বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শুক্রবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১০:৪৭ পিএম

শরতে পাহাড়ের হাতছানি

বাংলার প্রান্তর জুড়ে এখন কাশফুলের হাসিমাখা শরত্। আর এই শরতে সবুজ পাহাড় যেন সেজেছে শ্বেতশুভ্র মেঘমালায়। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রোদ মেঘ আর বৃষ্টির খেলা। করোনার কারণে মানুষের চলাচল সীমিত হওয়ায় প্রকৃতি ফিরেছে যেন নব সৌন্দর্যে। হাতছানি দিচ্ছে সবুজ পাহাড়, আর পাহাড়ি ঝরনাগুলো। অরণ্য, পাহাড়, ঝরনা আর হ্রদ এখন পুরোদমে প্রস্তুত পর্যটক বরণে। সাড়া মিলছে প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণপিপাসু মানুষের।মহামারির কারণে সাড়ে চার মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ১৯ আগস্ট খুলেছে পাহাড়ের সব পর্যটনকেন্দ্রের দুয়ার। খুলে দেওয়া হয়েছে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন এলাকার বিনোদনকেন্দ্রগুলোও। এতে সারা দেশের মতো পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই শরতে পার্বত্য অঞ্চলের মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলো হাত বাড়িয়ে আছে পর্যটককে স্বাগত জানাতে। যারা সবুজ পাহাড়, আকাশের পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘমালা, জলে ভরপুর জলপ্রপাতগুলোর জলরাশির স্পর্শ পেতে চান তাদের জন্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ঘুরে বেড়ানোর এটাই ভালো সময়।এখন না মেঘ না বৃষ্টি পাহাড়ে। প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার উপযুক্ত সময়। কোথাও পাহাড়ের বুক ভরে ফসলের খেত। জুম ফসলে পাহাড়ের রূপ এখন বদলে গেছে। পাহাড়ের গায়ে জুম ধানের সোঁদা গন্ধ। আর আকাশে মেঘের খেলা। পাহাড়ের প্রকৃতি শরতে যেন নতুনরূপে সেজে ওঠে। মানুষের মন ভরিয়ে দেয় শরতের শুভ্রতায়। তাই তরুণরা দল বেঁধে ঘুরতে যায় পাহাড়ে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দেখা মেলে। নানা রঙের পোশাক, নানা বেশভুষা, বড় বৈচিত্র্যময় জীবন এখানকার মানুষের।

১.শরীরে মেঘের স্পর্শ মিলবে সাজেকে:
এই সময়টাতে সহজে চলে যাওয়া যাবে সাজেকে। যেখানে ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতি তার রূপ বদলায়। কখনো মেঘ এসে ঢেকে দিচ্ছে চারপাশ। শরীরে মেঘের স্পর্শ শিহরন জাগায়। সাজে যেন মেঘের উপত্যকা। নিজেকে মনে হবে মেঘের রাজ্যের বাসিন্দা। সাজেকে কটেজ-রিসোর্ট আছে ১০৬টির মতো।যেতে পারেন বগালেক, কেওক্রাডংয়ের চূড়ায়। এছাড়া কাপ্তাই লেক, জাদু মন্দির, লামার মিরিঞ্জা পাহাড়, আলীকদমের গিরিপাহাড়ের এখানে ওখানে ঝরঝর বয়ে যাওয়া জলপ্রপাতের ঠান্ডা জলে গা ভেজানো, মাতামুহুরী ও শঙ্খ নদের পানিতে ভেসে ভেসে দুই পাড়ের বৈচিত্র্যময় এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। থানচিতে গিয়ে নৌকোয় চড়ে পানিতে ডুবে থাকা বড় বড় পাথর দেখা ও রেমাক্রি জলপ্রপাতের ছুটে চলার দৃশ্য দেখা যাবে এখানে। আর বগালেক যাবার রাস্তা তো এখন সুনসান। গাড়িতে চড়ে কিংবা মোটরবাইক নিয়ে সোজা চলে যেতে পারবেন বগালেক।
বান্দরবানের দর্শনীয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর মধ্যে মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, নীলগিরি, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণমন্দির, নীলদিগন্ত, ন্যাচারাল পার্ক, বিজয় পাহাড় চূড়া, রিজুক ঝরনা, তিনাফ সাইতার ঝরনা, রেমাক্রি, নাফাকুম ঝরনা, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, কেওক্রাডাং পাহাড়, তাজিনডং পাহাড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, আলীর সুড়ঙ্গপথ উল্লেখযোগ্য।বান্দরবান আবাসিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেলগুলো খুলে দেওয়ায় পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন।

২.নৈসর্গিক রাঙ্গামাটি:
নৈসর্গিক লীলাভূমি পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটি যেন শিল্পীর হাতে আঁকা জীবন্ত ছবি। তার সান্নিধ্য পেতে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমীরা। রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের মনোরম ঝুলন্ত সেতু। তাই পর্যটকরা প্রথমেই ছুটে যান পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায়। এছাড়া শহরের পলওয়েল পার্ক, রাঙ্গামাটি পার্ক, আরণ্যক, শুভলং ঝরনা, সুখী নীলগঞ্জ ও রাজবন বিহার এলাকায় প্রতিনিয়ত ভিড় জমান পর্যটকরা।রাঙ্গামাটি শহরে বেসরকারি ৫০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে। জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকদের আগমন ঘটছে চোখে পড়ার মতো। তবে এখনো গত বছরের চেয়ে কম।রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন করোনার কারণে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আর পর্যটন স্পটগুলো আরো বেশি আকর্ষণীয় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩.রহস্যে ঘেরা খাগড়াছড়ি:
অসংখ্য ঝরনা আর বুনো পাহাড় মিলিয়ে এক জানা-অজানা রহস্যের নাম খাগড়াছড়ি। প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে এই জেলাকে। সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যময় অহংকার শহরের প্রবেশপথ আলুটিলা। আগ্রহী পর্যটকরা চাইলে এখানে রাতে থাকতে পারবেন। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে আছে প্রাকৃতিক গুহা, যা এই কেন্দ্রের মূল আকর্ষণ। এই গুহা ২৮২ ফুট দৈর্ঘ্য এবং গুহার এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে সময় লাগবে ১৫ মিনিট। গুহার একপাশ থেকে অন্যপাশে বয়ে চলেছে পানির স্রোতধারা। এক গা ছমছম অনুভূতি দেবে এই গুহায় প্রবেশ করলে। রয়েছে রিসাং ঝরনা। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কও একটি অসাধারণ স্পট।
পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখতে প্রতিটি জেলা সদর থেকে চাঁদের গাড়ি, পিকআপ, জিপ ইত্যাদি ভাড়ায় পাওয়া যায়। এ তিন পার্বত্য জেলা শহরে অনেকগুলো উন্নত মানের হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *