বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

গ্রাম বাংলার হারিকেন হারিয়ে যাচ্ছে

এক সময় হারিকেন হাতে নিয়ে ডাকপিয়ন ছুটে চলতেন গ্রামের পর গ্রামে। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সবাই রাতের বেলায় হারিকেন হাতে নিয়ে বের হতেন। হারিকেনের আলো গৃহস্থালির পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন যানবাহনে। কিন্তু আধুনিকায়নে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বাতিতে বাজার ভরপুর। যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন আলোর একমাত্র উৎস ঐতিহ্যবাহী হারিকেন।

গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সন্ধ্যার পর হারিকেনের আলোয় পড়তে বসত। টিপ টিপ আলোয় বই পড়ার আলাদা এক অনুভূতি ছিল। অন্ধকার রাতে উঠানের এলকোণে হারিকেন জ্বালিয়ে নাতি- নাতনিদের নিয়ে গল্পের আসর জমাতেন দাদু-দাদীরা। আধুনিক যুগে পুরানো কে ঝেড়ে ফেলে সবাই ছুটছে নতুনত্বের টানে। তাই আজ হারিকেন হারিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে।

একসময় ছিলো যখন গ্রামের দোকানে কেরোসিন বিক্রির লাইন পরতো মাগরিবের নামাজের আগে, কেননা মহিলারা সন্ধ্যার আগেই হারিকেন প্রস্তুত করতো। রাত জেগে ধান ভানতো, ঢেঁকি চালাতো এই হারিকেনের আলোয়। তেল যখন কমে আসতো তখন দেখা যেত আলোও কমে আসছে। তেলের উপর নির্ভর করতো আলোর পরিমাণ। কিন্তু আজ এক সময়ের আঁধারে আলোর সাথী হারিকেন বিদ্যুতের দাপটে হারিয়ে গেছে।

একসময় প্রতিটি বাজারে ছিল হারিকেন মেরামতের অস্থায়ী দোকান। এরা বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে ঘুরে হারিকেন মেরামতের কাজ করত। এছাড়া কিন্তু এখন আর হারিকেন ব্যবহার না করার ফলে হারিকেন মিস্ত্রীদের ও দেখা মেলে না। এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। তাছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের এলইডি বাল্ব অনেক কম দামে পাওয়া যায়। যার কারণে এখন আর হারিকেনের প্রয়োজন হয় না। সময়ের পরিবর্তে হারিকেন আজ বিলুপ্ত। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেনের ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *