বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও উদ্ধারের দাবি স্বামীর

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার টিক্কাপুর হাওরে নৌকা ভ্রমণ করতে গিয়ে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির মাঝে মিঠু মিয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন এবং সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন প্রধানের আদালতে তিনি এই স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত অপর দুই আসামি লাখাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলায়মান রনি ও শুভ মিয়ার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে। একই সাথে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা খাতুনের আদালতে ভিকটিম ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। তবে ধর্ষণের ভিডিও এখনও প্রধান আসামি মুসা মিয়ার হাতে রয়েছে। মুসা মিয়াকে গ্রেপ্তার ও ভিডিও উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভিকটিমের স্বামী। আর না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই বলে তিনি জানান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি সোলায়মান রনি, মিঠু মিয়া ও শুভ মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মিঠু মিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন প্রধানের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। সোলায়মান রনি ও শুভ মিয়ার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে এবং আদালত শুনানির জন্য তারিখ ধার্য্য করবেন।

আদালতে উপস্থিত ভিকটিমের স্বামী সাংবাদিকদের জানান, তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার ও একজনের জবানবন্দি প্রদানের খবরে তারা খুশি। তবে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং প্রধান আসামি মুসা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ধর্ষণের ভিডিও উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভিডিও উদ্ধার করা না হলে তা যদি আরো ছড়িয়ে পড়ে তবে তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আদালতে উপস্থিত লাখাই থানার ওসি তদন্ত মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এক আসামিকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য এবং দুজনকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করেছি। পুলিশ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আসামিদের নাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা দুরুহ হয়ে পড়ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট দুপুরে হাওরে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে এক গৃহবধূ ধর্ষণের স্বীকার হন। স্বামীকে বেঁধে রেখে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নববধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে কয়েকজন যুবক। ধর্ষণকারীরা এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়ে চলে যায় এবং বিষয়টি জানাজানি হলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *