বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা

কয়েক বছর আগেও গ্রামগঞ্জের দৃশ্যগুলোর মধ্যে খুব পরিচিত একটি দৃশ্য ছিলো তালগাছে বাবুই পাখির বাসা। পরিশ্রমী এই পাখি নিজের বাসা নিজেই তৈরি করে নেয় সুনিপুণ ভাবে। কবি রজনীকান্ত সেনের বিখ্যাত ছড়ার ছন্দে খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে বাবুই পাখির বাসা তৈরির দক্ষতা এবং স্বনির্ভরতা। চড়ুই পাখির মতো অন্যেক দালান অট্টালিকায় না থেকে সে তালগাছে নিজের ছোট্ট খড়কুটোর নীড় নিজেই তৈরি করে নেয় সযত্নে এবং স্বাভাবিকভাবেই এ স্বনির্ভরতা নিয়ে তার যে গর্ব তাও প্রকাশ পেয়েছে এই ছড়ায়।

তবে সেই ছড়ার মুল নায়ক বাবুই স্বনির্ভরতার গল্প আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।এখন আর গ্রামের পথে চলতে চলতে অহরহ তালগাছে বাবুই পাখির বাসা দেখা যায় না। মুখে করে খড়কুটো এনে বাসা তৈরি করা দৃশ্য বর্তমানে স্মৃতি হিসেবেই আছে।ছোট্ট এই শিল্পীর শৈল্পিকতা সভ্যতার আড়ালে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতা যতধাপ সামনে আগায় প্রকৃতি ততধাপ পেছনে হারায়। এর উত্তম উদাহরণ বাবুই পাখি নিজেই। এখন আর বাবুই পাখিদের দেখা যায় না মুখে করে খাবার নিয়ে নীড়ে এসে সন্তানদের খাওয়ানোর মতো প্রকৃতির অন্যতম দৃশ্য তৈরি করতে।

বাবুই পাখিদের শৈল্পিক বাসা হারানোর পিছনে দায়ী হচ্ছে প্রকৃতির প্রতি মানুষের স্বার্থপরতা ও নগরায়ন। এখন যে পরিমান গাছ কাটা হয় প্রতি বছর তাতে প্রকৃতির এই ছোট্ট শিল্পীদের শিল্পকর্মের জায়গাটাও অবশিষ্ট থাকে না। তাছাড়া ইটের ভাটা স্থাপন ও পাখিদের এভাবে হারিয়ে যাওয়ার পিছনে বেশ বড় ভূমিকা রাখছে।

এখন জায়গায় জায়গায় নেটওয়ার্ক এর টাওয়ার স্থাপন এ থেকে নির্গত তরঙ্গ সবকিছুই এই পাখিদের স্বাভাবিক জীবনধারায় অনেক বড় প্রতিকূলতা এনে দিয়েছে। তাই তো এখন গ্রামগঞ্জের প্রচলিত দৃশ্য বাবুই পাখির বাসা হারিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *