বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন? সকালের কয়েকটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আপনাকে এই সাফল্য পেতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার জন্যেও এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করা জরুরি। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা একটি ভিডিওতে জানান এমনই কিছু অভ্যাসের ব্যাপারে।
১। সকালে আধা লিটার পানি খান খালি পেটে। এতে নাস্তার সময় খুব বেশি খাবার খাওয়া হবে না, পেটও ভরা লাগবে। খাবার খাওয়ার ঠিক আগেই পানি খেলে হজমে সমস্যা হবে এমন ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
২। সকালেই ঠিক করে ফেলুন স্ন্যাকস হিসেবে সারাদিন কী খাবেন। কোল্ড ড্রিংক, পুরি, সিঙ্গারার মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ফেলা এড়ানো যাবে এতে। বাইরে যাওয়ার আগে এক বাটি ফল কেটে সঙ্গে নিয়ে নিন। বাদাম বা শুকনা ফলও নিয়ে নিতে পারেন। ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারও সাথে নিয়ে বের হতে পারেন।
৩। সম্ভব হলে সকালে হেঁটে অফিসে যান বা শিশুকে স্কুলে নিয়ে যান। অফিস অনেক দূরে হলে ১০/১৫ মিনিটের দূরত্বে নেমে হেঁটে যেতে পারেন। আস্তে আস্তে হাঁটার পরিমাণ বাড়ান। এতে ওজন কমে যাওয়ার পরেও স্বাস্থ্য ভালো রাখা সহজ হবে।
৪। সকালে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা চিনি ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করুন। চিনি খেলে বাড়তি ক্যালোরি প্রবেশ করে আমাদের শরীরে, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়। চায়ের সাথে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটাও বাদ দিয়ে দিন।
৫। সকালে ওজন মাপুন। নিয়মিত ওজন মাপলে সেটা ওজন কমানোর জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়- গবেষণা বলছে এমনটাই। সকালে টয়লেট সেরে খালি পেটে ওজন মাপুন।
৬। সকাল সকাল ব্যায়াম করা ভীষণ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। দড়িলাফ, দ্রুত হাঁটা, দৌড়, উঠবস, ভার উত্তোলন বা আপনার সুবিধা মতো যেকোনো ব্যায়াম করে করতে পারেন।
৭। সকালে উঠে হিসেব করে দেখুন কতক্ষণ ঘুমানো হলো রাতে। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কষ্টকর। যদি ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হয়, তবে ঘুমের রুটিনে দ্রুত পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করুন।
৮। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা করা হয় অতিরিক্ত ওজনের ১০০ জন মানুষকে নিয়ে। দুই দলে ভাগ করে এক দলকে বলা হয়েছিল প্রতিদিন সকালে ওজন মাপতে। আরেক দলকেও ওজন মাপতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তাদের বলা হয় ওজন মাপার পর একটি নির্দিষ্ট অ্যাকশন পয়েন্ট ঠিক করতে যা তাদের ওজন কমাতে সাহায্য করবে। যেমন বন্ধুদের সাথে আড্ডা না দিয়ে হাঁটতে যাওয়া, রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলা কিংবা এমন একটি কাজ যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ রকম যেকোনো একটি কাজ সেদিনের জন্য ঠিক করেছিল যে দল, ৮ সপ্তাহ পর তাদের ওজন অন্য দলের ওজনের চেয়ে কমেছে ৩ কেজি বেশি। এমন অ্যাকশন পয়েন্ট ঠিক করে নিতে পারেন ওজন কমানোর জন্য।