বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

সুন্দর পরিবার গঠনের কৌশল

জীবনের শুভ সূচনা হয় পরিবারের মাধ্যমে। জন্মের শুরু থেকে শেষ পরিবার আামাদের আগলে রাখে, সর্বদা ঢাল হয়ে পাশে থাকে। পরিবার হলো সমাজ তথা দেশ জাতি গঠনের প্রধান সূতিকাগার। অনুকূল ও প্রেমময় পারিবারিক পরিবেশ মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাফল্যকে তরান্বিত করে, মনকে প্রশান্তি ও আনন্দে পরিপূর্ণ করে তোলে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সর্ম্পক যত গভীর, মমতাপূর্ণ, পারস্পরিক আচার-আচরণে যত ইতিবাচক, সুশৃঙ্খলও সুপরিকল্পিত হবে জীবনে তত সুখ, ও সার্থকতা আসবে। সুখী পরিবারের ভিত্তি হচ্ছে ভালোবাসা, মমতা, শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা ও আত্মিক একাত্মতা।

জেনে নিন কিভাবে সুন্দর পরিবার গঠন করা সম্ভব-

সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই সৃষ্টি কর্তাকে ধন্যবাদ জানান জীবনে আরেকটি সুন্দর দিন তিনি দান করেছেন। জীবনে কী নেই তা নিয়ে না ভেবে কী আছে তা নিয়ে ভাবুন। স্রষ্টায় অবিচল বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন। নিয়মিত অবশ্যিক ইবাদত / উপাসনা করুন। সব ব্যাপারে সময় ও নিয়মানুবর্তী হোন। পরিকল্পিত ভাবে সব কাজ করুন। শুদ্ধ ও সুন্দর ভাষায় কথা বলুন। পরচর্চা বর্জন করুন। পরিবারে কোন বিষয়ে গোপনীয়তা ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া একদম ঠিক না। নিয়মিত নিজে নিজের সমালোচনা করুন, নিজের ভালো খারাপ দিক বের করুন এতে আপনি নিজে কতটুকু পরিবারের জন্য ঠিক এটা নিজেই ধারণা করতে পারবেন।

সব সময় হাসিমুখে কথা বলুন। পরিবারের মধ্যে সালাম চর্চা করুন। রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন। কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করুন। নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করুন। রাগ ও ক্রোধের বশে কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। বিতর্ক ও ঝগড়া কৌশলে পরিহার করুন। আবেগ প্রকাশে কুশলী হোন। কর্মচারী ও গৃহকর্মীর সঙ্গে মানবিক আচরণ করুন। কাউকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও ঠকানোর চেষ্টা করবেন না। কারো প্রতি ক্ষোভ ও ঈর্ষা পোষণ করবেন না। স্বজ্ঞানে অন্যের ক্ষতি করবেন না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে অপচয়কে পরিহার করুন। অহংকার ও লোক দেখানো আচরণ না করে আন্তরিক ও বিনয়ী হন।

সর্বদা পরিবার কে নিয়ে ভাবুন, পরিবারের ছোট ছোট চাওয়াগুলো পূর্ণতা দেওয়ার চেষ্টা করুন। পেতে নয় দিতে বেশি ভালোবাসুন। পরস্পরকে বুঝতে চেষ্টা করুন। পরিবারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিন। অন্যের কথায় কান দেবেন না। ভুল বোঝাবুঝি নিজেেরাই আলাপ আলোচনা করে দূর করুন। তৃতীয় কাউকে এতে জড়াবেন না। একান্নবর্তী পরিবার হলে সবার সন্তানকেই একই নজরে দেখুন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিয়মিত আত্ম উন্নয়নমূলক আলোচনার আয়োজন করুন। পরিবার ও সমাজের চোখে দৃষ্টিকটু সম্পর্ক বর্জন করুন। পরিবারকে ধূমপান ও নেশামুক্ত রাখুন। পরস্পরের জন্য নিয়মিত দোয়া / প্রার্থনা করুন।

ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সন্তানকে সমান দৃষ্টিতে দেখুন। এক সন্তানকে অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। সন্তানকে নেতিবাচক কথা বলে তিরস্কার করবেন না, ধমকে কথা বলবেন না। রাগের মাথায় অভিশাপ দেবেন না। অন্যের সামনে সন্তানকে বকবেন না, ভুল ধরিয়ে দেবেন না। সন্তানকে ছোট থেকেই কষ্টসহিষ্ণু ও সাবলম্বী করে গড়ে তুলুন। সন্তানকে সব সময় আদেশ না করে তার করণীয় কাজ যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন। ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করুন। সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিন। তাদের বন্ধুদের ব্যাপারে সজাগ থাকুন।

সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করুন ও নিজেদেরকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করুন। সারাক্ষণ শুধু পড়ার কথা না বলে খেলাধূলা, বেড়ানো, বই পড়া ইত্যাদি সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিন। সন্তান কোন কিছু চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে তা দেওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। তাদের অন্যায় আবদার পুরণ করবেন না। বিনোদনের নামে সন্তান অপসংস্কৃতি ও মাদকাশক্তির শিকার হচ্ছে কি-না, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। সন্তানকে জীবনের লক্ষ্য চাপিয়ে দেবেন না, তার ইচ্ছার প্রাধান্য দিন।

একটা সুন্দর পরিবার গঠনে পরিবারের সবার ভূমিকা রাখা জরুরি। পরিবারে অনেক ক্ষেত্রে ত্যাগ শব্দটা উঠে আসে। এই ত্যাগ শব্দটা ব্যবহারের মন মানসিকতা রাখতে হবে। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েও অনেকে পরিবারের মুখে হাসি ফুঁটাতে ব্যস্ত থাকেন। মনে রাখবেন একটা সুন্দর পরিবারই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দিতে, তাই আসুন সুন্দর পরিবার গঠনে সবাই সচেতন হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *