয়ে পড়েছিল মুসলিম বিশ্বে, যেখানে এই প্রক্রিয়া পরিশোধিত হয়েছে এবং তা ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা হতে থাকে। তারা এমন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার ফলে কাগজের পাতলা শিট তৈরী করা যায়। এই নতুনত্ব কাগজকে শিল্পকলা থেকে কাগজ কারখানার সূচনা করে। ৮ম শতক থেকেই কাগজের মণ্ড থেকেই কাগজ তৈরী করা হত।

আধুনিক কাগজ প্রস্তুত শিল্প শুরু হয় ইউরোপে ১৯ শতকের পুর্ব ভাগে। এর অন্যতম কারণ ছিল ফোর্ড্রিনিয়ার যন্ত্রের ক্রমবিকাশ। এই যন্ত্র একক শিটের পরিবর্তে ক্রমাগত কাগজের রোল তৈরী করতে পারত। এই যন্ত্র আকারে বড় ছিল। কিছু কিছু ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থ ছিল। ১৮৮৪ সালে কানাডীয় চার্লস ফেনেরটি ও জার্মান এফ.জি.কেলার এমন এক যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যেখানে মণ্ড তৈরীতে কাঠ ব্যবহার করা যাবে। এই নতুনত্ব ২০০০ বছর ধরে চলে আসা শুধুমাত্র ন্যাকড়া দিয়ে মণ্ড থেকে কাগজ তৈরীর যুগের অবসান ঘটিয়ে খবরের কাগজ তৈরীর সূচনা করেছিল এবং তার ফলে বর্তমানে প্রায় সব কাগজই কাঠের মণ্ড থেকে তৈরী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *