দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক এডিটর এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

বর্তমানে অন্যতম এক আলোচ্য বিষয়ের নাম ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি’। সকল পণ্য সামগ্ৰীর মূল্য যেন আকাশছোঁয়া। নানান অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে চলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের।এতে চরম বিপাকে পড়ছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। ঊর্ধ্বমুখী বাজার প্রবণতা সম্পর্কে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরছেন মো: মাহমুদুল হাসান ।

 

নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে

আমাদের পাঁচটা মৌলিক চাহিদার মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। আমরা জানি, যে জাতির যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। তাই বলা যায় শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে খাতা,কলম, পেন্সিল ইত্যাদি। এসব নিত্যপণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যা আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। শিক্ষাকে পণ্য নয়, সচেতনতাই পারে সিন্ডিকেটের হাতে বাঁচাতে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা মহামারীর পরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা গরীব তবে অনেক মেধাবী। শিক্ষার উপকরণের দাম এতটাই বেড়েছে যা ক্রয় করা গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।যেখানে একজন সাধারণ মানুষের আয় থেকে ব্যয়ের পরিমাণই বেশি। যার ফলে নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের বেঁচে থাকা হয়ে যাচ্ছে দুর্বিষহ। একদিকে আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এই দুয়ের সাঁড়াশি চাপে সাধারণ মানুষ ডুবে যাচ্ছে। পরিণামে ঘনিয়ে উঠেছে এক চরম সংকট, বেড়ে চলছে নিদারুণ জীবনযন্ত্রণা। এমতাবস্থায় সরকার শিক্ষার উপকরণের দাম কমিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থা নিলেই সমাজ তথা দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।

মোঃ আনজার হোসেন 
শিক্ষার্থী, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ
ফরিদপুর ইন্জিনিয়ারিং কলেজ।

 

দ্রব্যমূল্য যেন লাগামহীন ঘোড়ার মতো 

উন্নয়ন তো হচ্ছে কতো কিছুর কিন্তু সেই উন্নয়নে আমরা দেখতে পাচ্ছি দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে মানুষের হাহাকারে জনসাধারণ এর দূর্বিষহ অবস্থা।আর সেটা যদি হয় রমজান মাস, তাহলে তো দ্রব্যমূল্য যেন লাগামহীন ঘোড়ার মতো ,উর্ধ্বের দিকে ছুটে চলছে তো চলছেই থামার যেন কথায় নেই । বাজারে গেলে দেখতে,পায় মনে হয় না সরকারের কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ আছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে নেই কোন কমতি। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি থেকে শুরু করে এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নেই, যার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না। দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন ও লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে সত্যিই অতিষ্ট করে তুলছে।হরহামেশায় দ্রব্যমূল্যোর দাম বৃদ্ধির ফলে সীমিত আয়ের মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, অশান্তির থাকছে না কোন কমতি। এ অবস্থায় কালোবাজারিদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শামীমা আক্তার শান্তা 
শিক্ষার্থী, ফ্যাকাল্টি অফ এগ্রিকালচার
শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বর্তমানে চিকিৎসার ওষুধ কেনাও যেন বিলাসিতা

অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের একটি ওষুধ। রোগ থেকে উপশম পেতে আমাদের ওষুধ সেবন করতে হয়। কিন্তু এই ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। ফলে বর্তমান বাজারে আরো বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ। ওষুধের দাম সর্বনিম্ন ২০ ও সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। গড়ে দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে চিকিৎসা একটি অন্যতম, এখানে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে দেশের উন্নয়ন নাকি বেড়েই চলেছে। প্রকৃত বাস্তবতায় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি চিকিৎসা সেবা গ্রহণে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সাধারণ জনগণ এর জন্য। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কথা না বললেই নয় তারা যেন নিত্য প্রয়োজনীয় দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ওষুধ কেউ পুঁজি করছে, মারাত্মক ডেঙ্গুর এই প্রকোপের সময় ওষুধের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি চরম বিপর্যয় নিয়ে আসছে। বাজারে কোনো কোনো ওষুধের দাম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ছয় টাকার ট্যাবলেটের দাম হয়েছে ৯-১০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। বর্তমান বাজারে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে পারেনা, সে সময়ে চিকিৎসা সেবায় ওষুধ কেনাটা যেন বিলাসিতা। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যে সহ ওষুধের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার মত অবস্থা। এভাবে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের সম্মুখীন। চিকিৎসা মৌলিক অধিকার, তাও আজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। অবিলম্বে স্বাস্থ্যখাতে এই বেহাল দশার সঙ্গে জড়িত অবৈধভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় ওর পাশাপাশি ওষুধের দাম বৃদ্ধি সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং জনসাধারনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য সাধারণ রোগীদের নাগালের মধ্যে রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

মোঃ নাজমুল হক শিমুল
শিক্ষার্থী, আরবান এন্ড রুরাল প্ল্যানিং বিভাগ,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দেশ নাজেহাল

মরে যাওয়ার চেয়ে, বেঁচে থাকা বড়ই কঠিন
কবে আসবে অসহায় মানুষদের আনন্দের দিন?
ভাত চাই রুটি চাই পরনের কাপড় চাই, কাপড় কিনতে টাকা চাই টাকা কিন্তু জনসাধারণের পর্যাপ্ত নাই। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি বাড়ছে তো বাড়ছেই কমার যেন নাম নাই । মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬ টি। তবে সবকিছু যেন খাতা-কলমে ,বাস্তবে রয়েছে উল্টো। দ্রব্যমূল্যের আকাশ ছোঁয়া দামে সবকিছু যেন ভাঙচুর। বর্তমানে পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধুমাত্র তৈরি পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানির পরিমাণ ৪২.৬১৩ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮১.৮১ ভাগ। বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়। এতকিছুর পরও বাংলাদেশে পোশাকে দাম নেই কোন কমতি , সর্বসাধারণের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে দাম। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশন এক বছরের ব্যবধানে সাড়ে ১১ শতাংশীয় বেড়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন ছিল ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেটি বেড়ে ৬৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় বস্ত্রের দাম এত বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ থরথর করে কাঁপছে। উপযুক্ত করে অযৌক্তিকভাবে এত দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা শিক্ষার্থীরা মনে করি,বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান সবুজ শ্যামল দেশ, এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির হবেই একদিন শেষ।

সুজনা মহিন জীম
শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ,
গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়। 

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

বর্তমানে অন্যতম এক আলোচ্য বিষয়ের নাম ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি’। সকল পণ্য সামগ্ৰীর মূল্য যেন আকাশছোঁয়া। নানান অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে চলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের।এতে চরম বিপাকে পড়ছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। ঊর্ধ্বমুখী বাজার প্রবণতা সম্পর্কে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরছেন মো: মাহমুদুল হাসান ।

 

নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে

আমাদের পাঁচটা মৌলিক চাহিদার মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। আমরা জানি, যে জাতির যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। তাই বলা যায় শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে খাতা,কলম, পেন্সিল ইত্যাদি। এসব নিত্যপণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যা আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। শিক্ষাকে পণ্য নয়, সচেতনতাই পারে সিন্ডিকেটের হাতে বাঁচাতে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা মহামারীর পরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা গরীব তবে অনেক মেধাবী। শিক্ষার উপকরণের দাম এতটাই বেড়েছে যা ক্রয় করা গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।যেখানে একজন সাধারণ মানুষের আয় থেকে ব্যয়ের পরিমাণই বেশি। যার ফলে নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের বেঁচে থাকা হয়ে যাচ্ছে দুর্বিষহ। একদিকে আকাশছোঁয়া দাম, অন্যদিকে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এই দুয়ের সাঁড়াশি চাপে সাধারণ মানুষ ডুবে যাচ্ছে। পরিণামে ঘনিয়ে উঠেছে এক চরম সংকট, বেড়ে চলছে নিদারুণ জীবনযন্ত্রণা। এমতাবস্থায় সরকার শিক্ষার উপকরণের দাম কমিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থা নিলেই সমাজ তথা দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।

মোঃ আনজার হোসেন 
শিক্ষার্থী, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ
ফরিদপুর ইন্জিনিয়ারিং কলেজ।

 

দ্রব্যমূল্য যেন লাগামহীন ঘোড়ার মতো 

উন্নয়ন তো হচ্ছে কতো কিছুর কিন্তু সেই উন্নয়নে আমরা দেখতে পাচ্ছি দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে মানুষের হাহাকারে জনসাধারণ এর দূর্বিষহ অবস্থা।আর সেটা যদি হয় রমজান মাস, তাহলে তো দ্রব্যমূল্য যেন লাগামহীন ঘোড়ার মতো ,উর্ধ্বের দিকে ছুটে চলছে তো চলছেই থামার যেন কথায় নেই । বাজারে গেলে দেখতে,পায় মনে হয় না সরকারের কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ আছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে নেই কোন কমতি। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি থেকে শুরু করে এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নেই, যার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে না। দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন ও লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে সত্যিই অতিষ্ট করে তুলছে।হরহামেশায় দ্রব্যমূল্যোর দাম বৃদ্ধির ফলে সীমিত আয়ের মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, অশান্তির থাকছে না কোন কমতি। এ অবস্থায় কালোবাজারিদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শামীমা আক্তার শান্তা 
শিক্ষার্থী, ফ্যাকাল্টি অফ এগ্রিকালচার
শের-এ-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বর্তমানে চিকিৎসার ওষুধ কেনাও যেন বিলাসিতা

অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের একটি ওষুধ। রোগ থেকে উপশম পেতে আমাদের ওষুধ সেবন করতে হয়। কিন্তু এই ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। ফলে বর্তমান বাজারে আরো বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ। ওষুধের দাম সর্বনিম্ন ২০ ও সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। গড়ে দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে চিকিৎসা একটি অন্যতম, এখানে মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে দেশের উন্নয়ন নাকি বেড়েই চলেছে। প্রকৃত বাস্তবতায় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি চিকিৎসা সেবা গ্রহণে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সাধারণ জনগণ এর জন্য। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কথা না বললেই নয় তারা যেন নিত্য প্রয়োজনীয় দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ওষুধ কেউ পুঁজি করছে, মারাত্মক ডেঙ্গুর এই প্রকোপের সময় ওষুধের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি চরম বিপর্যয় নিয়ে আসছে। বাজারে কোনো কোনো ওষুধের দাম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ছয় টাকার ট্যাবলেটের দাম হয়েছে ৯-১০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। বর্তমান বাজারে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে পারেনা, সে সময়ে চিকিৎসা সেবায় ওষুধ কেনাটা যেন বিলাসিতা। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যে সহ ওষুধের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার মত অবস্থা। এভাবে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের সম্মুখীন। চিকিৎসা মৌলিক অধিকার, তাও আজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। অবিলম্বে স্বাস্থ্যখাতে এই বেহাল দশার সঙ্গে জড়িত অবৈধভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় ওর পাশাপাশি ওষুধের দাম বৃদ্ধি সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং জনসাধারনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য সাধারণ রোগীদের নাগালের মধ্যে রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

মোঃ নাজমুল হক শিমুল
শিক্ষার্থী, আরবান এন্ড রুরাল প্ল্যানিং বিভাগ,
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দেশ নাজেহাল

মরে যাওয়ার চেয়ে, বেঁচে থাকা বড়ই কঠিন
কবে আসবে অসহায় মানুষদের আনন্দের দিন?
ভাত চাই রুটি চাই পরনের কাপড় চাই, কাপড় কিনতে টাকা চাই টাকা কিন্তু জনসাধারণের পর্যাপ্ত নাই। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি বাড়ছে তো বাড়ছেই কমার যেন নাম নাই । মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬ টি। তবে সবকিছু যেন খাতা-কলমে ,বাস্তবে রয়েছে উল্টো। দ্রব্যমূল্যের আকাশ ছোঁয়া দামে সবকিছু যেন ভাঙচুর। বর্তমানে পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধুমাত্র তৈরি পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানির পরিমাণ ৪২.৬১৩ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮১.৮১ ভাগ। বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়। এতকিছুর পরও বাংলাদেশে পোশাকে দাম নেই কোন কমতি , সর্বসাধারণের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে দাম। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশন এক বছরের ব্যবধানে সাড়ে ১১ শতাংশীয় বেড়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন ছিল ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেটি বেড়ে ৬৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় বস্ত্রের দাম এত বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ থরথর করে কাঁপছে। উপযুক্ত করে অযৌক্তিকভাবে এত দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা শিক্ষার্থীরা মনে করি,বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান সবুজ শ্যামল দেশ, এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির হবেই একদিন শেষ।

সুজনা মহিন জীম
শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ,
গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়। 

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।