sa

অর্থনীতির ঝুঁকি কমাবে আইএমএফের ঋণ

আগের সংবাদ
bayu

বায়ুদূষণে রাজধানী ঢাকার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়

পরের সংবাদ

সুদহার বাড়ালে ভুগবে দেশের শিল্প খাত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ঢাকা

প্রকাশিত: ২০২২-১১-০৭ , ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: ২০২২-১১-০৭ , ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
saa

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাংকঋণের সুদহারে ৯ শতাংশের সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলছে। দেশের অর্থনীতিবিদরাও সুদহার তুলে দেওয়ার পক্ষে। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে ঋণের সুদহার বাড়লে শিল্প খাতকে ভুগতে হবে। তিনি বলেছেন, এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাত সংকটে রয়েছে।

এ অবস্থায় সুদহার বাড়লে শিল্প খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ইআরএফ ডায়ালগে’ গতকাল শনিবার সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে নতুন ও পুরনো সব ধরনের ঋণের সুদহার হয় ৯ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে মেয়াদি আমানতের সুদহার গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম না হওয়ার শর্ত আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার হয় প্রায় ৬ শতাংশ।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ঋণের সুদহার উঠিয়ে দেওয়ার কথা অনেকেই বলছে। তবে সবাই না। সুদহার না বাড়িয়ে ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে জোরালো মত তুলে ধরেন তিনি। সুদহার বাড়ানো হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, যখন সুদহার কমানো হয়েছে, তখন দেশে অনেক বিনিয়োগ বেড়েছে। ঋণের সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে একেক ধরনের এজেন্ডা থাকে গবেষণা সংস্থাগুলোর। তারা একেকজনের প্রতিনিধিত্ব করে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান অবস্থায় সুদহার বাড়ালে শিল্প কোথায় যাবে? বরং বাড়তি ব্যয় কমিয়ে ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। ব্যয়বহুল শাখাসহ ব্যাংকের অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় কমাতে হবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আমানতের সুদহার বাড়লেও ব্যাংকগুলোর ইফিসিয়েন্সি বাড়ানোর মাধ্যমে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব। ব্যাংকের কষ্ট ২-৩ শতাংশ কমানো গেলেই এটি সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো যেভাবে দু-তিন কোটি টাকা খরচ করে জাঁকজমকপূর্ণ শাখা করে, চীনসহ অন্য কোনো দেশেই এই ধরনের শাখা দেখা যায় না। ’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ডলার শক্তিশালী করতে সুদহার বাড়িয়েছে। তাদের ফর্মুলা আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করলে হবে না। দেশের শিল্পের কথা বিবেচনা করেই নীতি গ্রহণ করতে হবে। ’ জ্বালানিসংকট নিরসনে তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ ৫ শতাংশ কমিয়ে শিল্পে দেওয়া যেতে পারে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করতে পারলেও শিল্পে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। গ্যাসের জন্য ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচ করতে রাজি আছেন। একই সঙ্গে সরকার ভর্তুকি কিছুটা বাড়ালেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে যে পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে, শুল্ক-কর ও ভ্যাট হিসেবে তার চেয়ে বেশি আদায় করছে। গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে শুল্ককর কিছুটা কমানোর পাশাপাশি দাম সামান্য বাড়ানোর জন্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

জসিম উদ্দিন আরো বলেন, ‘এখন গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পেলে বিদেশি ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী পণ্য দিতে ব্যর্থ হব আমরা। এর ফলে ক্রেতারা একবার ফিরে গেলে আর পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে শিল্পে গ্যাস চালু রাখতে হবে। ’

জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে তিনি একটি প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। তাই গ্যাস বেশি দামে আমদানি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস নিশ্চিত করার জন্য বেশি দাম দিতে রাজি আছেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার গ্যাসে ভর্তুকি যা দিচ্ছে এর চেয়ে বেশি ট্যাক্স নিচ্ছে। এই করহার কমিয়ে বাড়তি দাম সমন্বয় করে নতুন করে যৌক্তিক দাম ঠিক করা হতে পারে। তিনি মনে করেন শিল্প সচল রাখতে ব্যবসায়ীকেও দায় নিতে হবে। আবার কর কমিয়ে জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।

অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অ্যাকশনে যাওয়া উচিত উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যখন বলে ২০০ শতাংশ ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে। এর অর্থ হলো পাচারকারী সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক জানে। তাই মুখরোচক কথা না বলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া উচিত। ’

আইএমএফের ঋণের বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আইএমএফ তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে শর্ত দেবে, তবে আমাদের দর-কষাকষি করতে হবে দক্ষতার সঙ্গে। সেই সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মেটাতে আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হবে। তার মানে এই নয়, সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে। বাংলাদেশের অবস্থা এতটা বেগতিক নয় যে সব শর্ত মেনে ঋণ নিতে হবে। ’ তিনি বলেন, যেসব পণ্য আমদানির প্রয়োজন বেশি, দেশে তার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে আমদানিতে ডলারের ব্যয় কমে যাবে। তাতে ডলার ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে। এদিকে এখন নজর দেওয়ার প্রয়োজন।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কিছুদিন আগে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টার সঙ্গে বসেছিলাম। এখন জ্বালানির দাম বাড়ায় গ্যাসের আমদানি কমেছে। তবে গ্যাসের আমদানি বাড়ানো দরকার, যদিও আমদানি বাড়াতে হলে দাম বেশি পড়বে। সে জায়গায় আমরা বলেছি, প্রয়োজনে আমরা দাম বাড়াব। আমরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিতে রাজি আছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের গ্যাস দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘ডিজেলের দাম বেড়েছে, আমরা চিন্তা করেছিলাম লোড শেডিং কমবে; কিন্তু সেটা হয়নি। সে জন্য কথাবার্তা চলছে। আমরা চেষ্টা করছি নতুন দাম ঠিক করার। এ ক্ষেত্রে আমাদের সরকারেরও এগিয়ে আসতে হবে। এখানে ভর্তুকি দিচ্ছে; কিন্তু তার থেকে বেশি আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি। আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর রাজস্ব কমিয়ে নেওয়া এবং দাম একটু বাড়ানো যেতে পারে। যদি শিল্পে বিদ্যুৎ দেওয়া না হয়, তাহলে এখানে বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ’

মন্তব্য করুন

যে মন্তব্যগুলো খবরের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে এবং আপত্তিজনক হবে না সেই মন্তব্যগুলোই দেখানো হবে। প্রকাশিত মন্তগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত। পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য AZnewsbd কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

জনপ্রিয়