mad

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছামতো ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক

আগের সংবাদ
police

পুলিশের ৬ অতিরিক্ত ডিআইজিকে বদলি

পরের সংবাদ

কানে কম শোনা সমস্যা সবচেয়ে বেশি রিকশাচালকদের, এরপর ট্রাফিক পুলিশের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ঢাকা

প্রকাশিত: ২০২২-১১-০৮ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ
আপডেট: ২০২২-১১-০৮ , ৭:১৩ অপরাহ্ণ
kan

প্রতিনিয়ত বাড়ছে শব্দদূষণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে দিন দিন যা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এ মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় ৪৩২ মিলিয়ন বা ৪৩ কোটি ২০ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ পেশাগত কারণে শব্দদূষণের শিকার। আর বাংলাদেশে এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন রিকশাচালকেরা। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনে প্রায় ৪২ ভাগ রিকশাচালকই এ শব্দদূষণের শিকার। এরপরই ট্রাফিক পুলিশ ও সিএন‌জি চালকেরা।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের ‘বাংলাদেশের রাজপথে শব্দদূষণ এবং শব্দদূষণের কারণে রাজপথে কর্মরত পেশাজীবীদের শ্রবণ সমস্যা’ নিয়ে করা এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের ইব্রাহিম অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ড. সাইকা নিজাম।

গবেষণায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ (উত্তর ও দক্ষিণ) রাজশাহী, কুমিল্লা এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের শব্দদূষণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। এসব সিটির রাজপথে কর্মরত ৬৪৭ জন পেশাজীবীর (ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট, বাসচালক ও হেলপার, পিকআপচালক, সিএনজিচালক, লেগুনাচালক, দোকানদার, মোটরসাইকেল, রিকশাচালক এবং প্রাইভেটকার) শ্রবণশক্তি পরিমাপ করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এ জ‌রিপ করা হয়।

রাজপথে শব্দদূষণের মাত্রা নির্ণয় এবং রাজপথে কর্মরত পেশাজীবীদের শ্রবণশক্তির ওপর সেই শব্দদূষণের প্রভাব নির্ণয় করার উদ্দেশ্যে এ গবেষণা চালানে হয় বলে জানান ড. সাইকা নিজাম।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৩৮ বছর ৪ মাস। অংশগ্রহণকারীরা গড়ে দৈনিক ১০ দশমিক ৭ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে প্রায় ৭ দিনই কাজ করে।

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি চারজনে একজন কানে কম শোনার সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশই রিকশাচালক। এছাড়া প্রায় ৩১ ট্রাফিক পুলিশ, ২৪ শতাংশ সিএনজি চালক, ২৪ শতাংশ দোকানদার, ১৬ শতাংশ বাস, ১৫ শতাংশ প্রাইভেটকার এবং ১৩ শতাংশ মোটরসাইকেল। এসব সমস্যায় ভোগাদের ৭ শতাংশের শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার জরুরি।

গবেষণায় দেখা যায়, সিটি করপোরেশন বিবেচনায় কানে শোনার সমস্যা সবচেয়ে বেশি ছিল কুমিল্লায়- যা প্রায় ৫৫ শতাংশ। সিলেটে ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ, ঢাকায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ রাজপথে কর্মরত পেশাজীবীকে কানে কম শোনার সমস্যায় ভুগতে দেখা গেছে। রাজপথে কর্মরতদের ডান কানের চেয়ে বাম কানের শ্রবণ সমস্যা বেশি।

এ সময় প্রতিকারে শব্দদূষণের উৎস এবং মাত্রা কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়াসহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। রাজপথে পেশাজীবীদের কর্মঘণ্টা কমানো, যেখানে প্রয়োজন সেখানে উপযুক্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, রিকশাচালক ও ট্রাফিক পুলিশের প্রতি বিশেষ নজর, নিয়মিত শ্রবণ পরীক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, অসংক্রামক রোগের শব্দদূষণকে আমরা তেমনটা গুরুত্ব দিতাম না; কিন্তু এটাও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। গবেষণায় এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে আসবে তা ভাবিনি। বয়স বাড়লেই মানুষ ধীরে ধীরে কানে কম শুনতে শুরু করে। কানে না শোনার নানা কারণও থাকতে পারে। শুধু রাস্তায় নয়, বাসা-বাড়ির আশপাশে গড়ে ওঠা ভবনেও দায় রয়েছে। এজন্য আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

যে মন্তব্যগুলো খবরের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে এবং আপত্তিজনক হবে না সেই মন্তব্যগুলোই দেখানো হবে। প্রকাশিত মন্তগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত। পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য AZnewsbd কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

জনপ্রিয়