বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

চুলকানি কেন হয়, এর প্রতিকার

বিভিন্ন কারণে শরীরে চুলকানি বা বডি ইচিংয়ের সমস্যা হতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। চুলকানি আমাদের দেশে খুব প্রচলিত একটা রোগ। বেশিরভাগ ত্বকের সমস্যার কারণেই চুলকানি হয়।

জেনে নিন চুলকানি হওয়ার কারণ___

১. স্ক্যাবিজ এক ধরনের চর্মরোগ, যা জীবাণু দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। এর প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে চুলকানি হয় ও গুটি গুটি র‌্যাশ ওঠে। উপসর্গগুলো শরীরের বেশিরভাগ অংশে যেমন কব্জি, আঙুলের ভেতর বা কোমরের আশপাশে হতে পারে। রাতের বেলা এই রোগের তীব্রতা আরও বাড়ে। এই রোগ ছোঁয়াচে। স্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ সাধারণত ছড়ায়। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, গামছা, বিছানার চাদর ও বালিশ ব্যবহার করলে অন্যের শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২.সোরিয়াসিস ত্বকের একটি প্রদাহজনিত রোগ।

৩.এই রোগের কারণেও চুলকানি হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যেকোনো বয়সীরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এটি সংক্রামক রোগ নয়, কাজেই সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় না। সোরিয়াসিস যদি ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে আরও বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪.ফাঙ্গাল ইনফেকশন একটি সংক্রামক রোগ। আমাদের আবহাওয়ায় অনেক জীবাণু বসবাস করে, যা আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে ত্বকে প্রবেশ করে। সাধারণত শরীরের একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ প্রথমে আক্রান্ত হয়। এর তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা না করা হলে ক্রমশ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫.চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার আছে প্রাকৃতিক কিছু উপায়। ঘরোয়া এই উপায়গুলোতে খুব সহজেই ত্বকের ক্ষতি ছাড়াই চুলকানির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জেনে নিন চুলকানির ঘরোয়া কিছু প্রতিকার___

১.লেবুর রসে আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়তা করে। চুলকানির প্রতিকার পাওয়ার জন্য লেবুর রস ব্যবহার করাও খুব সহজ। ত্বকের যে স্থানে চুলকানি অনুভূত হচ্ছে সেখানে লেবুর রস লাগিয়ে শুকিয়ে ফেলুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।

২.তুলসী পাতায় আছে ইউজেনল যা একটি অ্যান্সথেটিক উপাদান। এই উপাদানটি চুলকানি কমিয়ে দিতে সহায়ক। এক মগ ফুটন্ত পানিতে ১৫/২০টি তুলসী পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস বের করে নিন। এরপর একটি পরিষ্কার টাওয়েলে পানিটি লাগিয়ে হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই চুলকানির স্থানে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ আরাম অনুভূত হবে।

৩.পুদিনা পাতারও আছে অ্যান্সথেটিক ও ইনফ্লেমেটরি উপাদান। চুলকানির প্রতিসেধক হিসেবে তাই পুদিনা পাতাও অত্যন্ত উপকারী। এক মগ ফুটন্ত পানিতে এক আউন্স পুদিনা পাতা জ্বাল দিয়ে নির্যাস তৈরি করে নিন। এরপর এই পানিটি চুলকানির স্থানে লাগিয়ে রাখুন। চুলকানি কমে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। এর পরেও যদি চুলকানি নিরাময় না হয় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *