বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান ভাঙার ঢেঁকি এখন অনেক টাই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। আধুনিক যান্ত্রিকতার আগমনে পুরাতন, মানুষ চালিত যন্ত্র ঢেঁকি সভ্যতার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে।

আগে গ্রাম বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই ছিলো ঢেঁকির ব্যাবহার। ঘরে নতুন ধান আসলেই হুড় পড়ে যেতো ঢেকিতে ধান ভাঙার। কখনো কখনো গ্রাম্য মহিলাদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতাও হতো কে কত ধান ভাঙতে পারবে। ধান ভাঙার জন্য বেশি ব্যাবহৃত হলেও ঢেঁকি শুধুমাত্রই যে ধান ভাঙার যন্ত্র ছিলো এমন নয় বরং এটা দিলে চাল গুড়া করা কিংবা মসলাপাতি ও গুড়া করা হতো।

বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ীই তৈরি করে নেয় উদ্ভাবন করে নেয় কাজ সহজ ও দ্রুত করার বিভিন্ন উপায়। ঢেঁকি ও একসময় তেমনই একটা উপায় ছিলো যখন ধান ভাঙার জন্য আধুনিক কোনো যন্ত্র আসেনি। গ্রামের বাড়ি গুলোর সাথেই প্রত্যেক বাড়ির আলাদা ঢেঁকিঘর ও ছিলো আবার অনেকে উঠানে রেখেও ব্যাবহার করতো ঢেঁকি।

ঢেঁকি মুলত কাঠ দিয়ে তৈরি করা হতো।মুল এবং সর্ববৃহৎ যে অংশটি তার নাম ধড়। এটি মুলত লিভারের মতো কাজ করে অর্থাৎ একদিকে বল প্রয়োগ করে বিপরীত প্রান্ত দিয়ে কাজ সম্পাদন হতো। ঢেঁকির সামনের দিকে একটি গর্ত করা হতো সেই গর্তের মধ্যেই কাপড় বা পলিথিন রেখে তারউপর চাল বা ধান রেখে গুড়ো করা হতো।

ঢেঁকি পুরোপুরি ভাবেই কায়িক শ্রম দ্বারা পরিচালিত হতো। সাধারণত মহিলারাই এই কাজটি করতেন। একসাথে ২-৩ জন মিলে ঢেঁকির একপ্রান্তে পা দিয়ে বল প্রয়োগ করতেন অন্যদিকে কেউ থাকতো চাল বা ধান দেয়া এবং উঠানোর জন্য। এই কাজে পরিশ্রম লাগতো খুব একই সাথে এ প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ ও ছিলো।

এরপরে একসময় আসে আধুনিক ধান ভাঙার মেশিন বা অটো রাইস মিল। এ যন্ত্রে কায়িক শ্রমের প্রয়োজন নেই বললেই চলে তার উপর আবার খুব দ্রুত কাজ সম্পাদন করা সম্ভব। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখন মানুষ ধান ভাঙার প্রয়োজনে অটো রাইস মিলকেই বেছে নেয়।ফলে ঢেঁকির ব্যাবহার এখন আর লক্ষ করা যায় না।

ধান থেকে চাল আলাদা করা, চাল গুড়া করা সবকিছুই এখন মেশিনের মাধ্যমে সম্ভব। তাই গ্রাম বাংলার ঘর গুলো আর পাওয়া যায় না ঢেঁকির শব্দ। ঘরে ধান আসলে গ্রাম্য বধুদের মাঝেও আর ঢেঁকি প্রস্তুত করা নিয়ে আর চাঞ্চল্যতা দেখা যায় না। সময়ের সাথে সাথে পুরোপুরি ভাবেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার বহুল প্রচলিত ঢেঁকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *