বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন আজ

বাংলাদেশী কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক তাসলিমা নাসরিনের ৫৯তম জন্মদিন আজ। ময়মনসিংহ শহরে ১৯৬২ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় তাসলিমা নাসরিন। মা ঈদুল ওয়ারা গৃহিণী এবং বাবা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ১৯৭৬ সালে ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৮ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৮৪ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন তিনি। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৮৯ সরকারি গ্রামীণ হাসপাতালে, ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকহা) তে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই নারী।

১৩ বছর বয়সে প্রথম কবিতা লিখেন তাসলিমা নাসরিন। কলেজে পড়ার সময় (১৯৭৮-১৯৮৩) সেঁজুতি নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

১৯৮৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। নাম ‘শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা’। ১৯৮৯ সালে ‘নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে’ ১৯৯০ সালে ‘আমার কিছু যায় আসে না’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

১৯৯৩ সালের মধ্যে ‘অতলে অন্তরীণ’, ‘বালিকার গোল্লাছুট’ ও ‘বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা’ কাব্যগ্রন্থ, ‘যাবো না কেন’? ‘যাব ও নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প’ প্রবন্ধসঙ্কলন ও ‘অপরপক্ষ’, ‘শোধ’, ‘নিমন্ত্রণ ও ফেরা’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়।

১৯৯৩ সালে পঞ্চম উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের মুসলিমদের দ্বারা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা করা হয়েছে এই উপন্যাসে। প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম ‘আমার মেয়েবেলা’। ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ২০০০ সালে এই বইয়ের জন্য তসলিমা দ্বিতীয়বার আনন্দ পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০২ সালে তার দ্বিতীয় আত্মজীবনী ‘উতাল হাওয়া’ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ২০০৩ সালে তৃতীয় আত্মজীবনী ‘ক’ বাংলাদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসনের পর ১৯৯৪ সালে সুইডেনে বসবাস করতেন তিনি। এরপর ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে বসবাস করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি সুইডেন ফিরে গেলে রাজনৈতিক নির্বাসিত হিসেবে জাতিসংঘের ভ্রমণ নথি লাভ করেন। এই সময় তিনি সুইডেনের নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। পাশাপাশি সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দেন।

১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সাল ফ্রান্সে বসবাস করেন। ২০০০ সালে তিনি ভারতে প্রবেশ করার ভিসা সংগ্রহ করতে সমর্থ হলে তিনি কলকাতা যাত্রা করেন। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *