বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সহজ উপায়

‘লোন’ এই শব্দটির সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত যার অর্থ হচ্ছে ‘ধার করা’ বা ‘ঋন করা’। সাধারণত কোনো ব্যাবসায়িক বা ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে যখন অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন হয় তখন লোন নেওয়া হতে পারে একটি উপায়। লোন কোনো ব্যাক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া যেতে পারে। ইদানিং কালে লোন নেয়ার জন্য মানুষের কাছে বেশি ভরসাযোগ্য স্থান ব্যাংক। তবে এমনি এমনিই তো লোন পাওয়া যাবেনা। তার উপর আবার সুদ সহ লোন পরিশোধ ও করতে হবে। তাই লোন নেওয়া আগে কিভাবে, কোন সেক্টরে লোন নিতে হবে, কিরকম সুদ প্রদান করতে হবে এ সব ব্যাপারে জেনে নেওয়া ই নিরাপদ।

প্রথমেই জানতে হবে একটি ব্যাংক মুলত কি কি ধরনের লোন দিয়ে থাকে এবং রিকুয়ারমেন্টস গুলো কি কি।সকল ব্যাংক সাধারণত সব ধরনের লোনের সুবিধা দেয় না আবার সব ব্যাংকে সুদের হার ও এক নয়। তাই এই বিষয় গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকলে তাহলেই খুব সহজ উপায়ে লোন নেওয়া সম্ভব।

মুলত লোন তিন ধরনের হয়ে থাকে যা হচ্ছে ‘দীর্ঘমেয়াদী লোন ‘, ‘মধ্যমেয়াদী লোন ‘ ও ‘স্বল্পমেয়াদী লোন’।

১ বছরের বেশি সময়ের জন্য কোনো লোন নিলে তা হবে দীর্ঘমেয়াদী লোন।

১-৫ বছরের মেয়াদের লোন হচ্ছে মধ্যমেয়াদী লোন।

১ বছরের কম সময়ের জন্য কোনো লোন নিলে তা স্বল্পমেয়াদী লোন।

এছাড়াও লোনের আরও একটি প্রকারভেদ আছে যা হচ্ছে ‘সি সি লোন’। সি সি লোন দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে আবার স্বল্প মেয়াদি ও। এতে মুলত যেকোনো ব্যাক্তিগত সম্পদ যেমন বাড়ি,জমি, অলংকার এসব ব্যাংকের কাছে জামানত রেখে লোন গ্রহন করা হয়। এতে সুদের হার কিছুটা কম পড়ে।

ব্যাংক থেকে যে সব ধরনের লোন নেওয়া যায় –

হোম লোন : বাড়ি কেনা বা বাড়ি তৈরির জন্য এ লোন নেওয়া হয়।

অটো লোন : অটোমোবাইল বা গাড়ি কেনার জন্য।

প্রবাসী লোন: বিদেশে যাওয়ার জন্য এ লোন নেওয়া হয়।

শিক্ষা লোন : পড়াশুনার জন্য এ লোন নেওয়া হয়।

পার্সোনল লোন : ব্যাক্তিগত যে কোন কাজের জন্য এ লোন নেওয়া হয়।

বিজনেস লোন: ব্যাবসার ইনভেস্ট করার জন্য কিংবা ব্যাবসা শুরু করার জন্য এ লোন নেওয়া হয়।

কৃষি লোন: কৃষি কাজের সরঞ্জাম কেনার জন্য এই লোন নেওয়া হয়।

কুইক লোন: কেউ অসুস্থ হলে বা হঠাৎ করে টাকার প্রয়োজন হলে কুইক লোন নেওয়া যায়।

এবার আসা যাক ব্যাংক থেকে কিভাবে লোন নেওয়া যায়।

লোন নেওয়ার জন্য সবার প্রথমেই আপনার প্রয়োজন বিবেচনা করতে হবে। ঠিক কি কাজের জন্য আপনি লোন নিতে চাচ্ছেন এবং কোন কোন ব্যাংকে সেই লোনের সুবিধা পাবেন সে সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে।

যেহেতু লোন পরিশোধ অবশ্যই সুদসমতে করতে হবে। তাই নিজের সুবিধার জন্য কোন ব্যাংকে সুদের হার কত সে সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সহজ উপায়

যেমন –

* ব্রাক ব্যাংকে সুদের হার ১০.৫০% থেকে ১২.৭৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

* বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সরাসরি কৃষি লোন দিলে সুদের হার ৯% এবং এনজিও এর মাধ্যমে দিলে সুদের হার ২৫% পর্যন্ত হতে পারে।

* বেসিক ব্যাংকে সুদের হার ১১-১৭% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

* এবি ব্যাংকে সুদের হার ৮-১০% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

* ঢাকা ব্যাংকে সুদের হার ৪-৮.৫০% হয়ে থাকে।

* সোনালী ব্যাংকে ৮.৫০% পর্যন্ত সুদের হার হয়ে থাকে।

* পূবালী ব্যাংকে ৬-৭.৫০% সুদের হার।

* ব্যাংক এশিয়ায় ৫.৫০%-৬.৭৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

* অগ্রনী ব্যাংকে ৫.২৫% সুদের হার।

* রুপালী ব্যাংকে সুদের হার ৬% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

লোন নেওয়ার জন্য বিভিন্ন শর্ত পুরন করতে হয়। তা সব লোনের জন্য কিছু কিছু আলাদা শর্ত থাকে। এসব শর্ত সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

সব কিছু বিবেচনা করে যে ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান সেখান থেকে লোনের জন্য আবেদন ফর্ম নিতে হবে। তা যথার্থ ভাবে পুরন করতে হবে। লোন নেওয়ার কারন সমূহ সঠিক ভাবে বর্ননা করতে হবে।

লোন নেওয়ার জন্য সাধারণত যেসব ডকুমেন্টস লাগে তা সাবমিট করতে হবে। যেমন –

* যথাযথ ভাবে পূরন করা আবেদন ফরম টি।

* আবেদনকারীর ছবি।

* জাতীয় পরিচয় পত্র এবং অফিস আইডি।

* স্যালারি সার্টিফিকেট।

* পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি।

* টি আই এন বা আয়কর রিটার্নের ফটোকপি।

* ব্যাংক অনুসারে দাবী করা আরও অন্যান্য কিছু প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *