এন্ড্রিকের গোলে ১৫ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল ব্রাজিল

ডেস্ক এডিটর এজেড নিউজ বিডি, ঢাকা
এন্ড্রিকের গোলে ১৫ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলিয়ানদের চেয়ে ২ ধাপ এগিয়ে ইংল্যান্ড । সর্বশেষ ১০ ম্যাচে দলটি ছিল অপরাজিত। খেলাটাও তাদের ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে। যেখানে গত বিশ বছর ধরে হারেনি ইংলিশরা।

অন্যদিকে, সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ব্রাজিলের। টানা চার ম্যাচ জয়হীন, হার টানা তিন। সবশেষ জয় গত বছর সেপ্টেম্বরে পেরুর বিপক্ষে। আবার ২০০৯ সালের পর থেকে ব্রাজিল কখনো ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। সবমিলিয়ে তাই প্রীতি ম্যাচের শুরুতে ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ডই। তবে শেষটা হয়েছে ব্রাজিলের জয়ে।

শনিবার (২২ মার্চ) রাতের ম্যাচে দুই দলেই ছিল চোটের সমস্যা। ব্রাজিলে ছিল না দুই মূল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এবং এডারসন মোয়ারেস। ছিল না দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। ছিল না গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস কিংবা মার্কিনিওসের মতো তারকা। কোচ হিসেবে দরিভালের প্রথম ম্যাচেই তাই অভিষেকই ঘটলো সাতজনের।

চোটের কারণে খেলেননি ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক হ্যারি কেইন, ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা পায়নি। দলকে নেতৃত্ব দিতে নামা কাইল ওয়াকারও ম্যাচের ২০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

খেলায় প্রথম সুযোগ পায় ব্রাজিল। ১০ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া রদ্রিগোর শট রুখে দেন ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল নিয়ে পিকফোর্ডকে বিভ্রান্তিতে ফেললেও গোললাইনে পৌঁছানোর আগে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন কাইল ওয়াকার।

পরের মিনিটেই লুকাস পাকুয়েতার দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়েও ফিনিশিং করতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। তার দুর্বল শট ব্যর্থ হয় জালে জড়াতে। ১৮ মিনিটে আবারও রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড সুযোগ নষ্ট করেন। বক্সের মধ্যে থেকে তার নেওয়া শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়।

২৪ মিনিটে বেন চিলওয়েলের কর্নার থেকে ম্যাগুইরে লক্ষ্যে হেড করেছিলেন। কিন্তু তার শট ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। চার মিনিট পর অ্যান্থনি গর্ডনেরও একটি বাঁকানো শট রুখে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফ্র্যাব্রিসিও ব্রুনো।

৩৫ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে দারুণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। পিকফোর্ডকে ভুল দিকে পাঠালেও পাকুয়েতার ওই শট গোলপোস্টে আঘাত করে। তার আগের মিনিটেই জন স্টোন্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পাকুয়েতা। ৪২ ম্যাগুইরের হাস্যকর ভুলে গোল খেতে বসেছিল ইংল্যান্ড। বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে দখল হারান। রাফিনহা লক্ষ্যে শট নেন, কিন্তু বল গোলপোস্ট ঘেষে মাঠের বাইরে যায়।

বিরতির পর ইংল্যান্ড প্রথম সুযোগ পায়। অ্যান্থনি গর্ডন ছয় গজ বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে লক্ষ্যে শট নেন। ব্রাজিলিয়ান কিপার বেন্তো তার বাঁ পায়ের শট ঠেকিয়ে দেন। ম্যাচে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে ইংল্যান্ড ও ব্রাজিল। ৭১ মিনিটে পাকুয়েতা ও রদ্রিগোর বদলি হয়ে মাঠে নামেন আন্দ্রেস পেরেইরা ও এন্ড্রিক। এর ৯ মিনিট পর গোলমুখ খোলে ব্রাজিল। ৮০ মিনিটে পেরেইরার পাস ধরে বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন ভিনিসিয়ুস। তার শট পিকফোর্ড ফিরিয়ে দিলেও জায়গামতো ছিলেন এন্ডরিক। বাঁ পা দিয়ে খালি জালে বল ঠেলে দেন ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক। আর এই গোলেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ বছর পর জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।

ব্রাজিলের জার্সিতে তিন ম্যাচ খেলে প্রথম গোলে এদিন রেকর্ড গড়েছেন এন্ড্রিক। ১৭ বছর ৮ মাস ২ দিন বয়সী এন্ড্রিকই এখন একবিংশ শতাব্দীতে ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা, সব মিলিয়ে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ। তার ওপরে আছেন পেলে, এদু এবং রোনালদো। তবে একটা জায়গায় এন্ড্রিক সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ওয়েম্বলিতে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড় এখন তিনিই।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এন্ড্রিকের গোলে ১৫ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল ব্রাজিল

এন্ড্রিকের গোলে ১৫ বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলিয়ানদের চেয়ে ২ ধাপ এগিয়ে ইংল্যান্ড । সর্বশেষ ১০ ম্যাচে দলটি ছিল অপরাজিত। খেলাটাও তাদের ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে। যেখানে গত বিশ বছর ধরে হারেনি ইংলিশরা।

অন্যদিকে, সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ব্রাজিলের। টানা চার ম্যাচ জয়হীন, হার টানা তিন। সবশেষ জয় গত বছর সেপ্টেম্বরে পেরুর বিপক্ষে। আবার ২০০৯ সালের পর থেকে ব্রাজিল কখনো ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। সবমিলিয়ে তাই প্রীতি ম্যাচের শুরুতে ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ডই। তবে শেষটা হয়েছে ব্রাজিলের জয়ে।

শনিবার (২২ মার্চ) রাতের ম্যাচে দুই দলেই ছিল চোটের সমস্যা। ব্রাজিলে ছিল না দুই মূল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এবং এডারসন মোয়ারেস। ছিল না দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। ছিল না গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস কিংবা মার্কিনিওসের মতো তারকা। কোচ হিসেবে দরিভালের প্রথম ম্যাচেই তাই অভিষেকই ঘটলো সাতজনের।

চোটের কারণে খেলেননি ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক হ্যারি কেইন, ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা পায়নি। দলকে নেতৃত্ব দিতে নামা কাইল ওয়াকারও ম্যাচের ২০ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

খেলায় প্রথম সুযোগ পায় ব্রাজিল। ১০ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া রদ্রিগোর শট রুখে দেন ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল নিয়ে পিকফোর্ডকে বিভ্রান্তিতে ফেললেও গোললাইনে পৌঁছানোর আগে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন কাইল ওয়াকার।

পরের মিনিটেই লুকাস পাকুয়েতার দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়েও ফিনিশিং করতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। তার দুর্বল শট ব্যর্থ হয় জালে জড়াতে। ১৮ মিনিটে আবারও রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড সুযোগ নষ্ট করেন। বক্সের মধ্যে থেকে তার নেওয়া শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়।

২৪ মিনিটে বেন চিলওয়েলের কর্নার থেকে ম্যাগুইরে লক্ষ্যে হেড করেছিলেন। কিন্তু তার শট ব্রাজিলের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। চার মিনিট পর অ্যান্থনি গর্ডনেরও একটি বাঁকানো শট রুখে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফ্র্যাব্রিসিও ব্রুনো।

৩৫ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে দারুণ সুযোগ পায় ব্রাজিল। পিকফোর্ডকে ভুল দিকে পাঠালেও পাকুয়েতার ওই শট গোলপোস্টে আঘাত করে। তার আগের মিনিটেই জন স্টোন্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পাকুয়েতা। ৪২ ম্যাগুইরের হাস্যকর ভুলে গোল খেতে বসেছিল ইংল্যান্ড। বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে দখল হারান। রাফিনহা লক্ষ্যে শট নেন, কিন্তু বল গোলপোস্ট ঘেষে মাঠের বাইরে যায়।

বিরতির পর ইংল্যান্ড প্রথম সুযোগ পায়। অ্যান্থনি গর্ডন ছয় গজ বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে লক্ষ্যে শট নেন। ব্রাজিলিয়ান কিপার বেন্তো তার বাঁ পায়ের শট ঠেকিয়ে দেন। ম্যাচে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে ইংল্যান্ড ও ব্রাজিল। ৭১ মিনিটে পাকুয়েতা ও রদ্রিগোর বদলি হয়ে মাঠে নামেন আন্দ্রেস পেরেইরা ও এন্ড্রিক। এর ৯ মিনিট পর গোলমুখ খোলে ব্রাজিল। ৮০ মিনিটে পেরেইরার পাস ধরে বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন ভিনিসিয়ুস। তার শট পিকফোর্ড ফিরিয়ে দিলেও জায়গামতো ছিলেন এন্ডরিক। বাঁ পা দিয়ে খালি জালে বল ঠেলে দেন ১৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক। আর এই গোলেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ বছর পর জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।

ব্রাজিলের জার্সিতে তিন ম্যাচ খেলে প্রথম গোলে এদিন রেকর্ড গড়েছেন এন্ড্রিক। ১৭ বছর ৮ মাস ২ দিন বয়সী এন্ড্রিকই এখন একবিংশ শতাব্দীতে ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা, সব মিলিয়ে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ। তার ওপরে আছেন পেলে, এদু এবং রোনালদো। তবে একটা জায়গায় এন্ড্রিক সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ওয়েম্বলিতে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড় এখন তিনিই।

এজেড নিউজ বিডি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Download
ঠিকানা: মনসুরাবাদ হাউজিং, ঢাকা-১২০৭ এজেড মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।