বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১০:৪৭ পিএম

ডিপথেরিয়া রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডিপথেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারাত্মক রোগ যা গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। করনিব্যাক্টেরিয়াম ডিপথেরি নামক ব্যাকটেরিয়া ডিপথেরিয়া রোগের জন্য দায়ী। চিকিৎসকরা বলেন, এই রোগে গলার নিম্নাংশে পুরু পর্দার আচ্ছাদন পড়ে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই রোগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট এমনকি রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। আরেক ধরনের ডিপথেরিয়ার প্রদাহে শরীরের ত্বক আক্রান্ত হতে পারে। তবে এ রোগটিতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়।

ডিপথেরিয়া রোগের লক্ষণ:

চিকিৎসকদের থেকে এ রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা যায় যে, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের মাঝে আবার লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। আবার অনেকের কাছে সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।

ডিপথেরিয়ার দৃশ্যমান অতি সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া। এগুলো ছাড়াও জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলা ব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়।

এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের পর মারাত্মক টক্সিন নির্গত করে। এই টক্সিন রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ যেমন-হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ইত্যাদি অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে হৃদপিণ্ডের পেশি প্রদাহ বা মায়োকার্ডাইটিস, প্যারালাইস ও কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

ডিপথেরিয়া রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের পরামর্শ:

ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীকে এন্টি-টক্সিন দিতে হয়। এই এন্টি-টক্সিন মাংসপেশীতে প্রয়োগ করতে হয়। এন্টি-টক্সিন দেওয়ার পূর্বে চিকিৎসকরা এলার্জি টেস্ট করতে পারেন। কারণ রোগী সংশ্লিষ্ট টক্সিনের প্রতি সংবেদনশীল কিনা তা জানার প্রয়োজন পড়ে। এজন্য প্রথমে কম মাত্রায় এন্টি-টক্সিন ব্যবহার করতে হয়। পরে ধীরে ধীরে মাত্রা বৃদ্ধি করতে হয়।

রোগ সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসার জন্য এন্টি-টক্সিন ছাড়াও এন্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়। এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলে ডিপথেরিয়ার জীবাণু মারা যায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি হতে পারে। গলায় ধূসর পর্দা থাকলে চিকিৎসকরা তা সরানোরও ব্যবস্থা করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *