বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

মসজিদের শহর বাগেরহাট

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত বাগেরহাট জেলার অন্তর্ভুক্ত বাগেরহাট শহরের একটি অংশ ছিল এই শহরটি। বাগেরহাট খুলনা থেকে ১৫ মাইল দক্ষিণ পূর্ব দিকে এবং ঢাকা থেকে ২০০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। এই শহরের অপর নাম ছিলো খলিফতাবাদ এবং এটি শাহী বাংলার পুদিনার শহর নামেও পরিচিত ছিল। ১৫শ শতকে তুর্কি সেনাপতি খান-ই-জাহান এই শহরটি গড়ে তোলেন।

বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া ১৫টি শহরের একটি তালিকা তৈরী করেছিলো ফোর্বস। ৫০টির বেশি ইসলামিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরী এই শহরটি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে এই শহরটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয় “স্থাপত্য কর্মের একটি অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে যা মানব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বর্ণনা করে। ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ অন্যতম পরিচিত।

আজকের বাগেরহাটের ইতিহাসের সন্ধান রয়েছে সুলতান নাসির আল-দীন মাহমুদ শাহ্‌ এর বাংলা সুলতানাত এ। ১৫ শতাব্দীতে সুলতানাতের একজন প্রশাসক উলুঘ খান জাহান (১৪৩৩–১৪৫৯) এই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। তার কবরে ১৪৫৯-কে তার মৃত্যুর সাল উল্লেখ করা হয়েছে যা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে শহরটি ১৫ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়।

শহরটির পরিকল্পনায় ইসলামিক স্থাপত্যরীতির প্রভাব আছে। বিশেষত মসজিদের কারুকার্যে মুঘল এবং তুর্কী স্থাপত্যরীতির প্রভাব আছে। এই শহরে ৩৬০টি মসজিদ, অসংখ্য সরকারি ভবন, গোরস্থান, সেতু, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলাধার ছিল। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল পোড়ামাটি দিয়ে যেগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী লবণাক্ত পরিবেশ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বাগেরহাটে ঠাকুর দিঘি নামে একটি স্বাদু পানির জলাশয়ের পূর্ব তীরে অবস্থিত ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম। নয় গম্বুজ মসজিদ ১৫ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। এটি ঠাকুর দিঘি নামে পরিচিত একটি দিঘীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এই মসজিদটির কাছেই খান জাহান আলীর মাজার রয়েছে।

ষাট গম্বুজ মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে অগ্রসর হলে দেখা যাবে সিংগরা মসজিদ। এই মসজিদের একটিমাত্র গম্বুজ রয়েছে যা দৃঢ় ভাবে নির্মিত। ইউনেস্কো এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ষাট গম্বুজ মসজিদের সামনে একটি ছোট জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে। ছয়-গম্বুজ মসজিদ (রেজাখোদা মসজিদ নামেও পরিচিত) ১৫ শতাব্দীতে “ঠাকুর দিঘী” পুকুরের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মসজিদের ছয়টি কলাম ছিল যা পাথরের কলামের সহায়তায় টিকে থাকত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *