প্লেনে ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

,
প্লেনে ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনে প্রথমবার বিমান ভ্রমণে যাত্রীদের মধ্যে সবসময় আলাদা একটা উত্তেজনা কাজ করে থাকে। তাছাড়া ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী হলে কিছু বিষয় মেনে চললে আপনার যাত্রা ঝামেলামুক্ত ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠতে পারে। এতে করে আপনি একটা নিরাপদ ও সহজ বিমান ভ্রমণ করতে পারেন।

বিমান ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:-

বিমানবালা দের সাথে ভালো ব্যবহার করা:-
মূলত বিমানবালাদের অন্যতম কাজ হচ্ছে বিমানের সব নিয়মকানুন আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া। সিট বেল্ট বাঁধা, খাবার দেওয়া, বিমান অবতরণের আগে আরেকবার সিট বেল্ট বেঁধে নেয়ার পরামর্শ ইত্যাদি । এসমস্ত কাজের ক্ষেত্রে বিমানবালা যাত্রীদের সহযোগিতা করে থাকে। কাজেই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের ফলে তারা বিরক্ত হতে পারেন এবং এতে করে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রেও দেরি হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া তাদের সাথে প্রয়োজনের বাহিরে কথা বলা যাবেনা।

নিজের মালপত্র ঠিক জায়গায় রাখা:-
বিমানে মাথার ওপর মালপত্র রাখাকে ‘বিন’ বলা হয়। আর বিমানের প্রতিটি ব্যাগের জন্যই মূল্য দিতে হয়। তাই প্রতিটি ‘বিন’ই মূল্যবান। আনুভূমিকভাবে নিজের ব্যাগ বিনে রেখে অন্যের জায়গা দখল করা উচিত নয়। তাই নিজস্ব জায়গা টুকুই ব্যবহার করুন। নিজের মালপত্র সঠিক জায়গায় রাখুন।

সঠিক সময়ে নিজের আসন থেকে উঠুন:-
আপনি বাথরুমে যাওয়ার জন্য আসন ছাড়ার আগে আরেকবার ভেবে দেখুন, যদি দেখেন বিমানের আসনের মধ্যবর্তী পথে বিমানবালার হাতে খাবারের ট্রে, তাহলে আপনার আসনে বসে থাকাই উচিত হবে। বিমানবালার হাত থেকে খাবার সংগ্রহ না করে আসন ছাড়া ঠিক নয়। তাই যখন একদম সঠিক সময় হবে ঠিক তখনই আপনার জায়গা থেকে উঠবেন।

বিমানের টয়লেট এর সঠিক ব্যবহার:-
বিমানের টয়লেটে বেশি সময় না নেয়াই ভালো। এ ছাড়া নোংরা অবস্থায় রেখে আসা ও উচিত নয়। আপনার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বিমানের ময়লা যত্রতত্র ফেলা বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু ব্যবহার না করা বা এমন কিছু সাথে না রাখা:-
মনে রাখবেন, তীব্র গন্ধযুক্ত কোনো আতর বা পারফিউম মেখে বিমান ভ্রমণ না করাই ভালো। এতে আপনার অন্য যাত্রীরা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে। এ ছাড়া বিমানে এমন খাবার নিয়ে ওঠা উচিত না, যা তীব্র গন্ধ ছড়ায়। এতে বিমানের পরিবেশ তো নষ্ট হবেই পাশাপাশি আপনাকে পড়তে হবে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

নিজের সন্তানদের দেখে রাখুন:-
বিমানে ওঠার আগে নানা ধরনের নিয়মকানুন মানতে গিয়ে হয়তো আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সন্তানকে দেখে রাখা আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তেমনি অন্য বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে আপনার উচিত তাদের মা-বাবাকে বিষয়টা জানানো। বিমানে অন্য কারো বাচ্চাকে ধমক দেওয়ার সঠিক জায়গা নয়। কাউকে শাসন করার মতো ভুল করবেন না। আর আপনার বাচ্চা দুষ্টুমি করলে তাকে ভদ্রভাবে শান্ত করার চেষ্টা করুন। সন্তানকে দেখে রাখুন।

বিমানে ঘুমানোর নিয়ম:-
বিমানে উঠে ঘুমানোর জন্য আপনি একটা নেক পিলো (ঘুমানোর জন্য বিশেষ ধরনের এক বালিশ, যা ঘাড়ে জড়িয়ে নেয়া যায়) চাইতেই পারেন। নেক পিলোর বিশেষ সুবিধা হলো ঘুমের মধ্যে আপনার মাথা অন্য কারো ঘাড়ে চলে যাবে না। মনে রাখবেন যদি আপনি বিমানের মাঝখানের আসন পান তাহলে ট্রে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমানো উচিত নয়। এতে করে আপনার দুপাশের যাত্রীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তাছাড়া এটা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ঘুমানোর জন্য সঠিক সময় ও অবস্থান দেখে তারপর ঘুমাবেন।

হেলান দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে:-
বিমানে আপনি চাইলে আধশোয়া হয়ে ঘুমাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আসনটিকে আধশোয়া করে শোয়ার উপযুক্ত করে নিতে হবে। আর সেটি করার সময় আপনার পেছনের যাত্রীর দিকে খেয়াল রাখবেন। আপনার আসনটি আধশোয়ার উপযুক্ত করতে গিয়ে সেটি যেন আবার তার পানীয়, ল্যাপটপ বা পায়ের সঙ্গে না লেগে যায়। আপনার সুবিধার জন্য অন্য কারো অসুবিধা যেনো না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। খেয়াল করে দেখে তারপরই আপনি আপনার যে কোনো কাজ করবেন।

মদ্যপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা বা বিরত থাকা:-
বিমানে সময় কাটানোর জন্য অনেক যাত্রীই মদ্যপান করে থাকেন। তবে মদ্যপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। বা এড়িয়ে চলুন। তাছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানে আপনি নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন তাই অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে বিরত থাকুন। অথবা মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্লেনে ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

প্লেনে ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনে প্রথমবার বিমান ভ্রমণে যাত্রীদের মধ্যে সবসময় আলাদা একটা উত্তেজনা কাজ করে থাকে। তাছাড়া ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী হলে কিছু বিষয় মেনে চললে আপনার যাত্রা ঝামেলামুক্ত ও আনন্দদায়ক হয়ে উঠতে পারে। এতে করে আপনি একটা নিরাপদ ও সহজ বিমান ভ্রমণ করতে পারেন।

বিমান ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:-

বিমানবালা দের সাথে ভালো ব্যবহার করা:-
মূলত বিমানবালাদের অন্যতম কাজ হচ্ছে বিমানের সব নিয়মকানুন আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া। সিট বেল্ট বাঁধা, খাবার দেওয়া, বিমান অবতরণের আগে আরেকবার সিট বেল্ট বেঁধে নেয়ার পরামর্শ ইত্যাদি । এসমস্ত কাজের ক্ষেত্রে বিমানবালা যাত্রীদের সহযোগিতা করে থাকে। কাজেই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের ফলে তারা বিরক্ত হতে পারেন এবং এতে করে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রেও দেরি হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া তাদের সাথে প্রয়োজনের বাহিরে কথা বলা যাবেনা।

নিজের মালপত্র ঠিক জায়গায় রাখা:-
বিমানে মাথার ওপর মালপত্র রাখাকে ‘বিন’ বলা হয়। আর বিমানের প্রতিটি ব্যাগের জন্যই মূল্য দিতে হয়। তাই প্রতিটি ‘বিন’ই মূল্যবান। আনুভূমিকভাবে নিজের ব্যাগ বিনে রেখে অন্যের জায়গা দখল করা উচিত নয়। তাই নিজস্ব জায়গা টুকুই ব্যবহার করুন। নিজের মালপত্র সঠিক জায়গায় রাখুন।

সঠিক সময়ে নিজের আসন থেকে উঠুন:-
আপনি বাথরুমে যাওয়ার জন্য আসন ছাড়ার আগে আরেকবার ভেবে দেখুন, যদি দেখেন বিমানের আসনের মধ্যবর্তী পথে বিমানবালার হাতে খাবারের ট্রে, তাহলে আপনার আসনে বসে থাকাই উচিত হবে। বিমানবালার হাত থেকে খাবার সংগ্রহ না করে আসন ছাড়া ঠিক নয়। তাই যখন একদম সঠিক সময় হবে ঠিক তখনই আপনার জায়গা থেকে উঠবেন।

বিমানের টয়লেট এর সঠিক ব্যবহার:-
বিমানের টয়লেটে বেশি সময় না নেয়াই ভালো। এ ছাড়া নোংরা অবস্থায় রেখে আসা ও উচিত নয়। আপনার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বিমানের ময়লা যত্রতত্র ফেলা বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু ব্যবহার না করা বা এমন কিছু সাথে না রাখা:-
মনে রাখবেন, তীব্র গন্ধযুক্ত কোনো আতর বা পারফিউম মেখে বিমান ভ্রমণ না করাই ভালো। এতে আপনার অন্য যাত্রীরা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে। এ ছাড়া বিমানে এমন খাবার নিয়ে ওঠা উচিত না, যা তীব্র গন্ধ ছড়ায়। এতে বিমানের পরিবেশ তো নষ্ট হবেই পাশাপাশি আপনাকে পড়তে হবে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

নিজের সন্তানদের দেখে রাখুন:-
বিমানে ওঠার আগে নানা ধরনের নিয়মকানুন মানতে গিয়ে হয়তো আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সন্তানকে দেখে রাখা আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তেমনি অন্য বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে আপনার উচিত তাদের মা-বাবাকে বিষয়টা জানানো। বিমানে অন্য কারো বাচ্চাকে ধমক দেওয়ার সঠিক জায়গা নয়। কাউকে শাসন করার মতো ভুল করবেন না। আর আপনার বাচ্চা দুষ্টুমি করলে তাকে ভদ্রভাবে শান্ত করার চেষ্টা করুন। সন্তানকে দেখে রাখুন।

বিমানে ঘুমানোর নিয়ম:-
বিমানে উঠে ঘুমানোর জন্য আপনি একটা নেক পিলো (ঘুমানোর জন্য বিশেষ ধরনের এক বালিশ, যা ঘাড়ে জড়িয়ে নেয়া যায়) চাইতেই পারেন। নেক পিলোর বিশেষ সুবিধা হলো ঘুমের মধ্যে আপনার মাথা অন্য কারো ঘাড়ে চলে যাবে না। মনে রাখবেন যদি আপনি বিমানের মাঝখানের আসন পান তাহলে ট্রে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমানো উচিত নয়। এতে করে আপনার দুপাশের যাত্রীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তাছাড়া এটা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ঘুমানোর জন্য সঠিক সময় ও অবস্থান দেখে তারপর ঘুমাবেন।

হেলান দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে:-
বিমানে আপনি চাইলে আধশোয়া হয়ে ঘুমাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আসনটিকে আধশোয়া করে শোয়ার উপযুক্ত করে নিতে হবে। আর সেটি করার সময় আপনার পেছনের যাত্রীর দিকে খেয়াল রাখবেন। আপনার আসনটি আধশোয়ার উপযুক্ত করতে গিয়ে সেটি যেন আবার তার পানীয়, ল্যাপটপ বা পায়ের সঙ্গে না লেগে যায়। আপনার সুবিধার জন্য অন্য কারো অসুবিধা যেনো না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। খেয়াল করে দেখে তারপরই আপনি আপনার যে কোনো কাজ করবেন।

মদ্যপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা বা বিরত থাকা:-
বিমানে সময় কাটানোর জন্য অনেক যাত্রীই মদ্যপান করে থাকেন। তবে মদ্যপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। বা এড়িয়ে চলুন। তাছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানে আপনি নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন তাই অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে নিয়ন্ত্রণ হারানো থেকে বিরত থাকুন। অথবা মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।