বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১০:৪৭ পিএম

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি

একসময় গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাহন ছিল গরুর গাড়ি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জনপদে কৃষি ফসল বহন ও মানুষ বহনের প্রিয় বাহন ছিল দুই চাকার এই গরুর গাড়ি। আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় হার মেনে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি বিলুপ্তপ্রায়। পাশাপাশি গরুর গাড়ির সাথে সম্পৃক্ত থাকা গাড়িয়াল পেশা-ও এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির অস্তিত্ব ছিল এবং সর্বত্র ছিল এই গরুর গাড়ির কদর।

গরুর গাড়ি নিয়ে কবি লেখকরা লিখেছেন কত কবিতা, শিল্পীরা গেয়েছেন ভাওয়াইয়া গান। তবে মাঝেমধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় গরুর গাড়ি চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে একেবারেই দেখা যায় না। আধুনিক সভ্যতায় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি হারিয়ে যেতে বসেছে। যার জন্য শহরের ছেলেমেয়েদের গরুর গাড়ি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। আর এখনকার গ্রামের ছেলেমেয়েরাও গরুর গাড়ির সঙ্গে পরিচিত নয়। তাই বলাই যায়, বর্তমানে গরুর গাড়ি এখন বাড়ির বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মুখের গল্পমাত্র।

আগে কৃষকরা প্রতিদিন ফজরের আজানের আগে গরুর গাড়িতে কখনো জৈব সার, কখনো গরুর খাবার ও লাঙ্গল-মই-জোয়াল নিয়ে যেত মাঠে। আধুনিক যান্ত্রিক যুগে এখন মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের জন্য বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে ট্রাক, পাওয়ার টিলার, লরি, নসিমনসহ বিভিন্ন মালগাড়ি। মানুষের যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ইত্যাদি।

ফলে কোথাও আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। অথচ গরুর গাড়িতে কতটা সুবিধা পেত আগে মানুষ। এতে কোনো জ্বালানি খরচ নেই। শব্দ দূষণ নেই। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এসব কিছুই এই যানে ব্যবহার হয় না। এই গরুর গাড়ি ধীর গতিতে চলে বলে কোনো দূর্ঘটনাও নেই। কিন্তু যুগের পরিবর্তনে এই গরুরগাড়ির প্রচলন আজ হারিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির তালে তাল মিলিয়ে মানুষ যত সহজ-সরল পথ বেছে নিচ্ছে ততই বড় বড় সমস্যা জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *