যে কারনে ইউরোপে খেলেছিলেন না পেলে

যে কারনে ইউরোপে খেলেছিলেন না পেলে
সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলে।

ব্রাজিলের হয়ে তিনি ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি ব্রাজিলের জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও তিনবার বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার। বিশ্বকাপ শেষ হলো, কিছু দিন পরই ৮২ বছর বয়সে আজ চলে গেলেন পেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো। পরে তাঁর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও জানানো হয় এ খবর।

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলে। তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলারও হয়তো। কিন্তু একই কাতারের অন্য ফুটবলারদের সাথে এক জায়গায় অমিল তার। ফুটবলের বড় সব তারকাই যেখানে ইউরোপিয়ান ফুটবল মাতিয়েছেন, সেখানে পেলেকে কখনো দেখা যায়নি। প্রায় পুরো ক্যারিয়ার পার করেছেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব এফসি সান্তোসেই।

অথচ দিয়েগো মারাদোনা বার্সেলোনা ও নাপোলিতে খেলেছেন। এমনকি পেলের আবির্ভাবের আগেই ইউরোপের ফুটবল রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনারই আরেক মহাতারকা আলফ্রেদো দে স্তেফানো। তাহলে পেলে কেন দেশ ছাড়েননি?

ইউরোপের বিখ্যাত অনেক ক্লাবই পেলেকে দলে পাওয়ার জন্য ছিল উন্মুখ। ‘ফুটবলের রাজা’র জন্য সান্তোসের দরজায় গিয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ। তরুণ বয়সেই পেলেকে দলে ভেড়াতে সে সময়কার অভাবনীয় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল ধনাঢ্য ইতালিয়ান ক্লাবগুলো। তবে কোনো প্রস্তাবেই ফল মেলেনি।সেই সময়ে ফুটবলারদের ক্লাব বদলের বিষয়টি ছিল বেশ ঝামেলাপূর্ণ। খেলোয়াড়ের চেয়ে ক্লাবের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাছাড়া পেলেকে সেদেশে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত যে সরকার থেকেই নেয়া হয়েছিল। ১৯৬১ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জানিও কোয়াদ্রস পেলেকে ‘রপ্তানিঅযোগ্য জাতীয় সম্পদ হিসেবে’ বলে ঘোষণা করেন। ফলে প্রায় দুই দশক সান্তোসেই ফুটবল ক্যারিয়ার কাটে পেলের।

অবশ্য ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দেশ ছেড়েছিলেন পেলে। ১৯৭৫ সালে অবসর ভেঙে ফিরে সবাইকে চমকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দিয়েছিলেন ফুটবলের রাজা।

জুভেন্টাসে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা ২০১৮ সালেও বলেছেন পেলে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর পেলে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো, তোমার জন্য শুভকামনা। ব্যাপারটা অন্যরকমও হতে পারত। আমিও ওল্ড লেডিদের হয়ে খেলতে পারতাম। ১৯৬১ সালের এক সন্ধ্যায় ফিয়াটের মালিক সান্তোস প্রেসিডেন্টের কাছে আমাকে মিলিয়ন ডলার দিয়ে কিনতে চেয়েছিল।’

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

যে কারনে ইউরোপে খেলেছিলেন না পেলে

যে কারনে ইউরোপে খেলেছিলেন না পেলে
সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলে।

ব্রাজিলের হয়ে তিনি ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি ব্রাজিলের জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও তিনবার বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার। বিশ্বকাপ শেষ হলো, কিছু দিন পরই ৮২ বছর বয়সে আজ চলে গেলেন পেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো। পরে তাঁর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকেও জানানো হয় এ খবর।

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলে। তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলারও হয়তো। কিন্তু একই কাতারের অন্য ফুটবলারদের সাথে এক জায়গায় অমিল তার। ফুটবলের বড় সব তারকাই যেখানে ইউরোপিয়ান ফুটবল মাতিয়েছেন, সেখানে পেলেকে কখনো দেখা যায়নি। প্রায় পুরো ক্যারিয়ার পার করেছেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব এফসি সান্তোসেই।

অথচ দিয়েগো মারাদোনা বার্সেলোনা ও নাপোলিতে খেলেছেন। এমনকি পেলের আবির্ভাবের আগেই ইউরোপের ফুটবল রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনারই আরেক মহাতারকা আলফ্রেদো দে স্তেফানো। তাহলে পেলে কেন দেশ ছাড়েননি?

ইউরোপের বিখ্যাত অনেক ক্লাবই পেলেকে দলে পাওয়ার জন্য ছিল উন্মুখ। ‘ফুটবলের রাজা’র জন্য সান্তোসের দরজায় গিয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ। তরুণ বয়সেই পেলেকে দলে ভেড়াতে সে সময়কার অভাবনীয় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল ধনাঢ্য ইতালিয়ান ক্লাবগুলো। তবে কোনো প্রস্তাবেই ফল মেলেনি।সেই সময়ে ফুটবলারদের ক্লাব বদলের বিষয়টি ছিল বেশ ঝামেলাপূর্ণ। খেলোয়াড়ের চেয়ে ক্লাবের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাছাড়া পেলেকে সেদেশে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত যে সরকার থেকেই নেয়া হয়েছিল। ১৯৬১ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জানিও কোয়াদ্রস পেলেকে ‘রপ্তানিঅযোগ্য জাতীয় সম্পদ হিসেবে’ বলে ঘোষণা করেন। ফলে প্রায় দুই দশক সান্তোসেই ফুটবল ক্যারিয়ার কাটে পেলের।

অবশ্য ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দেশ ছেড়েছিলেন পেলে। ১৯৭৫ সালে অবসর ভেঙে ফিরে সবাইকে চমকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসে যোগ দিয়েছিলেন ফুটবলের রাজা।

জুভেন্টাসে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা ২০১৮ সালেও বলেছেন পেলে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে যাওয়ার পর পেলে ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো, তোমার জন্য শুভকামনা। ব্যাপারটা অন্যরকমও হতে পারত। আমিও ওল্ড লেডিদের হয়ে খেলতে পারতাম। ১৯৬১ সালের এক সন্ধ্যায় ফিয়াটের মালিক সান্তোস প্রেসিডেন্টের কাছে আমাকে মিলিয়ন ডলার দিয়ে কিনতে চেয়েছিল।’

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download