রাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে সাবেক উপাচার্যের স্ত্রীর মামলা

15

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের স্ত্রী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ মোমেনা জিনাত মামলাটি করেন। পেনশনের টাকা আটকে রাখার অভিযোগে মঙ্গলবার রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ আদালত-১-এ মামলা করেন তিনি।

মামলায় উপাচার্য ছাড়া অন্য বিবাদীরা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (পক্ষে রেজিস্ট্রার) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সভাপতি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম কবীর এবং স্কুলের বর্তমান অধ্যক্ষ লিসাইয়া মেহ্‌জবীন।

মামলায় বাদী বলেছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ রাসেল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষের পদ থেকে গত বছরের ৩০ জুন পিআরএলে যান। পরে তিনি রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে পিআরএলের বিষয়টি জানান এবং নতুন অধ্যক্ষের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তিনি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীকে এককালীন অর্থ ও পিআরএলের ছুটি দিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। বাদীর অভিযোগ, রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এর কোনো জবাব পাননি।

মামলায় আরও বলা হয়, পেনশন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তির জন্য পরে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। উপাচার্যও কোনো ব্যবস্থা নেননি। উপায় না পেয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে অভিযোগ করেন বাদী। এ ছাড়া বাদী মোমেনা জিনাত উপাচার্যকে পেনশনসহ অন্যান্য পাওনা দিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েও ব্যর্থ হন বলে জানান। মোমেনা জিনাত বলেছেন, তিনি পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য ভাতা মিলে ৪৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৫ টাকা পাবেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান জানান, বিচারক জয়ন্তী রানী মামলাটি আমলে নিয়ে ১৯ অক্টোবর আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, সাবেক উপাচার্য মিজানউদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে স্কুলটি করেছেন। শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ থাকার পরও কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজ স্ত্রীকে সহযোগী অধ্যাপকের পদমর্যাদায় বসিয়েছেন। এ কারণে ইউজিসি পেনশনের অর্থ ছাড় দেয়নি। তিনি আরও বলেন, শুনেছি, মামলা হয়েছে। মামলা হলে সেটি আইনিভাবে সমাধান হবে।

তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, বেতন দেওয়ার যদি অনুমোদন না থাকে তাহলে তিনি (বর্তমান উপাচার্য) এতদিন কর্মরতদের বেতন কেন দিলেন? বর্তমান উপাচার্যের সময়ে স্কুল থেকে দু’জন শিক্ষক অবসরে গেছেন। তাদেরকে পেনশন সুবিধা দিতে সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here