নির্মাণে ১৩ বছর, এখন কাজেই আসছে না ১১ কোটি টাকার পানি শোধনাগার

ডেস্ক এডিটর এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
নির্মাণে ১৩ বছর, এখন কাজেই আসছে না ১১ কোটি টাকার পানি শোধনাগার
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ১৩ বছর ধরে চলছে একটি পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই গত বছর পানি শোধনাগারটি উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেদিন কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হয়। এরপর আবার তা বন্ধ থাকে। এর এক বছর পরেও শোধনাগারের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি শোধনাগারের গ্রাহক চেয়ে মাইকিং করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পানি শোধনাগারটি বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, আলীকদম উপজেলা পরিষদের পাশে ছাবের মিয়া পাড়ায় স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে ২০১১ সালের ১১ জুন প্রকল্পটির কাজ শুরু করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। দুই দফায় এ প্রকল্পে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০১১ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি জলাধার নির্মাণ করেই এই প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশন থেকে আবারও ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০২২ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের বছরখানেক পর গত বছরের ১২ এপ্রিল পানি শোধনাগারটি উদ্বোধন করেন তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তবে উদ্বোধনের দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহের পর বিকেলেই তা বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, তিন মাস আগে পানি শোধনাগার থেকে সংযোগ লাইন দেওয়ার জন্য গ্রাহক চেয়ে মাইকিং করা হয়েছিল। প্রতি লাইনের জন্য ফি নির্ধারণ হয় ১০,০০০ টাকা। নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে কি-না- এমন সংশয় থেকে শোধানাগার থেকে পানি নিতে আগ্রহ দেখাননি স্থানীয়রা। পানির জন্য আবেদনও করেননি কেউ।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ৫,০০০ টাকা ও তৃতীয় দফায় ২,০০০ টাকা সংযোগ ফি নির্ধারণ করা হলে আবেদন জমা দেন ৫০ জন। তবে এই আবেদনকারীদের এখনও পানি দিতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সাবের মিয়াপাড়ায় পাড়ার বাসিন্দা নুরুল হক জানান, এই এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। বিগত বছরগুলোতে এক কলস পানির জন্য নলকূপের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে। তারপরও পানি সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

উপজেলা সদরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মংহ্লা প্রু তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “পানির কষ্ট আমাদের চিরকালই যেন থেকে যাবে। ১৪ বছরেও পানি সংকট নিরসন হয়নি। সামনে শোধনাগার থেকে নিয়মিত পানি পাব, এর নিশ্চয়তা কী।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলেন, “হাসপাতালে বছরের পর বছর ধরে পানির সংকট চলছে। উদ্বোধন শেষে কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহ দেওয়ার পর পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই হতাশ।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ হালিম বলেন, “পানি শোধনাগারের কাজটি শেষ হয়েছে, পানির সংযোগ নিতে স্থানীয়দের আগ্রহ কম।”

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, “কাজটি প্রায় শেষ হয়েছে। আগে মাইকিং করা হয়েছিল, কিন্তু গ্রাহক না থাকায় পানি দেওয়া হয়নি। পানির লাইনের খরচও কমানো হয়েছে।”

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

নির্মাণে ১৩ বছর, এখন কাজেই আসছে না ১১ কোটি টাকার পানি শোধনাগার

নির্মাণে ১৩ বছর, এখন কাজেই আসছে না ১১ কোটি টাকার পানি শোধনাগার
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ১৩ বছর ধরে চলছে একটি পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই গত বছর পানি শোধনাগারটি উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেদিন কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হয়। এরপর আবার তা বন্ধ থাকে। এর এক বছর পরেও শোধনাগারের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি শোধনাগারের গ্রাহক চেয়ে মাইকিং করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পানি শোধনাগারটি বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, আলীকদম উপজেলা পরিষদের পাশে ছাবের মিয়া পাড়ায় স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে ২০১১ সালের ১১ জুন প্রকল্পটির কাজ শুরু করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। দুই দফায় এ প্রকল্পে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০১১ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি জলাধার নির্মাণ করেই এই প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশন থেকে আবারও ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

২০২২ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের বছরখানেক পর গত বছরের ১২ এপ্রিল পানি শোধনাগারটি উদ্বোধন করেন তখনকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তবে উদ্বোধনের দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহের পর বিকেলেই তা বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, তিন মাস আগে পানি শোধনাগার থেকে সংযোগ লাইন দেওয়ার জন্য গ্রাহক চেয়ে মাইকিং করা হয়েছিল। প্রতি লাইনের জন্য ফি নির্ধারণ হয় ১০,০০০ টাকা। নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে কি-না- এমন সংশয় থেকে শোধানাগার থেকে পানি নিতে আগ্রহ দেখাননি স্থানীয়রা। পানির জন্য আবেদনও করেননি কেউ।

এরপর দ্বিতীয় দফায় ৫,০০০ টাকা ও তৃতীয় দফায় ২,০০০ টাকা সংযোগ ফি নির্ধারণ করা হলে আবেদন জমা দেন ৫০ জন। তবে এই আবেদনকারীদের এখনও পানি দিতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সাবের মিয়াপাড়ায় পাড়ার বাসিন্দা নুরুল হক জানান, এই এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। বিগত বছরগুলোতে এক কলস পানির জন্য নলকূপের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে। তারপরও পানি সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

উপজেলা সদরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মংহ্লা প্রু তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “পানির কষ্ট আমাদের চিরকালই যেন থেকে যাবে। ১৪ বছরেও পানি সংকট নিরসন হয়নি। সামনে শোধনাগার থেকে নিয়মিত পানি পাব, এর নিশ্চয়তা কী।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলেন, “হাসপাতালে বছরের পর বছর ধরে পানির সংকট চলছে। উদ্বোধন শেষে কয়েক ঘণ্টা পানি সরবরাহ দেওয়ার পর পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই হতাশ।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ হালিম বলেন, “পানি শোধনাগারের কাজটি শেষ হয়েছে, পানির সংযোগ নিতে স্থানীয়দের আগ্রহ কম।”

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, “কাজটি প্রায় শেষ হয়েছে। আগে মাইকিং করা হয়েছিল, কিন্তু গ্রাহক না থাকায় পানি দেওয়া হয়নি। পানির লাইনের খরচও কমানো হয়েছে।”

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।