বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

হঠাৎ স্ট্রোক, হতে পারে মৃত্যু!

স্ট্রোক যেন এখনকার সময় একটা মরনব্যাধী। স্ট্রোকজনিত এ মৃত্যু বিশ্বজনীন সমস্যায় দাঁড়িয়েছে। স্ট্রোকে যতটা মানুষ ভুগছে তার দ্বিগুণ হঠাৎ স্ট্রোকে মানুষ কয়েক মিনিটেই মৃত্যুর কোলে ঢুলে পড়ছে। প্রতিদিনের পত্র-পত্রিকায় ছাপানো ছাড়াও কতজনের যে প্রাণ নিচ্ছে এই মরনব্যাধী স্ট্রোক তার কোন হিসাব নেই।স্ট্রোক এমন একটা রোগ যেখানে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহের বিঘ্নতার জন্য কোষের মৃত্যু ঘটে।

এই করোনাকালীন সময় স্ট্রোক আগের তুলনায় বৃ্দ্ধি পেয়েছে। মানুষের ঘরে বসে বসে দুশ্চিন্তা, আয়-রোজগার বন্ধ, সংসার চালনায় অক্ষম, অতিরিক্ত মানসিক প্রেসারে হঠাৎ স্ট্রোকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে মানুষ! তবে কিছু ভুল ও অবসাবধানতার জন্যও অসময়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেয় মানুষ। তাই আসুন জেনে নেই স্ট্রোকের লক্ষণ, কারণ এবং এর প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে-

মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ কিংবা আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া এই দুই অবস্থাই স্ট্রোক এর আওতায় আসে। রোগীরা দু’অবস্থাতেই প্রায় একই ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ নিয়ে আসতে পারে। তবে রোগীর অবস্থা কতটা খারাপ তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের অঞ্চলসমূহের কোন এলাকায় রক্ত চলাচলে ব্যত্যয় ঘটলো তার উপর, কতোটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং কতো দ্রুত ওই অঘটন ঘটে থাকে, তার উপর।

সাধারণত স্ট্রোকের লক্ষণ হলো মাথা ঘুরানো, হাটতে অসুবিধা হওয়া, ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া, কথা বলতে সমস্যা হওয়া, অবশ, দুর্বলতা, শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া, চোখে অন্ধকার দেখা বা ডাবল দেখা, হঠাৎ খুব মাথা ব্যাথা করা। প্রাথমিক অবস্থায় কারও স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত, তা না হলে রোগীর মস্তিষ্কের বেশি অংশ নষ্ট হয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে অথবা রোগীর দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা মৃত্যু ঘটতে পারে।

স্ট্রোক সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, বেশি কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, মদ্যপান, জনিত কারণে হয়ে থাকে তাই শরীর সুস্থ রাখতে এবং এই মরনব্যাধী থেকে বাঁচতে যথাসম্ভব এগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ। অনেক সময় দেখা যায় পরিবারে কম বেশি স্ট্রোক রুগী আছেন বা স্ট্রোকে মারা গেছেন। এই পারিবারিক ইতিহাস থেকেও মানুষ স্ট্রোক করেন। সাধারণ বয়স্ক মানুষের স্ট্রোক হয় বেশি তবে বর্তমানে স্ট্রোকের জন্য কোন নির্দিষ্ট বয়সের প্রয়োজন হচ্ছে না। তাই নিজের সুস্থতায় নিজেকেই যত্ন নিতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানসমূহ কমিয়ে আনতে হবে, যাদের ক্যারোডিট ধমনির সংকোচনজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে ধমনি উন্মুক্ত করা ও অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন থাকলে ওয়ারফারিন সেবন করতে হবে। প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসকগণ অ্যাসপিরিন অথবা স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সচেতন হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের মত বড় বড় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *