বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ

হেমন্তের বিদায় শেষে উত্তরের হিমেল হাওয়া জানান দেয় শীতের আগমন বার্তা। আর এই শীত মৌসুম এলেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ বলে খ্যাত খেজুরগাছের রস দিয়ে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরির উৎসব শুরু হয়।

খেজুরের রস দিয়ে তৈরি গুড়, পাটালি, পিঠা, পায়েস নিয়ে গ্রামের মানুষ অতিথিদের আপ্যায়ন করে। এক সময় খেজুরের রস ও খেজুরের মিষ্টি গন্ধে গ্রামীণ জনপদ মৌ মৌ করতো। শীত আসতেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ত খেজুর গাছ কাটায়। খেজুর গাছ দুই বার কাটার পর গাছ থেকে রস বের হয়। গাছ কাটার পর গাছি গাছে ভাড় পেতে দেয়, সেই ভাড়ে সারারাত খেজুরের রস জমা হয়। সকাল বেলা সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় খেজুরের গুড়, পাটালি।

ছোট বেলায় কত শুনেছি রাতের আঁধারে খেজুরের রস চুরি হয়ে যেতে। সকাল বেলা গাছ মালিক রসের ভাড় নামাতে এসে দেখতো রসের ভাড় পানিতে পরিপূর্ণ। খেজুর রস নিয়ে এমন অনেক মজার ঘটনা ঘটতো আগে। আর এখন মানুষ যান্ত্রিক জীবনের সাথে চলতে গিয়ে নিজেদের ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে। এখনও কিছু কিছু অঞ্চলে এই মধুবৃক্ষ দেখা যায় তবে আগের মত সারি সারি গাছের দেখা এখন আর মেলে না। আগে গ্রামের দিকে শীতের সকাল শুরু হতো খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে। তারপর শীতের মিষ্টি রোদ উঠতেই উঠানে গোল হয়ে বসে গল্পের আসর জমাতো সবাই রসের পায়েস, পিঠাপুলিতে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক নগরায়নের ফলে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার চির চেনা খেজুর গাছ এবং গাছের রস।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভাইরাসজনিত কারণে এখন আর আগের মত খেজুরের রস খেতে চায় না মানুষ। আর খেজুর রস বিক্রি না হওয়ায় কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। মাঝে মধ্যে দু’ একজনকে দেখা যায় রস সংগ্রহ করতে। তবে বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় তারা এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এ গাছের মূল্য কম, ইটভাটায় খেজুর গাছের চাহিদা থাকার কারণে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় গাছ বলে বিক্রি করে দেয়। আবার কেউ কেউ শুধু শীত মৌসুমে রস পাওয়ার আশা না করে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় খেজুর গাছ বিক্রি করে সেখানে রোপণ করছে বিদেশি প্রজাতির গাছ। এসকল নানাবিধ কারণে গ্রাম বাংলার মধুবৃক্ষ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *