শ্রদ্ধার ফুলে সিক্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

ন্যাশনাল ডেস্ক এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
শ্রদ্ধার ফুলে সিক্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

আজ ২৬ মার্চ, ৫৩তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে অনন্য একটি দিন। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অঙ্গীকার নিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) দিবসের প্রথম প্রহরে ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ভুটানের রাজাও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা জানানো ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভোর ৬টার কিছু সময় পরে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় অতিথিরা। এরপরেই স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সঙ্গে সঙ্গে জাতির বীর সেনানিদের শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে।

শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সী মানুষের আগমণে মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ। তাদের ফুলেল শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যুদ্ধাহত অনেক মুক্তিযোদ্ধাও এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তাদের অনেকের হাতে ছিল লাল-সবুজের বিজয় পতাকা।

বাবা সাইফুল ইসলামের হাত ধরে ঢাকার ধামরাই থেকে স্মৃতিসৌধে এসেছে শিশু মাইশা। আধো বোলে “জয় বাংলা” স্লোগান দিচ্ছিল সে। সাইফুল ইসলাম বলেন, “সন্তানকে স্বাধীনতা দিবস ও স্মৃতিসৌধ দেখাতে নিয়ে এসেছি।”

সাভার থেকে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আকরাম হেসেন। তিনি বলেন, “এবার রোজার কারণে স্মৃতিসৌধে লোকজন তুলনামূলক অনেক কম এসেছে। আমি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ভোর বেলায় এসেছি। আমার অফিসের অনেক কলিগ সেহরির পর পরেই ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছে। সকালে স্মৃতিসৌধে সবাইকে নিয়ে ফুল দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।”

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইভা বলেন, “আজ মহান দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসব এটা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। আমরা কয়েকজন একসঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছি। স্বাধীনতা দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে ভালো লাগছে।”

জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, “সকালে জনসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করার পর দলে দলে মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শ্রদ্ধার ফুলে ধীরে ধীরে বেদি ভরে যাচ্ছে। তবে শ্রদ্ধা নিবেদনে সুবিধার্থে বেদি থেকে ফুল অপসারণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে স্মৃতিসৌধসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শ্রদ্ধার ফুলে সিক্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

শ্রদ্ধার ফুলে সিক্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

আজ ২৬ মার্চ, ৫৩তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে অনন্য একটি দিন। দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র বাঙালির বিরুদ্ধে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অঙ্গীকার নিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) দিবসের প্রথম প্রহরে ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ভুটানের রাজাও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা জানানো ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভোর ৬টার কিছু সময় পরে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় অতিথিরা। এরপরেই স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সঙ্গে সঙ্গে জাতির বীর সেনানিদের শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে।

শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সী মানুষের আগমণে মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ। তাদের ফুলেল শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যুদ্ধাহত অনেক মুক্তিযোদ্ধাও এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তাদের অনেকের হাতে ছিল লাল-সবুজের বিজয় পতাকা।

বাবা সাইফুল ইসলামের হাত ধরে ঢাকার ধামরাই থেকে স্মৃতিসৌধে এসেছে শিশু মাইশা। আধো বোলে “জয় বাংলা” স্লোগান দিচ্ছিল সে। সাইফুল ইসলাম বলেন, “সন্তানকে স্বাধীনতা দিবস ও স্মৃতিসৌধ দেখাতে নিয়ে এসেছি।”

সাভার থেকে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আকরাম হেসেন। তিনি বলেন, “এবার রোজার কারণে স্মৃতিসৌধে লোকজন তুলনামূলক অনেক কম এসেছে। আমি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ভোর বেলায় এসেছি। আমার অফিসের অনেক কলিগ সেহরির পর পরেই ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছে। সকালে স্মৃতিসৌধে সবাইকে নিয়ে ফুল দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।”

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইভা বলেন, “আজ মহান দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসব এটা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। আমরা কয়েকজন একসঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছি। স্বাধীনতা দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে ভালো লাগছে।”

জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, “সকালে জনসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করার পর দলে দলে মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। শ্রদ্ধার ফুলে ধীরে ধীরে বেদি ভরে যাচ্ছে। তবে শ্রদ্ধা নিবেদনে সুবিধার্থে বেদি থেকে ফুল অপসারণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে স্মৃতিসৌধসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।