- AZnewsbd - https://aznewsbd.com -

ফেরিতে মানুষের ঢল, দর্শকের ভূমিকায় প্রশাসন

ঈদের সময় ঘনিয়ে আসাতে মানুষের মাঝে যেন সব রকম করোনা ভীতি উপেক্ষিত হয়েছে। তারা কেবল এখন বাড়ি যাওয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন,বিভিন্ন মহলের চাপে গণপরিবহন চালু করা হয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে সব রকম ট্রেন এবং লঞ্চ। তারপরও ফেরিঘাট গুলোতে দেখা যাচ্ছে জনগণের উপচে পড়া ভীড়।

এ বছর সারাবিশ্বে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ভারতের নতুন ভেরিয়েন্ট। ভারতের এই নতুন ভেরিয়েন্ট ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট হিসাবে পরিচিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের এই নতুন ভেরিয়েন্ট ২৪ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এবং বাংলাদেশেও এই ভেরিয়েন্টের একজন সনাক্ত হয়েছে। যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

ভারতের এই ভেরিয়েন্ট প্রতিটা দেশকেই ভাবাচ্ছে। ভারতে একদিনে মৃতের সংখ‍্যা এবং সনাক্তের সংখ‍্যাও বেড়ে যাচ্ছে। ভারতের এই ভেরিয়েন্ট একসাথে ৪০০ জনকে আক্রান্ত করার ও ক্ষমতা রাখে। ভারতে এখন তীব্র অক্সিজেনের সংকট ও দেখা যাচ্ছে। ভারত থেকে টীকা আসাও বন্ধ হয়ে গেছে। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিল,তাদের মধ‍্যেও অনেকে আশঙ্কায় রয়েছে। এমতাবস্থায় আগামীকালই চীনের ভ‍্যাকসিন দেশে আসার কথা রয়েছে।

ডিসেম্বরে চীনের ভ‍্যাকসিন আশার কথা থাকলেও তা আগে পাঠানোর জন‍্য অনুরোধ করেছে সরকার। চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এসব বিষয়ে জানিয়েছেন।

তবে এসকল কিছুই যেন কোনোভাবেই দেশে মানুষ কে স্পর্শ করতে পারছে না। তারা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফেরিঘাট গুলোতে চরম ভীড় জমাচ্ছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলে এবং সামাজিক দূরত্ব মানার ক্ষেত্রে প্রশাসনের উপর কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ থাকলেও তা কোনোভাবেই কাজে প্রমাণিত হচ্ছেনা। সকলের মাঝে মাস্ক থাকলেও নেই সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো আগ্রহ।

এক্ষেত্রে প্রশাসন অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। তারা কেবল দেখেই যাচ্ছে যাত্রীদের জনসমাগম। যেন সেক্ষেত্রে তাদের কোনোই ভূমিকা নেই। এই রকম ভূমিকা যাত্রীদের আরো বেশি আগ্রহ দিচ্ছে করোনাকে উপেক্ষা করতে। তারা তাদের নিজ নিজ স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন বাড়াচ্ছে তেমনি তাদের পরিবারের এবং দেশের ও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ঈদের এই কাছের সময়ে ফেরিতে উপচে পড়া ভীড়। দ্বিগুন ভাড়া এবং গাদাগাদি করেও তারা নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছনোর জন‍্য ফেরিতে ভীড় করছে। আর তাদের এই তীব্র জনসমাগম কে স্থগিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসন অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকাই পালন করছে। যা প্রকতপক্ষে করোনার ঝুঁকি আরো বৃহৎ পরিসরে বাড়িয়েই যাচ্ছে।

0
0