বিচারক সংকটে বাড়ছে মামলাজট, ‘ঈদের পর’ নিয়োগ

ডেস্ক এডিটর এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
বিচারক সংকটে বাড়ছে মামলাজট, ‘ঈদের পর’ নিয়োগ
হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি

বিচারক সংকটে ভুগছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিচারক সংকট চরম আকার ধারণ করায় কমিয়ে আনতে হয়েছে বেঞ্চের সংখ্যা। এতে বেড়েছে মামলাজট। তবে শিগগির আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বলা হয়, বিচারকরা হলেন বিচার বিভাগের প্রধান চালিকাশক্তি। তবে সেই বিচারক সংকটে পড়ে আপিল বিভাগে বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। এর আগে ছিলেন ছয়জন। এর মধ্যে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। বিচারপতি বোরহান উদ্দিনসহ প্রায় ১৪ মাসে চারজন বিচারপতি অবসরে গেছেন। এই সময়ে আর কেউ নিয়োগ পাননি। ফলে আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির জন্য কমিয়ে আনতে হয়েছে বেঞ্চের সংখ্যা। এতে গত কয়েক মাসে মামলাজটও বেড়েছে।

মামলাজট নিরসনে প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অনেকেই বিচারক নিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তাগিদও দিয়েছেন। আদালতে বিদ্যমান মামলাজট কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে বলেও এর আগে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

২০০৯ সালেও আপিল বিভাগে মোট ১১ জন বিচারপতি দায়িত্বরত ছিলেন। বর্তমানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন নিয়োগ না হওয়ায় পিলখানা ট্র্যাজেডির মামলাসহ চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার বিচারকাজ কার্যত থেমে আছে। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ২১ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন। সেই সংখ্যা এখন আরও বাড়ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, বর্তমানে আপিল বিভাগে যে সংখ্যক মামলা রয়েছে, তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হলে আপিল বিভাগে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনটি বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তা মামলাজট কমাতে সহায়ক হবে।

সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আপিল বিভাগে সংকট কাটাতে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে চলতি মার্চ নাকি এপ্রিলে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে তা কেউ নিশ্চিত করেননি। আসন্ন রোজার ঈদের পর আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ হতে পারে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন।

এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে কে কে নিয়োগ পেতে পারেন তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে উঠে এসেছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম, বিচারপতি আব্দুল হাফিজ, বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের নাম। তাদের মধ্যে থেকে বা তাদের বাইরে থেকেও আপিল বিচারক নিয়োগ হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

সংবিধানে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তবে সিনিয়র একজন আইনজীবীর দাবি, সরকারে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরাসহ প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে নিয়োগ হয়ে থাকে। সেখানে ছয়, সাত, নয় বা কমপক্ষে ১১ জন বিচারক আপিল বিভাগে নিয়োগ দিতে পারেন। যারা তিনটি আলাদা বেঞ্চে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আপিল বিভাগে সাতজন বিচারপতি কর্মরত ছিলেন। তখন পর্যন্ত দুটি বেঞ্চে নিয়মিত বিচারকাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং দ্বিতীয় বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (বর্তমান প্রধান বিচারপতি)। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এরই মধ্যে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। শপথগ্রহণের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওবায়দুল হাসান। এরপর অবকাশ (ছুটি) শেষে গত ৮ অক্টোবর থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চে নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হয়। বিচারক সংকট থাকায় বেঞ্চের সংখ্যা তখন থেকেই একটি।

বিচারক স্বল্পতায় পিলখানায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের মামলাসহ চাঞ্চল্যকর বেশকিছু মামলার বিচার থেমে আছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, সর্বোচ্চ আদালতে পিলখানা হত্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি করতে আপিল বিভাগে আলাদা বেঞ্চ গঠন করতে হবে। বর্তমানে বিচারক সংকট রয়েছে। তাই পিলখানাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানি করা যাচ্ছে না। আশা করছি, অচিরেই আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ হবে।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছেন। গত ২৬ জানুয়ারি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা দিতে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। সারাদেশের বিচারক সংকট ও বিচারকদের বসার ভবনসহ সব সংকট নিরসনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিগগির সব সংকট কেটে যাবে।

আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মো. মমতাজ উদ্দিন ফকির জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনা করার জন্য কমপক্ষে দুটি বেঞ্চ থাকা প্রয়োজন। আশা করি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরাসহ আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন, যেন তিনটি আলাদা বেঞ্চে বিচারকাজ চালাতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারাদেশেই বিচারক সংকট। সংকট উত্তরণের জন্য বিভিন্ন সময়েই অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও বিচারক নিয়োগ নিয়ে অগ্রগতি দেখছি না। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চে কাজ করছে। তিনটি বেঞ্চ হলে ভালো হয়। বিচারক কম থাকায় মামলাজট লেগেছে। মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখতে পাচ্ছি।’

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, ‘আশা করবো খুব দ্রুত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরাসহ আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। এমন সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ দেবেন যেন টোটাল আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি হন, সেই দাবি জানাচ্ছি।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিচারক সংকটে বাড়ছে মামলাজট, ‘ঈদের পর’ নিয়োগ

বিচারক সংকটে বাড়ছে মামলাজট, ‘ঈদের পর’ নিয়োগ
হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি

বিচারক সংকটে ভুগছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিচারক সংকট চরম আকার ধারণ করায় কমিয়ে আনতে হয়েছে বেঞ্চের সংখ্যা। এতে বেড়েছে মামলাজট। তবে শিগগির আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বলা হয়, বিচারকরা হলেন বিচার বিভাগের প্রধান চালিকাশক্তি। তবে সেই বিচারক সংকটে পড়ে আপিল বিভাগে বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। এর আগে ছিলেন ছয়জন। এর মধ্যে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। বিচারপতি বোরহান উদ্দিনসহ প্রায় ১৪ মাসে চারজন বিচারপতি অবসরে গেছেন। এই সময়ে আর কেউ নিয়োগ পাননি। ফলে আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির জন্য কমিয়ে আনতে হয়েছে বেঞ্চের সংখ্যা। এতে গত কয়েক মাসে মামলাজটও বেড়েছে।

মামলাজট নিরসনে প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অনেকেই বিচারক নিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তাগিদও দিয়েছেন। আদালতে বিদ্যমান মামলাজট কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে বলেও এর আগে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

২০০৯ সালেও আপিল বিভাগে মোট ১১ জন বিচারপতি দায়িত্বরত ছিলেন। বর্তমানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন নিয়োগ না হওয়ায় পিলখানা ট্র্যাজেডির মামলাসহ চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার বিচারকাজ কার্যত থেমে আছে। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ২১ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন। সেই সংখ্যা এখন আরও বাড়ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, বর্তমানে আপিল বিভাগে যে সংখ্যক মামলা রয়েছে, তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হলে আপিল বিভাগে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনটি বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তা মামলাজট কমাতে সহায়ক হবে।

সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আপিল বিভাগে সংকট কাটাতে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে চলতি মার্চ নাকি এপ্রিলে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে তা কেউ নিশ্চিত করেননি। আসন্ন রোজার ঈদের পর আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ হতে পারে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন।

এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে কে কে নিয়োগ পেতে পারেন তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে উঠে এসেছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম, বিচারপতি আব্দুল হাফিজ, বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের নাম। তাদের মধ্যে থেকে বা তাদের বাইরে থেকেও আপিল বিচারক নিয়োগ হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

সংবিধানে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তবে সিনিয়র একজন আইনজীবীর দাবি, সরকারে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরাসহ প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে নিয়োগ হয়ে থাকে। সেখানে ছয়, সাত, নয় বা কমপক্ষে ১১ জন বিচারক আপিল বিভাগে নিয়োগ দিতে পারেন। যারা তিনটি আলাদা বেঞ্চে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আপিল বিভাগে সাতজন বিচারপতি কর্মরত ছিলেন। তখন পর্যন্ত দুটি বেঞ্চে নিয়মিত বিচারকাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং দ্বিতীয় বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (বর্তমান প্রধান বিচারপতি)। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এরই মধ্যে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। শপথগ্রহণের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওবায়দুল হাসান। এরপর অবকাশ (ছুটি) শেষে গত ৮ অক্টোবর থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চে নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হয়। বিচারক সংকট থাকায় বেঞ্চের সংখ্যা তখন থেকেই একটি।

বিচারক স্বল্পতায় পিলখানায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের মামলাসহ চাঞ্চল্যকর বেশকিছু মামলার বিচার থেমে আছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, সর্বোচ্চ আদালতে পিলখানা হত্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি করতে আপিল বিভাগে আলাদা বেঞ্চ গঠন করতে হবে। বর্তমানে বিচারক সংকট রয়েছে। তাই পিলখানাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানি করা যাচ্ছে না। আশা করছি, অচিরেই আপিল বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগ হবে।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছেন। গত ২৬ জানুয়ারি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা দিতে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। সারাদেশের বিচারক সংকট ও বিচারকদের বসার ভবনসহ সব সংকট নিরসনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিগগির সব সংকট কেটে যাবে।

আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মো. মমতাজ উদ্দিন ফকির জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনা করার জন্য কমপক্ষে দুটি বেঞ্চ থাকা প্রয়োজন। আশা করি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরাসহ আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন, যেন তিনটি আলাদা বেঞ্চে বিচারকাজ চালাতে পারেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারাদেশেই বিচারক সংকট। সংকট উত্তরণের জন্য বিভিন্ন সময়েই অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও বিচারক নিয়োগ নিয়ে অগ্রগতি দেখছি না। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চে কাজ করছে। তিনটি বেঞ্চ হলে ভালো হয়। বিচারক কম থাকায় মামলাজট লেগেছে। মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখতে পাচ্ছি।’

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, ‘আশা করবো খুব দ্রুত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরাসহ আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। এমন সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ দেবেন যেন টোটাল আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি হন, সেই দাবি জানাচ্ছি।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।