বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

মৃৎ শিল্পের আদি- শেষ ইতিহাস

মৃৎ মানে মাটি এবং মাটি দিয়ে যেকোনো কিছু তৈরির শিল্প হচ্ছে মৃৎশিল্প। এটি বাংলার অনেক প্রাচীন একটি শিল্প। সাধারণত এঁটেল মাটি বা চীনা মাটি মৃৎশিল্পে বেশি ব্যাবহৃত হয়। মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা যায় যেমন হাড়ি-পাতিল,বাটি, সরা, ফুলদানি, পুতুল,কলস চামচ,প্লেট, বিভিন্ন ঘর সাজানোর উপকরন আরও অনেক কিছু। বাংলাদেশের মৃৎশিল্প অনেক ঐতিহ্যবাহী একটি শিল্প।

ইংরেজিতে মৃৎশিল্পকে ‘পটারি’ বলা হয়। যারা মূলত ব্যবসায়িক কাজে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে থাকে তাদেরকে ‘কুমোর’ বলা হয়। মৃৎশিল্পে ক্ষেত্রে প্রথমে মাটি দিয়ে জিনিসপত্রের আকৃতি দেওয়া হয় এবং তারপর তা আগুনে পোড়ানো হয়। এতে করে জিনিসটির কাঠিন্য এবং দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায় ফলে জিনিসটি স্থায়ী হয় এবং সহজে ভাঙার সম্ভাবনা থাকেনা। এছাড়াও এসকল মাটির জিনিসপত্র উপরে বিভিন্ন ধরনের নকশা করা যায় যার ফলে এর শৈল্পিকতা বৃদ্ধি পায়।

কুমিল্লা অঞ্চলে প্রথম মৃৎশিল্প শুরু হয়েছিলো এমনকি মহাস্থানগড়ে প্রচুর মৃৎশিল্পের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিলো। কুমিল্লার ঐতিহ্য হচ্ছে মৃৎশিল্প। কুমিল্লার বিজয়পুর গ্রাম থেকেই মৃৎশিল্প যাত্রা শুরু হয়েছিলো।ষাটের দশকে যখন মৃৎশিল্প হারাতে বসে তখন ১৯৬০ সাথে ব্রাক্ষ্মনদের হাত ধরেই কুমিল্লায় গড়ে ওঠে ‘প্রগতি যুব সংগঠন, ঠাকুরপাড়া ‘ নামক একটি সমবায় সমিতি। এর পরে বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বা বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খান শিল্পভিত্তিক সমবায় গঠনে জোর দেন এবং ১৯৬১ সালের ২৭ এপ্রিল কুমারদের সাতটি গ্রাম নিয়ে ‘প্রগতি যুব সংগঠন ‘ নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরে অনেক উথান পথন হয় এবং এক সময় দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিজয়পুরের মৃৎশিল্প বিদেশেও খ্যাতি অর্জন করেছে।
আমাদের সংস্কৃতির সাথে গভীর ভাবে যুক্ত এই মৃৎশিল্পের প্রসার আগের মতো না থাকলেও এখনো গ্রামবাংলায় বা শিল্পপ্রেমি মানুষদের কাছে মৃৎপাত্র প্রচলিত আছে। বাংলার অনেক গ্রামে ‘কুমাড় পাড়া ‘বা ‘পালপাড়া ‘রয়েছে যেখানে মুলত কুমাররা বসবাস করে এবং মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে এবং সেখান থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয় মাটির তৈরি জিনিসপত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *