বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

নিঃসঙ্গতা কাটানোর উপায়

প্রতিটা মানুষের জীবনে কিছু মূহুর্ত আসে যখন এই নিঃসঙ্গতা তাকে কুড়ে কুড়ে খায়। আবার কিছু মানুষ নিজে থেকেই একাকী জীবন বেছে নেন। যারা নিজে থেকে এই জীবন বেছে নেন তারা হয়তো ভালো থাকার জন্যই নিজেকে একা থাকাতে অভ্যস্ত করে তোলেন কিন্তু যারা সময়ের পরিবর্তনে সবাইকে হারিয়ে একাকী নিঃসঙ্গতা জীবন কাটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যান, প্রতিনিয়ত নিজের জীবনের উপর নিজেই দোষারোপ করেন কখনোবা সৃষ্টিকর্তা কে দোষীর খাতায় নাম লেখান তাদের এই নিঃসঙ্গতা কাটানোর উপায় নিয়ে কিছু আলোচনা আজকের বিষয়।

জেনে নিন তবে কিভাবে নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে ভালো থাকা যায়:

প্রথমত আপনার সমস্যার মূল বা উৎস নির্ণয় করুন। আপনি যা অনুভব করছেন তা কি একাকীত্ব নাকি অন্য কোনো সমস্যা, তা আগে নির্ণয় করুন। কেননা সমস্যা উদঘাটন করতে না পারলে সমাধানও সম্ভব নয়। তাই সমস্যার মূল খুঁজে বের করুন। এটি করতে পারলেই আপনার সমস্যার অর্ধেকটাই সমাধান হয়ে যাবে।

নিঃসঙ্গতার মূল উৎসই হলো সম্পর্কের টানাপোড়ন। বেশিরভাগ একাকীত্ব সম্পর্ক ভাঙ্গনের কারণেই হয়ে থাকে। মানুষের সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকলে তারা আমাদের থেকে দূরে চলে যায়। ফলে তাদের সাথে যোগাযোগ না হওয়ায় দূরত্ব বেড়ে যায়। আবার আপন মানুষদের সাথে সম্পর্ক গভীর না হলে বা তাদের সাথে ভালো বোঝাপড়া না থাকলে তারাও একসময় পর হয়ে যায়। তাদের থেকেও ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। যার কারণে নিজেকে বড় একা মনে হয়। এসময়ই দুঃখ আমাদেরকে গ্রাস করে নেয়। ফলে আমাদের জীবন হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। তাই সম্পর্কগুলিকে দুর্বল হতে না দিয়ে আরো গভীরে রূপ দিতে হবে। তাহলেই আপন সম্পর্কের মানুষগুলি সুখে-দুঃখে সবসময়ই আপনার পাশে থাকবে এবং তখন একা লাগার কোনো সুযোগ থাকবে না।

আপনার কোন ভালো বন্ধু নেই? বা যারা ছিল সবার থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন হয়তো এমনও হতে পারে আপনাকে ছেড়ে দিয়েছে! প্রতিটা মানুষের জীবনের কোন না কোন সময় এমন হয়ে থাকে। সময়টা ধৈর্য ধরে পার করতে হয়। এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে একটা ভালো বন্ধু রাখা অনেক বেশি প্রয়োজন। চিনে নিন কে সত্যিকারের ভালো বন্ধু হয়ে আপনার পাশে থাকবে। একজন ভালো বন্ধু জীবনের শেষ পর্যন্ত আপনাকে আগলে রাখতে পারে তবে হ্যাঁ বন্ধুত্ব বুঝতে হবে এবং বন্ধুকে বন্ধুর জায়গাটা দিতে হবে। মনে রাখবেন জীবন সুন্দর করতে একজন ভালো বন্ধুই যথেষ্ট।

নেতিবাচক চিন্তা নিয়ে মগ্ন থাকা আমাদের চিন্তার সবচেয়ে বড় ভুল। এবং এই ভুলটা আমরা প্রতিনিয়তই করে আসছি। আর এই নেতিবাচক ভাবনাই আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মনের অজান্তেই নিজেকে একাকীত্বের দিকে আমরা ঠেলে দিই। তাই জীবনের নেতিবাচক ভাবনা বাদ দিয়ে ইতিবাচক দিকগুলিকে পুঁজি করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ইতিবাচক চিন্তার শক্তি অনেক প্রবল। এটি খুব বেশি অনুপ্রাণিত করে এবং সফলতা অর্জনের পাশাপাশি একাকীত্বকেও দূরে সরিয়ে দেয়।

একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিলে তা ক্রমেই আপনাকে একাকীত্বের চাদরে মুড়িয়ে ফেলবে। তাই একাকীত্বে ভুলে নতুন কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। নিজের কাজে সম্পূর্ণ মন দিন। নিজেকে নিয়ে নতুন নতুন সৃষ্টি করুন। মূল কথা নিজেকে সম্পূর্ণ ব্যস্ততায় ডুবিয়ে ফেলুন। কর্মব্যস্ততার অবসরে যতটুকু সময় পাবেন ঘুমাবেন এতে মন, শরীর দুটোই সুস্থ থাকে। পাশাপাশি বই পড়বেন, নিজের শখগুলিকে কাজে লাগাতে পারেন, এগুলো আপনার নিঃসঙ্গতা কাটাতে খুব বেশি সাহায্য করবে।

একাধারে অনেকদিন এক স্থানে থাকার ফলে আমাদের মধ্যে একঘেয়ামি ভাব চলে আসে। যার ফলে শরীরে অসলতা আসে। সময়ের কাজ আর সময়ে হয় না এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কাজই সম্পন্ন হয় না। এর ফলশ্রুতিতে নিঃসঙ্গতা আমাদের জীবনে উঁকি দেয়। তখন জীবনের আনন্দের অনুভূতিগুলোই হারিয়ে যায়। একাকীত্ব থেকে সৃষ্টি হয় হতাশা। তাই এই একঘেয়েমি ভাব কাটানোর জন্য ভ্রমন খুবই জরুরী। হুটহাট বেরিয়ে পড়তে পারেন, লং ড্রাইভে বা কোন অজানা নিরিবিলি পরিবেশে, হতে পারে সাগরের কিনারায় অথবা পাহাড়ের চূড়ায়, মন শীতল হবে। নিঃসঙ্গতা কাটানোর আরো একটি ভালো উপায় নিজ নিজ ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করা। এতে মন শান্ত থাকবে এবং মনে সুচিন্তা আসবে যা আপনাকে একাকীত্বের বেড়া জাল থেকে মুুক্তি দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *