বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

বেগম রোকেয়ার জীবনী

বাংলার প্রথম নারী জাগরনের অগ্রদূত বা প্রথম নারীবাদী কে এ প্রশ্ন করা হলে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর হবে বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন,এক মহিয়সী নারী যিনি সারাজীবন নারীদের অগ্রায়নে কাজ করে গেছেন।এছাড়াও তিনি একজন সাহিত্যিক,ঔপন্যাসিক,চিন্তাবিদ এবং একজন সমাজসেবী ছিলেন।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিলো জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতার নাম রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। বেগম রোকেয়ার পিতা বেশ শিক্ষিত এবং বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী হলেও তিনি নারী শিক্ষার পক্ষে কখনোই ছিলেন না। তার পরিবারে নারীদের অবস্থান ছিলো অনেকটা রক্ষনশীল।

তৎকালীন সময়ে নারীদের ঘরের বাইরে বের হয়ে শিক্ষা লাভের অনুমতি ছিলোনা। কিন্তু রোকেয়া ছিলেন জ্ঞানপিপাসু। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিজ বাড়িতে একজন শিক্ষয়ত্রীর কাছে শিক্ষা লাভ করলেও সামাজিক রোষানলে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু থেমে থাকেন নি রোকেয়া। তার পড়াশুনার প্রতি এতটাই আগ্রহ ছিলো যে একপর্যায়ে তার বড় ভাই ও বোনদের সহযোগীতায় তার পড়াশুনার হাতেখড়ি শুরু হয়।

বেগম রোকেয়া তার স্বপ্নের পথে আরও অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পায় তার স্বামীর সহযোগীতায়। ১৮৯৮ সালে তার বিয়ে হয় সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যিনি ছিলেন একজন ডেপুটি মেজিস্ট্রেট এবং মুক্তমনা ব্যাক্তিত্ব।তার উৎসাহ এবং সহযোগীতায় বেগম রোকেয়া ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী হতে শুরু করেন এবং তার অনুপ্রেরণায়ই রোকেয়ার সাহিত্য জীবনের সুত্রপাত ঘটে।

সাহিত্যিক হিসেবে বেগম রোকেয়ার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯০২ সালে। কলকাতা থেজে তার প্রথম গ্রন্থ “পিপাসা” নভপ্রভা পত্রিকায় ছাপা হয়। এর পর থেকে তার একের পর এক সাহিত্য প্রকাশিত হতে হবে। তার প্রথম ইংরেজি গ্রন্থ “সুলতানাজ ড্রিম “। এ বইতে তার নারীবাদী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে এবং ধীরে ধীরে তিনি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করেছিলেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।১৯৩০ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে রোকেয়া বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন, যা সে যুগের পরিপ্রেক্ষিতে ছিলো দুঃসাহসিক কাজ।তিনি নারীশিক্ষা ও স্বাধীনতা নিয়ে অনেক কাজ করেছেন।১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া মৃত্যুবরন করেন। তার অপরিহার্য অবদানের জন্য প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *