বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১১:৩০ পিএম

হারিয়ে গেছে নৌকা

বাংলার ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা নৌকা একসময় নদী পথে যাতায়াতের একমাত্র উপায় ছিলো।স্বল্প দূরত্ব হোক বা বেশি দুরত্ব মানুষ নৌকাতেই যাতায়াত করবো। এর কোনো বিকল্প ও অবশ্য প্রথমদিকে ছিলোনা। নৌকা যাতায়াতে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও এ যাতায়াতে ছিলো অন্যরকম এক আনন্দ।

নৌকার আবার অনেক ধরন ও ছিলো। যেমন পাল তোলা পানসি,গয়না, মাল পরিবহনের জন্য সাম্পান, জমিদারদের জন্য ময়ূরপঙ্খি,সম্রান্ত ব্যাক্তিদের জন্য বজড়া আরও অনেক ধরনের নৌকা ভেসে বেড়াতো নদীর বুকে।

নৌকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত, খুব দূরের পথ হলে নৌকাতেই ভাসতে ভাসতে রাত্রিযাপন, নৌকাতে রান্না করে খাওয়া, মাঝিদের মন কাড়া ভাটিয়ালি গান এসব কিছু বাংলার মানুষের মনে বরাবর ই আবেগঘন জায়গা তৈরি করেই আছে।

কিন্তু বর্তমানে নৌকায় যাতায়াতের ব্যাপারটা নেই বললেই। নৌকা ভ্রমন ও এর অসাধারণ অনুভিতি সময়ের সাথে সাথে হারিয়েই যাচ্ছে। এখন নৌকার অনেক বিকল্প আছে যেমন জাহাজ,লঞ্চ, স্পিড বোট আরও অনেক ধরনের নৌযান চলে আসায় নৌকার চাহিদা মানুষের কাছে আর নেই।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে যে নৌকা ছিলো নদীপথে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সে নৌকায় আজ মানুষ নিতান্তই শখের বসে চড়ে। খুব সামান্য কিছু স্থানেই দেখা যায় নৌকায় যাতায়াত করার ব্যাপারটা।

প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে সভ্যতার অগ্রগতি তো অবশ্যই হচ্ছে কিন্তু একই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী উপাদান গুলো। নগরায়নের প্রয়োজনে নদী, নালা, খাল ভরাট ও নৌকা বিলুপ্তির অনেক বড় একটি কারন।এভাবে মানুষ জীবন যাত্রা সহজ তো ঠিকই হচ্ছে কিন্তু নৌকায় যাতায়াতের যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো বিন্দুমাত্র ও পাবেনা।

নৌকা যাতায়াত ছিলো কখনোই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক ছিলোনা বরং এখন নৌকার বিকল্প যে যানগুলো এসেছে তা কোনো না কোনো ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করেই যাচ্ছে।

নদীর বুকে রং বেঙরের পাল তোলা নৌকা,জেলেদের মাছ ধরা এসব দৃশ্য এখন খুবই দুর্লভ।এভাবে চলতে থাকে পরবর্তী প্রজন্ম কখনো জানতেও পারবেনা যে বাংলার বুকে কখনো এত অসাধারণ কিছু উপাদান ও ছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *