বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

  বাংলাদেশ: সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি  

শেষ আপডেটঃ ১:৫২ পিএম

হার্ট সুস্থ রাখ‌তে যেসব খাবার খা‌বেন

শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ তবে এই সব অঙ্গ সুস্থ থাকার পেছনে সবথেকে বড় ভূমিকা কিন্তু হার্ট-ই পালন করে। হার্ট একনাগাড়ে রক্ত পাম্প করে দেহের সকল অঙ্গে পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং রক্তের মাধ্যমেই সব অঙ্গগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে ও মানবশরীরের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদন করে। তাই সর্বাত্মক ভাবে সুস্থ থাকতে হলে সবার প্রথমে হার্ট সুস্থ রাখতে হবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন হার্টের সমস্যায় ভুগে থাকে। একটি জরিপ অনুসারে আমেরিকায় প্রত্যেক ৩৬ সেকেন্ডে একজন হার্টের সমস্যায় মারা যায়। হার্টের সমস্যা গুলো হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারন থাকতে যেমন অতিরিক্ত টেনশন, স্ট্রেস, স্থূলতা আবার জিনগত কারন ও থাকতে পারে। তবে সাধারণত স্থূলতা এবং খাওয়া দাওয়ায় নিয়ন্ত্রনহীনতা, ভুল খাদ্য খাওয়া এসবই বেশিরভাগ মানুষের হার্টের সমস্যার পেছনে মুল কারন। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে হবে অবশ্যই খাওয়া দাওয়ার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে এবং সে সকল খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে তা যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে।

হার্ট সুস্থ রাখতে যেসব খাবার খাবেন –
★সবুজ শাকসবজি: সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, কাচাকলা এগুলো ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের জন্য সুপরিচিত। বিশেষত, এগুগো ভিটামিন কে এর একটি দুর্দান্ত উৎস, যা ধমনীকে রক্ষা করতে এবং সঠিক রক্ত ​​জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। এগুলোতে নাইট্রেট ও বেশি, যা রক্তচাপ কমাতে, ধমনীর কঠোরতা হ্রাস করতে এবং রক্তবাহী কোষগুলির কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

★গোটা শস্য : সাধারণ শস্যের মধ্যে রয়েছে গম, বাদামী চাল, ওটস, রাই, বার্লি, বকুইট এবং কুইনো।গোটা শস্যের মধ্যে শস্যের তিনটি পুষ্টি সমৃদ্ধ অংশ রয়েছে: জীবাণু, এন্ডোস্পার্ম এবং ব্রান।পরিশোধিত শস্যের তুলনায়, গোটা শস্যের মধ্যে ফাইবার বেশি থাকে, যা “খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরল” বা LDL কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে শস্য উল্লেখযোগ্যভাবে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৬ mmHg কমিয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৫% হ্রাস করে।

★বেরি : স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং রাস্পবেরি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণে ভরা যা হৃদরোগের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। বেরি অ্যান্থোসায়ানিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও সমৃদ্ধ, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে যা হৃদরোগের হ্রাসে অবদান রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রচুর পরিমাণে বেরি খাওয়া হৃদরোগের জন্য বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কারণ কমাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিপাকীয় সিন্ড্রোমের ২৭ জন প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে আট সপ্তাহের জন্য ফ্রিজ-শুকনো স্ট্রবেরি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করলে “খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরল ” ১১% কমে যায়

★তেলযুক্ত মাছ : স্যামন, পাঙ্গাস,সার্ডিন এবং টুনার মতো চর্বিযুক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে পূর্ন যা হৃদ-স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ৩২৪ জনের এক গবেষণায়, আট সপ্তাহের জন্য সপ্তাহে তিনবার স্যামন খাওয়ার ফলে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে মাছ খেলে মোট কোলেস্টেরল, রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড, উপবাসের রক্তের শর্করা এবং সিস্টোলিক রক্তচাপের নিম্ন স্তরে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *