বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

নারীবাদ মানে কি আসলেই পুরুষ বিদ্বেষ?

নারীবাদ বা ফেমিনিজম মুলত সামাজিক,অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক অবস্থানে নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করায়ে বুঝায়। নারীবাদ শুধুমাত্রই নারী অধিকার ও নারী কল্যাণ নিয়ে কাজ করে কখনো পুরুষ বিদ্বেষতাকে উৎসাহিত করে না।

কিন্তু নারীবাদের পরিচয় এর অপব্যাবহার করা মানুষদের জন্যই কিন্তু আসলে এরকম কিছু ভুল ধারণা উত্থাপিত হয় নারীবাদীরা পুরুষদের ঘৃনা করে এবং অন্যদের মনেওবপুরুষদের প্রতি বিদ্বেষতাকে বাড়িয়ে তুলছে।

একজন নারীবাদী হতে পারে একজন পুরুষ কিংবা একজন নারী। নারীবাদ যে কারনে গঠিত হয়েছিলো বা নারীবাদের যে প্রধান উদ্দেশ্য তা হলো সমাজের শুরু থেকে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক ব্যাবস্থাকে তুলে ফেলা এবং পুরুষ রা যতখানি অধিকার ও সম্মান পায় নারীদের ও ঠিক ততটাই অধিকার ও সম্মান পেতে হবে এরকম লক্ষ নিয়েই নারীবাদ গঠিত হয়েছিলো এবং এ লক্ষ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।এখানেই নারীবাদী ও ভুলবাদী বা সো কল্ড নারীবাদীদের মধ্যে মুল পার্থক্য টা দেখা যায়।

পুরুষতান্ত্রিকতা নারী ও পুরুষ উভয়কেই প্রভাবিত করে। এটি মহিলাদের বলে যে তাদের বেঁচে থাকার জন্য একজন স্বামী প্রয়োজন বা একজন পুরুষ প্রয়োজন। এবং পুরুষদের বলে যে তাদের শক্তিশালী, ডমিনেটিং এবং কর্তৃত্বপূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছোটবেলা থেকে পুরুষদের মনে একটা ভিত্তি তৈরি দেয় যে পুরুষরা কাদতে পারবেনা কারন কান্না করে দুর্বলেরা এবং এখানে একইসাথে পুরুষদের এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয় যে নারীরা দুর্বল, অবলা। এটি এমন একটি কাঠামো যা এর প্রতিটি সদস্যকে দুর্বল করে এবং তবুও, আমরা এটিকে সমর্থন করেই চলছি। এই কাঠামো ছোটবেলায় মেয়েদেরকে শেখায় ব্যাড টাচ কি হয়, কিভাবে মানিয়ে চলতে হয় কিন্তু ছেলেদের শেখানো হয়না কিরকম ব্যবহার নারীদের প্রতি হওয়া উচিৎ, কতটা সম্মান করা উচিৎ।

নারীবাদ লড়াই করে এই সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধে। কিন্তু কিছু মুখোশধারী নারীবাদীরা লড়াই করে পুরুষদের বিরুদ্ধে। একজন পুরুষের পাপের দায়ভার পুরো পুরুষ জাতির উপর চাপানোর চেষ্টা করে এবং পুরুষদের প্রতি ঘৃনার বিস্তার ঘটায়। যা কখনোই ঠিক না একজন পুরুষ যেমন একজন নারীর ধর্ষক হতে পারে তেমনি একজন নারীর রক্ষক ও হতে পারে।

মুখোশধারী নারীবাদীদের বয়কট না করে পুরো নারীবাদ বিষয়টি মানুষের কাছে একটি ঘৃনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক পোস্টেই দেখা যায় নারীবাদীদের “নেড়িবাদ” বলে সম্বোধন করা হয়। নারীবাদ বিষয় টির এতটা অসম্মান হওয়ার পেছনে যেমন মুখোশধারী নারীবাদীদের অবদান আছে তেমনি আছে একশ্রেনীর পুরুষদের “ইগো” সমস্যা যারা ভাবতেও ভয় পায় নারীরা তাদের সমান পর্যায়ে বা উপর পর্যায়ে যেতে পারে।

(মুক্ত কথা কলামের লেখা একান্ত লেখকের নিজস্ব। পত্রিকার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *