ব্রাজিলের ফুটবল কেন আকর্ষণ হারাচ্ছে?

স্পোর্টস ডেস্ক এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
ব্রাজিলের ফুটবল কেন আকর্ষণ হারাচ্ছে?

প্যারিসে ২০২৪-এর অলিম্পিকে দেখা যাবে না ব্রাজিলের ফুটবল দলকে। কারণ, অলিম্পিকে যাওয়ার জন্য কোয়ালিফাই করতে পারেনি ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভক্তদের জন্য যেটি মেনে নেওয়া বেশ কষ্টকর।

সম্প্রতি ব্রাজিল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে দরিভাল জুনিয়র। দুই বছরের মধ্যে তিনি ব্রাজিলে পঞ্চম কোচ। তার অধীনে শনিবার (২৩ মার্চ) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে হলুদ জার্সিধারীরা। মঙ্গলবার স্পেনের সঙ্গে দলটি ড্র করেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয়ের আগে টানা চার ম্যাচ জয়হীন, হার টানা তিন। ওই ম্যাচের আগে সবশেষ জয় গত বছর সেপ্টেম্বরে পেরুর বিপক্ষে। এর আগে গত বিশ্বকাপেও ভরাডুবি হয়েছে দলটির।

ফুটবল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রাজিলের ফুটবলের সেই সোনালী দিন এখন আর নেই। ক্রমেই মান কমছে তাদের দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের।

ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার গ্রাফিট ডয়চে ভেলেকে বলেন, “ব্রাজিলের সেই অপূর্ব খেলা, যার জন্য পেলের মতো প্লেয়াররা মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তা এখন আর চেনা যায় না। ফুটবলে ব্রাজিলিয়ান ঘরানা আজ আর নেই।”

গ্রাফিট চাইছেন ব্রাজিলে সেই ফুটবল যাতে আবার ফিরে আসে। তবে, এমন নয় যে গ্রাফিটই প্রথম এই কথা বললেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। তারপর বিখ্যাত ফুটবলার ও কোচ জাগালো বলেছিলেন, “ব্রাজিলের সব ফুটবল প্রতিভা বিদেশে চলে যাচ্ছে। ঘরের মাঠে খেতে আগ্রহী নয়। ফলে ফুটবলে ব্রাজিলের আইডেনটিটি বা পরিচয় আর বজায় থাকছে না।”

প্রায় ২০ বছর হলো ইউরোপে নিয়ম বদলেছে। ফলে বাইরের দেশের ফুটবলারদের সেখানে খেলা অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে খেলোয়াড় সেখানে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ব্রাজিল থেকে কয়েকশ ফুটবলার সেখানে খেলতে যান।

ঐতিহাসিক ডেভিড গোমস এর মতে, এ কারণেই ব্রাজিলের ফুটবল তার পরিচয় হারিয়েছে। গোমস বেশ কয়েক বছর ধরে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের ওপর গবেষণা করছেন।

তিনি বলেন, ”যে প্রতিভাবান ফুটবলাররা নিজের দেশে থেকে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারতেন, দেশের ফুটবলকে তুলে ধরতে পারতেন, তারা অকালে চলে যাচ্ছেন ইউরোপে। তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ হচ্ছে না। ব্রাজিলের ফুটবলের বিশেষত্ব ছিল অসাধারণ ড্রিবলিং, যা দেখে দর্শকরা আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ত।” সেটি এখন অনেকটাই ম্রিয়মান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৮ সালে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখান। একই ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন আরেক বিস্ময় এন্ড্রিক।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলের ফুটবল লিগ শুধু যে এই তারকা ফুটবলারদের হারাচ্ছে তাই নয়, দেশটির খেলার মানও পড়ে যাচ্ছে। প্রচুর ফুটবলার চলে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই হয়ত তেমনভাবে নজরে আসছেন না। এভাবেই ফুটবল প্রতিভাদের নিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের ক্লাবগুলো।

গ্রাফিট বলেন, “ব্রাজিলের ফুটবলাররা ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে নেয়। আর হারিয়ে যায় ব্রাজিলের ঘরানা।”

তার মতে, এসব ফুটবলাররা যখন ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আসেন, তখন ব্রাজিলের ঘরানার সঙ্গে ইউরোপের ঘরানার সংঘাত শুরু হয়।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

ব্রাজিলের ফুটবল কেন আকর্ষণ হারাচ্ছে?

ব্রাজিলের ফুটবল কেন আকর্ষণ হারাচ্ছে?

প্যারিসে ২০২৪-এর অলিম্পিকে দেখা যাবে না ব্রাজিলের ফুটবল দলকে। কারণ, অলিম্পিকে যাওয়ার জন্য কোয়ালিফাই করতে পারেনি ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভক্তদের জন্য যেটি মেনে নেওয়া বেশ কষ্টকর।

সম্প্রতি ব্রাজিল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে দরিভাল জুনিয়র। দুই বছরের মধ্যে তিনি ব্রাজিলে পঞ্চম কোচ। তার অধীনে শনিবার (২৩ মার্চ) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে হলুদ জার্সিধারীরা। মঙ্গলবার স্পেনের সঙ্গে দলটি ড্র করেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয়ের আগে টানা চার ম্যাচ জয়হীন, হার টানা তিন। ওই ম্যাচের আগে সবশেষ জয় গত বছর সেপ্টেম্বরে পেরুর বিপক্ষে। এর আগে গত বিশ্বকাপেও ভরাডুবি হয়েছে দলটির।

ফুটবল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রাজিলের ফুটবলের সেই সোনালী দিন এখন আর নেই। ক্রমেই মান কমছে তাদের দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের।

ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার গ্রাফিট ডয়চে ভেলেকে বলেন, “ব্রাজিলের সেই অপূর্ব খেলা, যার জন্য পেলের মতো প্লেয়াররা মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তা এখন আর চেনা যায় না। ফুটবলে ব্রাজিলিয়ান ঘরানা আজ আর নেই।”

গ্রাফিট চাইছেন ব্রাজিলে সেই ফুটবল যাতে আবার ফিরে আসে। তবে, এমন নয় যে গ্রাফিটই প্রথম এই কথা বললেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। তারপর বিখ্যাত ফুটবলার ও কোচ জাগালো বলেছিলেন, “ব্রাজিলের সব ফুটবল প্রতিভা বিদেশে চলে যাচ্ছে। ঘরের মাঠে খেতে আগ্রহী নয়। ফলে ফুটবলে ব্রাজিলের আইডেনটিটি বা পরিচয় আর বজায় থাকছে না।”

প্রায় ২০ বছর হলো ইউরোপে নিয়ম বদলেছে। ফলে বাইরের দেশের ফুটবলারদের সেখানে খেলা অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে খেলোয়াড় সেখানে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ব্রাজিল থেকে কয়েকশ ফুটবলার সেখানে খেলতে যান।

ঐতিহাসিক ডেভিড গোমস এর মতে, এ কারণেই ব্রাজিলের ফুটবল তার পরিচয় হারিয়েছে। গোমস বেশ কয়েক বছর ধরে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের ওপর গবেষণা করছেন।

তিনি বলেন, ”যে প্রতিভাবান ফুটবলাররা নিজের দেশে থেকে তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারতেন, দেশের ফুটবলকে তুলে ধরতে পারতেন, তারা অকালে চলে যাচ্ছেন ইউরোপে। তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ হচ্ছে না। ব্রাজিলের ফুটবলের বিশেষত্ব ছিল অসাধারণ ড্রিবলিং, যা দেখে দর্শকরা আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ত।” সেটি এখন অনেকটাই ম্রিয়মান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৮ সালে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখান। একই ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন আরেক বিস্ময় এন্ড্রিক।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলের ফুটবল লিগ শুধু যে এই তারকা ফুটবলারদের হারাচ্ছে তাই নয়, দেশটির খেলার মানও পড়ে যাচ্ছে। প্রচুর ফুটবলার চলে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই হয়ত তেমনভাবে নজরে আসছেন না। এভাবেই ফুটবল প্রতিভাদের নিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের ক্লাবগুলো।

গ্রাফিট বলেন, “ব্রাজিলের ফুটবলাররা ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে নেয়। আর হারিয়ে যায় ব্রাজিলের ঘরানা।”

তার মতে, এসব ফুটবলাররা যখন ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আসেন, তখন ব্রাজিলের ঘরানার সঙ্গে ইউরোপের ঘরানার সংঘাত শুরু হয়।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।