বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

সাভারে ট্যানারি বন্ধের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী: ট্যানারি ওয়ার্কার্স

সম্প্রতি দূষণের অভিযোগে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী বন্ধের সুপারিশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

এতে শঙ্কিত শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই সংসদীয় কমিটির এমন সুপারিশ আত্মঘাতী। এদিকে পরিবেশ ও নদীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় সাভার থেকে এই শিল্প সরিয়ে নেওয়ার দাবি পরিবেশবিদদের।

সাভারের হরিণধরার চামড়া শিল্পনগরীর প্রধান ফটক চকচকে ঝকঝকে। কিন্তু ঠিক তার উল্টো চিত্র বিসিক শিল্পনগরীর ভেতরের রাস্তাঘাট ও পেছনে ধলেশ্বরী নদী তীরবর্তী এলাকার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকালীন বিসিক নগরীর রাস্তার দুপাশে ও ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বর্জ্যের স্তূপে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বরাবরের মতোই ট্যানারি শিল্পনগরীর দূষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদ। তাদের মতে, শুধুমাত্র তরল ও কঠিন বর্জ্যই নয় চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে বাতাসেও দূষণ ছড়াচ্ছে।

সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কৃষি ও পরিবেবেশবিদ ড. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, চামড়া শিল্পে যেখানে ক্রোমিয়াম অ্যাসিড থাকে মারাত্মক এসিডটা যা পরিবেশ দূষিত করছে।

তবে পরিবেশবিদের এ দাবি মানতে নারাজ শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা। তার দাবি, সম্প্রতি পরিবেশ-বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চামড়া শিল্পনগরী বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশটি আত্মঘাতি।
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, এখানে যে সিটিপি করলে পরিবেশবান্ধব হতো কেন সেটা এখানে করা হলো না। কাদের কারণে হলো না, সে বিষয়টি তাদের জিজ্ঞাসা করা দরকার।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতার দাবি, হাজারীবাগ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্প মালিকরা। ১৬ বছর পর চামড়া শিল্পে সুদিন ফিরতে শুরু করলেও বিসিক শিল্পনগরীর বর্জ্য শোধন অব্যবস্থাপনার কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে। এ দায়ভার শিল্প মালিকদের নয়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, এটি নিয়ে যারা পরামর্শক ছিলেন, তাদের তো এই বিষয় নিয়ে আরো কাজ করার ছিল। তাদের আরো চিন্তা ভাবনার করার দরকার ছিল ১০ বা ২০ বছর পর কী হবে।

আর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা পরিবেশ দূষণের দায়ভার অর্ধেক চাপালেন শিল্প কারখানার মালিকদের ওপর। বাকিটা প্রকল্পের নীতিনির্ধারকদের ওপর।

ঢাকা বিসিকের জেনারেল ম্যানেজার জীতেন্দ্র নাথ পাল বলেন, এক টন চামড়া প্রসেস করা জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে ৩০ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে পানি ব্যবহার হয় ৬০ হাজার লিটার পর্যন্ত।

২০০৩ সালে চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরিবেশে উন্নীত করতে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় বিসিক। ১ হাজার ১৫ কোটি ব্যয়ে ১৬ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু তারপরও বর্জ্য শোধনাগারের ত্রুটিসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই বিসিক শিল্প নগরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *