ভালোবাসার কাল্পনিক গল্প ‘গুডবাই সুমি’

114

—মোঃ ফিরোজ খান

বর্তমান সমাজের মধ্যে ঘটে থাকে বিভিন্ন ঘটনা, সেই ঘটনার একটি বহু আলোচিত ঘটনা হলো সমাজের মধ্যে প্রেম নিয়ে ছিনিবিনি খেলা,আর অবশেষে সেই প্রেমকে অপমান করে পালিয়ে যাওয়া পরবর্তীতে সেই পবিত্র প্রেমের মৃত্যু হয়ে যাওয়া।আমি মাঝে মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কল্পনা করে থাকি তবে এবারের কাল্পনিক বিষয়টি বেশ অন‍্যরকমের এবং জটিল তবুও চেষ্টা করেছি আমাদের সমাজের মধ্যে বসবাস করা কিছু অমানুষের মুখোশ খুলে দিতে যাতে করে মানুষ নামের অমানুষের হাত থেকে এই সমাজের মধ্যে বসবাসরত বিভিন্ন মা,বোনদের ইজ্জত রক্ষা পেতে।সমাজের মধ্যে চলাচল করতে সুন্দরী বোনেরা যেনো একটু সর্তকতা অবলম্বন করে তাদের জীবন পরিচালনা করতে পারেন।

এইটুকু চেষ্টা শুধু আমার।গল্পটি কাল্পনিক ভাবে ফুটিয়ে তুলেছি প্রেমের গল্পের কথামালায়।যে কথামালা দিয়ে লিখতে পেরেছি ছোট ভালোবাসার ছলনাময় গল্পের প্রেম কাহিনী।প্রিয় পাঠক,বন্ধু মহোদয় এই কাল্পনিক গল্পের সবকিছুই কল্পনায় সাজানো হয়েছে তবুও আমাদের সমাজের মধ্যে অহরহ ঘটে যাচ্ছে এই কাল্পনিক গল্পের মতোই সত্য ঘটনা।গুডবাই সুমি গল্পের ঘটনার সঙ্গে এই কাল্পনিক গল্পের নাম ভুমিকায় যে সকল লোকদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সকলের নামই কাল্পনিক ভাবে লেখা হয়েছে।তবুও যদি অনেকের নামের সাথে গল্পের কাহিনীর সাথে মিলে যায় আর নামের সঙ্গে যদি মিল থাকে তাহলে প্রিয় পাঠক আপনারা কিছু মনে করবেন না।আমাকে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠকদের কাছে আমি শুরুতে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আপনারা সকলেই আমাকে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।এছাড়াও যদি কোনো ভুল ক্রটি আপনাদের দৃষ্টিতে পরে থাকে সেই ভুলগুলো ফুল ভেবে শুধরে নিবেন।তাহলে চলুন গল্পের শুরুটা কি দেখে নেই……..।

“প্রেমের অভিনয়!জীবন সাজে ছলনায় !
অবশেষে সুন্দরী বোনদের স্থান হয় পতিতালয়ে ;
নয়তোবা বিদেশে পাচার হয়ে চলে যেতে হয় সবাইকে ছেড়ে।

রং নাম্বারে কল করতে,করতে অবশেষে একজন সহজ সরল মেয়েকে কিভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে পারে সেই রূপ রেখা তুলে ধরতে আমার লেখা ছোট কাল্পনিক ভালোবাসার গল্প।সত্যিই অদ্ভুত আমাদের সমাজ, অদ্ভুত আমাদের মানব জীবন।কতনা রূপে রূপান্তরিত হয়ে থাকি আমরা।আর এর শেষ কাহিনী কতটা বেদনার,বেমানান ও নিকৃষ্ট তা আপনারা পুরো গল্পটি না পড়ে হয়তোবা বুঝতে পারবেন না।এবং কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।আসুন গল্পের কথাগুলো ১০ মিনিট সময় নিয়ে একটু পড়ে দেখি সবাই।

কারণ অকারণে অনেক সময় আমাদের মোবাইলে মিস কল আসে আর যখনই ফোন রিসিভ করা হয় তখনই ওপাশ থেকে ভেসে আসে দুখিত রং নাম্বার।এভাবে রং নাম্বার থেকে কল আসে প্রায় সময়,হয়তোবা আমরা প্রথম প্রথম এরিয়ে যাই সেই অচেনা নাম্বার থেকে কল আশা দেখতে পেয়ে, আমরা হয়তোবা সহজে ফোন রিসিভ করিনা।তবে এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে একদিন,দু,দিন,তিন দিন এমনকি এক সপ্তাহের বেশি দিন থেকে যদি অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসতে থাকে তাহলে বিরক্ত হয়ে হলেও এক দিন সেই ফোন আমরা রিসিভ করে থাকি।আর এটা বিশেষ করে বাসাতে যে মা অথবা বোন থাকেন তারাই ফোন রিসিভ করে থাকেন।ঠিক তদ্রুপ ভাবে গুডবাই সুমি কাল্পনিক গল্পটির মধ্যে ফেসে গিয়েছিলেন কলেজে পড়ুয়া মা,বাবার আদরের একমাত্র সুন্দরী মেয়ে সুমি।তাকে নিয়ে লেখা কাল্পনিক গল্প গুডবাই সুমি।চলুন দেখা যাক ফোন রিসিভ করার পরে কি হয়েছিল সুমি ও সুমনের মধ্যে।

ফোনে কথা শুরু হলো,এভাবে চলতে ছিলো ফোনে প্রেম আলাপণ।তবে ফোনে যেনো মন ভরে উঠে ছিলনা দুজনের।তাই সিদ্ধান্ত নিলো এবার দেখা করবেন দুজন।যেই কথা সেই কাজ।

সুমি তুমি আসতে এতোটা দেরি করলে যে,সুমন? এই সুমন হলো গল্পের ভন্ড নায়ক যার কাল্পনিক নাম দেওয়া হয়েছে সুমন। নায়কের ভুমিকায় ছিলো গুডবাই সুমি গল্পের মাঝে। সুমন ছিলো গল্পের ভন্ড নায়ক। সুমি আর এই সুমি হলো গল্পের কাল্পনিক নায়িকা,গল্পের মূল এবং নাম ভুমিকায় নায়িকার অভিনয় দেওয়া হয়েছে।

সুমন:-সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি তোমার জন্য, তোমাকে সরাসরি দুচোখ ভরে দেখবো,মন ভরে কথা বলবো দুজন, দুজনায় হারিয়ে যাবো।তাহলে এতোটা দেরি হলো কেনো লক্ষীটি?
সুমি:বাসাতে মেহমান ছিলো, এছাড়াও একটু কাজ ছিলো।

সুমন:ও,আচ্ছা!তাহলে বলো সুমি তুমি কি খাবে?সুমি:-না,কিছু খাবনা!আমি বাসা থেকে খেয়ে এসেছি।সুমন তুমি আমাকে ডেকেছো কেনো তাই বলো?

সুমন:-শোনো সুমি আমাদের দুজনের মধ্যে এক হিসেবে রং নাম্বারে পরিচয়,অবশেষে দু মাসের মধ্যে ফোনে আলাপ করেই আমাদের প্রেম।সুমি:- তাহলে আজকে চলে যাই বাসায় মেহমান আছে?সুমন:-যাবে!আচ্ছা ঠিক আছে যাও তাহলে লক্ষীটি।আবার কবে দেখা হবে আমাদের?সুমন।

এভাবেই তাদের দুজনের মধ্যে ছয়বার দেখা হয়ে গেলো।এর আগে বেশিরভাগ সময়ে দুজনের মধ্যে ফোনে বেশি কথা হতো।সুমন:-সুমন ছিলো পাক্কা অভিনেতা,সে মুখের কথায় অনেক সুন্দরী মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতে পারেন।আর এভাবেই খুব সহজে অনেক মেয়েরা সুমনের বিষয়ে জানতে পারতোনা।আর একদিন দুজন এক সঙ্গে হলো……।

সুমন:-তোমার চোখে যেনো আমার ছবি দেখতে পাই,সুমি।

সুমি:-আমি কি খুবই সুন্দরী?সুমন?
সুমন:-তুমি যেনো ঐ দূর আকাশের উজ্জ্বল তারকার মতোই,তুমি যেনো ভোরের কুয়াশার শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় টলমল করা মুক্তোর মতোই,তোমার চোখ দুটি যেনো হরিণের চোখের মতোই।সত্যিই তুমি যেনো আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী।

সুমি:ওহ্,আমি বুঝতে পেরেছি,তুমি এসব কিছু মিথ্যা বলছো,তুমি শুধু আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার জন্য এভাবে বলছো?তাইনা সুমন?

সুমন:-এসব কি বলছো তুমি সুমি?
সুমি:-ঠিকই বলছি।কেননা বর্তমানে তোমাদের মতো ছেলেরা আমাদের মতো সহজ সরল মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে যখনই তোমাদের মনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে যাবে তখনই তোমরা আমাদের মতো মেয়েদের ফেলে রেখে চলে যাও।ঠিক যেনো ময়লার ডাস্টবিনের মতোই।

সুমন:-তুমি আমাকে ছোট করছো সুমি?আমার ভালোবাসাকে অপমান করছো?ঠিক আছে
তুমি যদি আমাকে বিশ্বাস না করে থাকো তাহলে চলো আমরা আজই বিয়ে করে ফেলি।
সুমি-:সুমনের মুখ থেকে এই ধরণের কথা শুনতে পেয়ে চুপ হয়ে গেলো,কিছু ক্ষণ পরে সুমি সুমনকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকলো আমি তোমাকে পরীক্ষা করছিলাম তুমি পরীক্ষায় পাশ করেছো এখন পুরোপুরি ভাবে আমি তোমাকে বিশ্বাস করে ফেলছি..সুমন তোমার বুকে একটু মাথা রাখবো আমার খুবই ইচ্ছা করছে?সুমন মনে মনে বলতে থাকলো আমিতো এই কথা টুকু শুনতে চেয়েছি এতোক্ষন ধরে।সুমন:-ঠিক আছে সুমি তুমি বুকে মাথা রেখো আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই।কিছু সময় এভাবে দুজন হারিয়ে যায় ভালোবাসার গভীর মোহনায়।কিছু সময় পরে সুমি নিজ থেকেই সুমনকে বললো।শোনো সুমন,আমি তোমাকে পরীক্ষা করেছি,আর সেই পরীক্ষায় তুমি একশত নাম্বারের মধ্যে পুরোপুরি ভাবে একশত নাম্বার পেয়ে ভালো ভাবে পরীক্ষায় পাশ করেছো।

সুমি;-আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি সুমন।সত‍্যিই আমি যেনো এই পৃথিবীতে তোমাকে ছাড়া একটি মূহুর্তের জন্য বেচেঁ থাকতে পারবোনা।সুমন, তুমি আমাকে কখনও ছেড়ে যাবেনাতো?ভালোবাসা কাকে বলে তুমি শিখিয়েছো আমাকে।আমি কখনোই ভালোবাসা কাকে বলে জানতাম না।আই লাভ ইউ সুমন।

সুমন:-মনে মনে বলতে থাকে,আমি তোমাকে কখনও ভালোবাসিনি, আজই আমার ভালোবাসা শেষ হবে, আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো লক্ষী।কেননা এভাবেই আমার প্রেমকাহিনী চলে আসছে অনেক বছর থেকেই,এটাই আমার ভালোবাসার ছলনা এবং একটি ব‍্যবসা।আর তোমার মতো সুমি কতজন আসলো আর গেলো আমার জীবনে অবশেষে স্থান হলোঃ কোনো পতিতালয়ে, নয়তো বিদেশে ঐ সকল মেয়েদের খোঁজ আজও কেউ জানতে পারেনি।আর তুমি সে তো বাচ্চা মেয়ে ! সুমন এসব কথা মনে মনে ভাবতে থাকে আর মনে মনে হাসতে থাকে।এরপর হঠাৎই বলে উঠলো সুমন।সুমির আবেগের কথাগুলো শুনে সুমন সুমিকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে।

এভাবে বলছো কেনো সুমি?
তোমার এই কথা শুনে আমার দুচোখে পানি চলে এলো,সুমি একটু তাকিয়ে দেখোনা আমার চোখের পানে?

সুমন:-সুমি শোনো আমি যদি তোমাকে ছেড়ে চলে যাই,তবে যেনো সেই চলে যাওয়া হয় আমার জীবনের শেষ যাওয়া সুমি।

সুমি:-সুমনের মুখটি চেঁপে ধরে বললো না সুমন তুমি ওভাবে বলোনা।আমি যে কিছুতেই তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবোনা।একথা বলেই সুমি তার মাথা সুমনের বুকের মাঝে রাখলো।
সুমি:-সুমন তুমি সাড়াটি বছর এভাবেই তোমার বুকের গভীরে আমাকে লুকিয়ে রেখো।
কখনও আমাকে ছেড়ে যেওনা?
যাবে বলো তুমি আমাকে ছেড়ে?এভাবে বলে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো সুমি আর সুমন।তুমি কখনও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না সুমন?তাহলে আমার মরণ ছাড়া কোনো উপায় থাকবেনা।

সুমন:-অভিনয়ের ভঙ্গিতে বলতে থাকে।না সুমি,আমি কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যেতে পারবোনা।তুমি যে আমার জানের জান,প্রাণের প্রাণ।

সুমন:-এইতো লক্ষী আর কটা দিন,তার পরই তোমাকে বউ করে নিয়ে যাবো আমার ঘরেতে।কি খূশীতো এবার লক্ষীটি?যাবেনা আমার ঘরে বউ হয়ে?সুমি:-লজ্জায় মাথা যেনো আরো জোরে চাপদিয়ে ধরে রাখলো সুমনের বুকের মধ্যে।

সুমন:ওহ্ তোমাকে তো একটি কথা বলা হয়নি সুমি।

সুমি:-কি কথা? বলোনা সুমন? আমার যে আর অপেক্ষা সইতে চাইছেনা।
বলোনা সুমন?তাড়াতাড়ি বলো?
সুমন:-চলো তোমাকে আজ আমি নতুন এক যায়গায় নিয়ে যাবো,তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো।
সুমি:- সত্যি সুমন তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিবে?
তাহলে চলো যাই।কোথায় নিয়ে যাবে আমাকে?
তুমি যেখানেই আমাকে নিয়ে যাবে আমি সেখানেই যাবো’শুধুমাত্র তোমার সাথে।

সুমন:-ঠিক আছে চলো।
সুমন:-রিস্কাডাকলো,এই যাবে মতিঝিল?চলেন স‍্যার,দুজনে রিস্কায় বসে মতিঝিল রওয়ানা হলো।
কিছু ক্ষণের মধ্যে মতিঝিল গিয়ে পৌঁছালো দুজনে।

রিস্কা থেকে নেমে হাটতে শুরু করলো একটি সরু গলি দিয়ে দুজন।কিছু দূর যাওয়ার পরে সুমন বললো ঐ যে আমার অফিস।ঐ ৭ তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলৈ পুরোটা।
সুমি:- সুমন কই তুমি তো কখনও আমাকে বলোনি?

সুমন:-এমনিতেই বলিনি পাগলি।
যদি বলে ফেলতাম তাহলে,সেটা যে কখনও সারপ্রাইজ হতোনা।
সুমি:- ওহ্ আচ্ছা ঠিক আছে।তাহলে চলো যাওয়া যাক তোমার অফিসে।

সুমন;:-চলো,
অফিসে ঢুকতেই সুমি দেখতে পেলো তার মতো আরো মেয়ে আছে সুমনের অফিসের মধ্যে।
দেখতে একটু আন‍্য রকমের।
জিনসের প‍্যান্ট,ও হাতা কাটা টি শার্ট পরা ঠিক মডেল দেখতে প্রায় মেয়েরা।

হাটতে হাটতে যখনই অফিসের একটু সামনে এগুলো তখনই তাদেরকে দেখে একজন বলে উঠলো।কি ব‍্যাপার সুমন ভাই হুবু ভাবি বুঝি?তবে সুমন ভাই মিষ্টি কিন্তু খাওয়াতে হবেই।তানাহলে আমরা আপনার সাথে খুবই রাগ করবো।
সুমন:-না,বাদল ভাই কি যে বলেন?
আমি আপনাদের আজই মিষ্টি খাওয়াবো।
বাদল:-সত্যি বলছেন সুমন ভাই?
সুমন:-শুধু সত্যি নয়।আজকে আপনাকে আমি নিজে মিষ্টির দোকানে নিয়ে গিয়ে
পেট ভরে মিষ্টি খাওয়াবো।
কথা বলতে বলতে সুমন ও সুমি গিয়ে একটি রূমে প্রবেশ করলো সঙ্গে বাদল সাহেব গিয়ে ঢুকে পড়লো।

সুমন:-সুমি আজকে আমি আমার অফিস কলিকদের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিবো।
এই হলো রন্তা, ও বেশ কয়েক বছর থেকে এই অফিসে কাজ করে আসছে।
আর এই হলো নিশি ও নতুন তবুও এক বছর হলো ওর চাকুরীর বয়স।

সুমি ওদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতে লাগলো।তখনই মনে মনে সুমন, বলতে লাগলো,হায়রে প্রেম,হায়রে ভালোবাসা।আজই এই প্রেম ভালোবাসা শেষ হবে।মনে মনে হাসতে লাগলো সুমন।

সুমন:-সুমি তুমি একটু বসে ওদের সঙ্গে আড্ডা দিতে থাকো।আমি বাদল ভাইকে পেট ভরিয়ে মিষ্টি খাইয়ে নিয়ে আসি।
সুমি:-ঠিক আছে তুমি মাও।তবে একটু তাড়াতাড়ি এসো সন্ধ্যা হয়ে আসলো।
সুমন:-তুমি চিন্তা করোনা।আমি যাবো আর আসবো।

এই বলে সুমন ও বাদল সাহেব বেড়িয়ে পড়লো।
রাস্তায় গিয়ে বাদল সাহেব বললো,সুমন ভাই আপনি চলে যান একটি সিএনজি নিয়ে।আর এই নিন পাচ লক্ষ্য টাকার চেক।আপনি যাওয়ার পথে ব‍্যাংক থেকে তুলে নিয়ে চলে যান।আর শুনুন সবসময়ের মতো আপনি আপনার সিম পরিবর্তন করে ফেলুন।আমি দূখছি কিভাবে ওকে দিয়ে কাজ শুরু করা যায়।তবে বেশ সুন্দরী ওনেক লাভ হবে আমাদের‌।কেননা ওর মতো কাচা বয়সের মেয়েদের চাহিদা অনেক বেশি থাকে।এখানে ভালো একটি আবাসিক হোটেলে ওকে বিক্রি করে দিবো নয়তোবা বিদেশে পাচার করে দিয়ে পঞ্চাশ লক্ষ্য টাকা কামিয়ে নিবো।সুমন:ঠিক বলেছেন বাদল ভাই।তবে ওকে খসাতে অনেক কষ্ট হয়েছে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস সময় ব‍্যয় হয়েছে আমার।

গুডবাই সুমি।এই হলো আমাদের সমাজের লম্পট কিছু মানুষ নামের অমানুষদের প্রেমকাহিনী।সুমন আর বাদল অট্টোহাসিতে হেসে উঠলো হা হা হা ।এভাবেই অট্টহাসিতে সুমন ও বাদল হাসতে হাসতে এক রকমের পাগলের মতো হয়ে গেলো।

লেখকের কিছু কথামালা:

এই হলো আমার কাল্পনিক ছোট শিক্ষণীয় একটি গল্পের কথামালা।প্রিয় পাঠক আমি চেষ্টা করেছি এই সমাজের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা নিয়ে এভাবেই ঘটে থাকে নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ আর যার পরিনতি হয় খুবই খারাপ।সমাজের মধ্যে এখনও সুন্দরী মেয়েদের ফোন নাম্বার নানা কৌশলে সংগ্ৰহ করে থাকে সমাজের মধ্যে বসবাস করে থাকা একটি দল।তারা নানা ভাবে নানা কৌশল অবলম্বন করে মেয়েদের মোবাইল নাম্বার সংগ্ৰহ করে মেয়েদের মোবাইলে কল দিয়ে থাকে,আর যখনই দূর থেকে সুন্দরী মেয়েদের কন্ঠস্বর শুনতে পায়।ঠিক তখন থেকেই চেষ্টা চলে সুন্দরী মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে ।আর যখনই ফাঁদে পরে যায়,তখনই তাদের জীবন নিভে যায় কালবৈশাখী ঝড়ে।কেউ হয়ে যায় পতিতালয়ের দেহ ব‍্যাবসাহী আবার কেউ হয়ে যায় পাচার বিদেশে।আমি জানিনা কতটুকু পেযরেছি এই সমাজের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার রূপ রেখা কাল্পনিক ভাবে তুলে ধরতে !তবে আমার এই লেখার মাধ্যমে কিছুটা হলেও সমাজের রূপ রেখা পরিবর্তন হবে এবং সুন্দরী মেয়েরা কিছুটা হলেও সর্তকতা অবলম্বন করে তাদের জীবন সাজাতে পারবে সৎ ও নিষ্ঠাবান পুরুষের সাথে প্রেম ভালোবাসা গড়ে তুলতে।অবশ্যই সুখী হবে সমাজের প্রতিটি মেয়ে আর তখনই আমাদের সমাজের সুন্দরী ও লাজুক লজ্জাবতী মেয়েরা স্বাধীন ভাবে তাদের মনের মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করতে পারবে।এই কামনা করে আমি আমার সামান্য কাল্পনিক ভালোবাসার গল্পের সমাপ্তি টানবো।ধন্যবাদ জানাই সকল ভাই,বোন,প্রিয় বন্ধ ও প্রিয় পাঠকদেরকে।

লেখক সাংবাদিক