বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

বিজ্ঞান ও সভ্যতা

বিজ্ঞান শব্দের অর্থ বিশেষ জ্ঞান। বিজ্ঞানের দর্শনে পার্থিব জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গড়ে উঠেছে বিজ্ঞান জগৎ। আর বিজ্ঞানের এ জগৎ ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে মানুষকে পৌছে দিয়েছে আধুনিক সভ্য জগতের মণিকোঠায়। বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের অব্যাহত জয়যাত্রার এক যুগান্তকারী যুগ। মানুষ ছিল গুহাবাসী, অরণ্যবাসী। কিন্তু এই বিজ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ আজ ছুটে চলেছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অভাবনীয় বেগ, সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে করেছে দ্রুততর ও বহুমাত্রিক। আদিম যুগ থেকে আরম্ভ করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত মানব সভ্যতার যে বিকাশ ঘটেছে তার মূলে রয়েছে বিজ্ঞান।

জানুন প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান মানব সভ্যতায় বিজ্ঞান কতটা অবদান রেখেছে:

ইতিহাসের প্রথম যুগে মানুষ ছিল একান্ত অসহায়। যে প্রকৃতির হাতে মানুষ ছিল সেই প্রকৃতিতে মানুষ আজ বাস করছে তার বুদ্ধি ও মেধার মাধ্যমে। আজ মানব সভ্যতার ইতিহাস বিজ্ঞানের ক্রম বিকাশের ইতিহাস। তারা ঘরবাড়ি অস্ত্র তৈরি করতে জানতো না। জানতো না কিভাবে আগুন জ্বালাতে হয়। কৃষিকাজ ছিল তাদের জ্ঞানের বাইরে। তাদের খাদ্য ছিল গাছে ফলমূল, বস্ত্র ছিল গাছের বাকল। কিন্তু সেই মানুষ আজ গ্রাম রচনা করেছে, শহর প্রতিষ্ঠা করেছে, তৈরি করেছে বড় বড় অট্টালিকা, উদ্ঘাটন করছে প্রকৃতির গোপন রহস্য। তার এ বিজয়বার্তা ঘোষনা করেছে বিজ্ঞান।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বিজ্ঞান নতুন শক্তি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। শিল্পজগতে বিজ্ঞান নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করে বিশ্ববাসীকে উপহার দেয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টা শুরু করে দিল। তাদের সকল প্রচেষ্টা যে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে তার প্রমাণ বর্তমান জীবনধারা। এজন্য বর্তমান যুগকে বিজ্ঞানের মানসপুত্র বলা হয়। বিজ্ঞানের অসীম শক্তিতে মানুষ প্রকৃতিকে হাতের মুঠোয় এনেছে। সমসয়ার সমাধানের পথ বাতলে দিচ্ছে বিজ্ঞান তার নিত্যনতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে।

সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে অগ্রসর হয়ে বিজ্ঞানের অসীম শক্তিতে মানুষ আজ প্রকৃতিকে যেন হাতের মুঠোয় এনে ফেলেছে। অতীতকালে পশুর মতো দেখতে মানুষ যখন প্রথম পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে সক্ষম হয়, তখন থেকেই শুরু হয় মানুষের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। এর পর থেকে যখনই বাঁধা-বিপত্তি সামনে এসেছে, কোনো কাজে সাহায্যের দরকার পড়েছে, তখনই বিজ্ঞান মানুষের জন্য আশ্বির্বাদস্বরূপ সামনে আবির্ভূত হয়েছে। বিজ্ঞানকে পুঁজি করেই এককালের গুহাবাসী মানুষের বিচরণ আজ বিশ্বজুড়ে।

মানবসভ্যতার উন্নয়নে বিজ্ঞানের অবদান অসামান্য। এর ব্যবহারে আমাদের জীবন হয়েছে সহজ ও প্রাঞ্জল। কিন্তু তাই বলে একটি জিনিসের শুধু উপকারী দিকই থাকবে এমন কখনো হয় না! প্রযুক্তির অবদান বড় বড় শিল্পকারখানা ও মোটর চালিত গাড়িগুলো নষ্ট করেছে পরিবেশ। এটম বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, ডিনামাইট, বোথজূ বিমান, ট্যাংক ইত্যাদি আবিষ্কারের ফলে মানবজীবনে বিজ্ঞান আশির্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানের বহুরূপী ও বহুমূখী ব্যবহারই একে একই সাথে আশীর্বাদ এবং অভিশাপে পরিণত করেছে। তবে অপব্যবহার সবকিছুরই আছে, তাই বিজ্ঞানের সঠিক ব্যবহারই মানবসভ্যতাকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। বিজ্ঞানকে যদি সভ্যতার বিকাশে কাজে লাগানো যায়, তবে বিজ্ঞান অভিশাপ না হয়ে আশির্বাদ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *