বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

ফুটবলের ইতিহাস

সমস্ত বিশ্বজুড়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। এটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) কর্তৃক পরিচালিত ক্রীড়ার আনুষ্ঠানিক নাম। কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় খেলাটি সকার নামে পরিচিত। এটি দুই দলের মধ্যে খেলা হয়, যার প্রতিটি দলে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকে। একবিংশ শতকে এসে ফুটবল খেলা দুই শতাধিক দেশের ২৫০ মিলিয়নেরও অধিক খেলোয়াড় খেলে থাকেন। এর ফলে ফুটবল বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও প্রচলিত খেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের মতে ফুটবল খেলার আবিষ্কারক চীন দেশ হলেও বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে দেখা যায়, গ্রিক সভ্যতা এবং রোমান সভ্যতায় ফুটবল খেলার চল ছিল। অনেকের ধারণা ফুটবল খেলার জন্ম হয় যুক্তরাজ্যে। সময়টা ছিল ১২শ শতাব্দী। তবে এই একই মতানুসারে যুক্তরাজ্যের আরও আগে চীনে ফুটবল খেলার প্রচলন ছিল। শুধু তাই নয়, চীনাদের জনপ্রিয় খেলা ছিল এই ফুটবল। তবে সে সময় এই খেলার নাম ছিল ‘ছু চিউই’।

সে সময় চীনে বেশ ঘটা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করা হতো। চীনা ভাষায় খেলাটির নাম ‘টু সু ছু পা’। চীনা ভাষায় ‘টু সু’ এর অর্থ পা দিয়ে লাথি মারা বোঝায় এবং ‘ছু পা’ অর্থ চামড়ার তৈরি বল। নামের দিক থেকে বর্তমানের ফুটবল খেলার সাথে পুরোপুরি মিল রয়েছে। তখনকার বল চামড়া দিয়ে তৈরি হতো এবং ভেতরটা পূরণ করা হতো তুলা বা চুল দিয়ে। থাং ও সুং রাজবংশের সময় ‘ছু চিউই’ আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বিশ্ব ফুটবলের আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিফা প্রথমে প্রাচীন গ্রিক খেলা Episkyros কে ফুটবলের সর্বপ্রথম রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। পরে ফিফা মত পরিবর্তন করে ‘cuju’ কে ফুটবল খেলার প্রথম রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ‘cuju’ ছিল চীনের একটি খেলার নাম। চীনা ভাষায় এর অর্থ ‘kick ball’। চীনে প্রথম দিকে এই খেলা শুধুমাত্র সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রচলিত ছিল। সে সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই খেলার আয়োজন করা হতো।

এসপ্লানেড ময়দানে ১৮৫৪ সালের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাটিতে কলকাতার শীর্ষস্থানীয় রাজপুরুষদের সাথে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন ব্যারাকপুরের ইংরেজ সাহেবরা। এ খেলায় অংশ নেয়া দল দু’টির একটির নাম ছিলো ‘ক্যালকাটা অফ সিভিলিয়ানস’ আর অপরটি ‘জ্যান্টলম্যান অফ ব্যারাকপুর’। এই খেলাটির পর পরবর্তী ১৪ বছর আর ফুটবলের কোনো অস্তিত্ব নথিপত্রে মেলে না। এরপর আবার ফুটবলের সাক্ষাৎ মেলে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর। সিপাহী বিদ্রোহের জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড থেকে বেরিয়ে ইংরেজরা খেলাটির দিকে মনোযোগ দেয়। বলা যায়, এখান থেকেই ফুটবল উপমহাদেশে তার জয়যাত্রা শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *