বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

প্রাচীন কালের সভ্যতা

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সভ্যতার উন্নয়ন মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।সভ্যতার ক্রমান্বয় উন্নতির ফলেই মানুষের জীবনযাত্রা সহজ থেকে সহজতর হয়েছে।আজকের আধুনিক যুগের সভ্যতার আগমন সম্ভব হয়েছে। বন্যতা থেকে বর্বরতা এবং বর্বরতা থেকে মানুষ ধীরে ধীরে সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়েছে।

মানবগোষ্ঠী তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড দ্বারা জীবন প্রবাহের মানোন্নয়ন করতে থাকে।বিশেষ সময় কালের পরিপ্রেক্ষিতে তা সভ্যতা নামে অভিহিত হয়।প্রাচীনকালে বহু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তার উল্লেখযোগ্য কিছু সভ্যতা নিচে তুলে ধরলাম।

★★ মেসোপটেমিয়া সভ্যতা ★★

মেসোপটেমিয়া (প্রাচীন গ্রীকঃ Μεσοποταμία অর্থ-দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমি) বর্তমান ইরাকের টাইগ্রিস বা দজলা ও ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদী দুটির মধ্যবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। অধুনা ইরাক, সিরিয়ার উত্তরাংশ, তুরষ্কের উত্তরাংশ এবং ইরানের খুযেস্তান প্রদেশের অঞ্চল গুলোই প্রাচীন কালে মেসোপটেমিয়ার অন্তর্গত ছিল বলে মনে করা হয়। মেসোপটেমিয় সভ্যতা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার অন্যতম। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়ায় অতি উন্নত এক সভ্যতার উম্মেষ ঘটেছিল। সভ্যতার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল মিশরীয় সভ্যতার থেকে অনেকটাই ভিন্ন ছিল এবং বহিঃশত্রুদের থেকে খুব একটা সুরক্ষিত ছিলনা বলে বারবার এর উপর আক্রমণ চলতে থাকে এবং পরবর্তীতে এখান থেকেই ব্রোঞ্জ যুগে আক্কাদীয়, ব্যবিলনীয়, আসিরীয় ও লৌহ যুগে নব্য-আসিরীয় এবং নব্য-ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে মেসোপটেমিয়া পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল কিন্তু পরে এই ভূখন্ডের আধিপত্ত নিয়ে রোমানদের সাথে যুদ্ধ হয় তবে রোমানরা এই অঞ্চল ২৫০ বছরের বেশি শাসন করতে পারে নি। দ্বিতীয় শতকের শুরুর দিকে পার্সিয়ানরা আবারও এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চল তাদের শাসনেই থাকে, এরপর মুসলিম শাসনামল শুরু হয়। মুসলিম খিলাফত শাসনে এই অঞ্চল পরবর্তীতে ইরাক নামে পরিচিতি লাভ করে।

★★সুমেরীয় সভ্যতা★★

সুমেরীয়গণ মেসোপোটেমিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। সুমেরীয়দের আদিবাস ছিল এলেমের পাহাড়ি অঞ্চলে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসোপোটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে। এদের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি। এরা উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এরা কিউনিফর্ম নামে নতুন এক লিপির উদ্ভাবন করে। এ লিপিতে লিখা হয় বিখ্যাত মহাকাব্য “গিলগামেশ”।

জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকার আবিষ্কার এই সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সুমেরীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার। সুমেরীয় শাসক উর-নামু সর্বপ্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে লিখিত আইনের প্রবর্তন করেন যা “Code of Ur-Nammu” নামে পরিচিত।

★★ব্যাবিলনীয় সভ্যতা★★

সুমেরীয় শাসক ডুঙ্গির মৃত্যুর পর এবং ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের আগেই সুমেয় ইলামাইদের অধিকারে চলে যায়। পরে ১৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের আরব মরুভূমি থেকে এক সেমেটিক গোষ্ঠী এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে। তারাই ব্যাবিলন নামক সভ্যতার পত্তন ঘটায়।
এ ব্যাবিলন সভ্যতার স্থপতি ছিলেন বিখ্যাত আমোরাইট নেতা “হাম্বুরাবি”। হাম্বুরাবি লিখিত আইন প্রবর্তন করেন যা “হাম্বুরাবি কোড” নামে পরিচিত। পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র পাওয়া যায় ব্যাবিলনের উওরের গাথুর শহরের ধ্বংসাবশেষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *