এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা

ন্যাশনাল ডেস্ক এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা
জন্মগত ত্রুটি নিয়ে দিনাজপুরের ভ্যানচালক মাহফুজুলের ঘরে ২৭ মার্চ জন্ম নিয়েছে একটি শিশু।ছবি: সংগৃহীত

শিশুটি পৃথিবীতে এসেছে নানান ত্রুটি নিয়ে। একটি পা তার, নেই মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা। তার জন্ম দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শালখুড়িয়া গ্রামে। তাকে নিয়ে এখন অভিভাবকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

উন্নত চিকিৎিসার বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে শিশুটিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বিরামপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জমজ সন্তানের জন্ম দেন শালখুড়িয়া গ্রামের মাহফুজুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। দুই সন্তানের একজন সুস্থ-স্বাভাবিক। অন্যজনের রয়েছে নানান জন্মগত ত্রুটি।

মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা না থাকায় শিশুটিকে খাওয়ানো যাচ্ছে না। স্থানীয় চিকিৎসকরা ওইদিন রাত সাড়ে ১১টায় তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

শিশুর নানি আক্তারা বেগম বলেন, “বুধবার বিকেলে অস্বাভাবিক অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুটিকে রাতেই এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।”

শিশুটির বাবা ভ্যানচালক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “আমার দুই নবজাতকের মধ্যে এক মেয়ে সুস্থ আছে। আরেকজন একটি পা নিয়ে জন্ম নেয়। পাশাপাশি তার মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা নেই। আমার সন্তানের সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”

সন্তানের চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

শিশু দুটির মাকে সিজার অপারেশন করা বিরামপুরের গাইনি চিকিৎসক তাহেরা বেগম বলেন, “জিনগত সমস্যার কারণে জন্মগতভাবে শিশুটির ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অপারেশনের মাধ্যমে প্রস্রাব ও পায়ুপথ বের করা না গেলে শিশুটির বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। তবে তার শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন- মুখ, নাক, কান ও হাত স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠিয়েছি।”

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফাতেমা ফারজানা বলেন, “গত বুধবার রাতে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তার মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা নেই এবং একটি মাত্র পা। তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। শিশুটির পেট ফোলা ছিল এবং শ্বাসকস্ট হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

এই চিকিৎসক আরও বলেন, “অধিকতর পরীক্ষায় দেখা যায়, জন্মগতভাবে শিশুটির হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাকে শিরাপথে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এই অবস্থায় অবিলম্বে তার মলত্যাগ ও প্রস্রাবের জন্য রাস্তা তৈরি করতে হবে।”

এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দিনাজপুরে কঠিন জানিয়ে ডা. ফাতেমা বলেন, “এজন্য আমরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।”

এদিকে, বুধবার রাতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভবিষ্যতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেন জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবারকে কিছু আর্থিক সহযোগিতাও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা

এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুটির নেই মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা
জন্মগত ত্রুটি নিয়ে দিনাজপুরের ভ্যানচালক মাহফুজুলের ঘরে ২৭ মার্চ জন্ম নিয়েছে একটি শিশু।ছবি: সংগৃহীত

শিশুটি পৃথিবীতে এসেছে নানান ত্রুটি নিয়ে। একটি পা তার, নেই মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা। তার জন্ম দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শালখুড়িয়া গ্রামে। তাকে নিয়ে এখন অভিভাবকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

উন্নত চিকিৎিসার বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে শিশুটিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বিরামপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জমজ সন্তানের জন্ম দেন শালখুড়িয়া গ্রামের মাহফুজুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। দুই সন্তানের একজন সুস্থ-স্বাভাবিক। অন্যজনের রয়েছে নানান জন্মগত ত্রুটি।

মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা না থাকায় শিশুটিকে খাওয়ানো যাচ্ছে না। স্থানীয় চিকিৎসকরা ওইদিন রাত সাড়ে ১১টায় তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

শিশুর নানি আক্তারা বেগম বলেন, “বুধবার বিকেলে অস্বাভাবিক অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুটিকে রাতেই এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।”

শিশুটির বাবা ভ্যানচালক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “আমার দুই নবজাতকের মধ্যে এক মেয়ে সুস্থ আছে। আরেকজন একটি পা নিয়ে জন্ম নেয়। পাশাপাশি তার মলদ্বার ও প্রস্রাবের রাস্তা নেই। আমার সন্তানের সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”

সন্তানের চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

শিশু দুটির মাকে সিজার অপারেশন করা বিরামপুরের গাইনি চিকিৎসক তাহেরা বেগম বলেন, “জিনগত সমস্যার কারণে জন্মগতভাবে শিশুটির ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অপারেশনের মাধ্যমে প্রস্রাব ও পায়ুপথ বের করা না গেলে শিশুটির বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। তবে তার শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন- মুখ, নাক, কান ও হাত স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠিয়েছি।”

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফাতেমা ফারজানা বলেন, “গত বুধবার রাতে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তার মলদ্বার ও প্রসাবের রাস্তা নেই এবং একটি মাত্র পা। তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। শিশুটির পেট ফোলা ছিল এবং শ্বাসকস্ট হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

এই চিকিৎসক আরও বলেন, “অধিকতর পরীক্ষায় দেখা যায়, জন্মগতভাবে শিশুটির হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাকে শিরাপথে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এই অবস্থায় অবিলম্বে তার মলত্যাগ ও প্রস্রাবের জন্য রাস্তা তৈরি করতে হবে।”

এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দিনাজপুরে কঠিন জানিয়ে ডা. ফাতেমা বলেন, “এজন্য আমরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।”

এদিকে, বুধবার রাতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভবিষ্যতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেন জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবারকে কিছু আর্থিক সহযোগিতাও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।