বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

টুন টুনি পাখির গল্প

এটি ছোট আকারের পাখি টুনটুনি। ছোট ছেলে-মেয়েরা এ পাখিকে খুব পছন্দ করে। খেলার ছলে এদের বাসা ভেঙ্গে খুব মজা পায় তারা। টুনটুনির বুক ও পেট সাদাটে। অনেকটা মাটির ঢিলার মত। ডানার উপরিভাগ জলপাই-লালচে। মাথা জলপাই-লালচে। চোখের মনি পাকা মরিচের মত। বুক সাদা পালকে ঢাকা। লেজ খাড়া, তাতে কালচে দাগ আছে। ঋতুভেদে পিঠ ও ডানার রঙ কিছুটা বদলায়।

টুনটুনি পাখিকে বলা হয় বাসা তৈরির কারিগর। সূঁচের মত ধারালো ঠোট দিয়ে শৈলিক বুননে টুনটুনি তৈরি করে তার নিজের বাসা। ছোট্ট পাখি টুনটুনির দৃষ্টিনন্দন এই বাসা দেখে অবিশ্বাস্য মনে হলেও আসলে এর কারিগর কিন্তু টুনটুনিই। এখন আর আগের মত টুনটুনির বাসা চোখে পড়ে না। আগের মত কারো মুখে টুনটুনি পাখির গল্প ও শোনা যায় না।

প্রতি বছর কাঁঠাল, শীতাফল, ডুমুর, শিম, লাউ, কাঠ বাদাম, সূর্যমুখী, লেবু গাছে এরা বেশি বাসা বাঁধে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি মিলে বাসা তৈরি করে। তবে এ পাখি ৬-১০ সেমি উচ্চতায় বাসা তৈরি করে থাকে। এর নির্মাণশৈলী এতই মনোরম, অন্যান্য পাখির চেয়ে একেবারেই আলাদা ও অন্যতম। ফাল্গুনের শেষের দিকে বাসা তৈরি শেষে চার থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে স্ত্রী পাখি। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় পাখি ১০ থেকে ১২ দিন ডিমে তা দেয়। ছানা ফুটলে একটু বড় হলেই অন্যত্র নিয়ে চলে যায়।

বন, জঙ্গল, ঝোপ-ঝাড় কমে যাওয়ায় ক্রমশ কমে যাচ্ছে ছোট্ট পাখি টুনটুনি। এরা গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে বাসা তৈরি করে। টুনটুনি বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত একটি পাখি। জলপাই সবুজ বা হলদে সবুজ বর্ণের ক্ষুদ্রাকৃতির পোকা শিকারী পাখি। পৃথিবীতে ১৫ প্রজাতি টুনটুনি থাকলেও বাংলাদেশে এর তিনটি প্রজাতি রয়েছে। তবে বর্তমানে এ পাখি বিলুপ্তির পথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *